ডাব
তুই হয়তো বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছিস। চুপিচুপি একটু গা ঘেষে দাঁড়াই। যাতে তুই একটু ঠেস দিতে পারিস। তোর ফাইল ব্যাগ একটু ধরি। তুই বলবি -- আ : হাত দুটো একটু ছড়াই, বলে সত্যিই ছড়িয়ে দিবি দু-হাত। পাশের লোকটা চমকে মুখ সরাবে। আমি বকব-- কি হচ্ছেটা কি। আশপাশ দেখে কাজ করতে হয় তো। তোর অভিমান হবে। সবার সামনে বকেছি বলে। পার্থর দের বছরের মেয়ের মতো হাত গুটিয়ে ঠোট ফুলিয়ে দাড়াবি। চোখের কাছটা জ্বালা করবে। পাশের লোকটা অন্য দিকে মুখ ঘোরাতেই তোর গালে গাল ঠেকাব। পুকুরের জল উপছে যাবার মত চোখ উপছে যাবে। তোকে টেনে নিয়ে যাব পাশের ডাব ওলার কাছে। শাঁস থাকা ডাব নেব। জলটা খাবার পর শাঁসটা খাইয়ে দেব ডাবের ছোলা-কাটা দিয়ে। চোখ মুছতে মুছতে খেয়ে নিবি।বুকের কাছটা খামচে বলবি-- তুই ছিলি বলেই না হাত দুটো ছড়ালাম। রোজ কি সুযোগ থাকে? সবার সামনে বকলে কথা বলব না আর। আমি হাসব। তাই দেখে বলবি-- সত্যিই কথা বলব না। কোনোদিন না। দেখিস। আমি একটু জড়িয়ে কানে কানে কথা বলার ভাব করে গালে একটা --চকাস ! তুই ঘুরে দাঁড়াবি। তারপর হাত দুটো ছড়িয়ে বলবি -- ব্যাগ নিয়েছিস, ফাইল নিয়েছিস এবারে আমাকে নে...
কলকাতায় বৃষ্টি আসবে...
বৃষ্টির বন্ধুরাও...
গোমুখ
একটা নদীর ভালোবাসা পেয়েছি বলে, সমস্ত উপেক্ষাদের পরিয়ে দিই কবুতরের ডানা। সে দুটো আধখোলা সকড়ি হাত বাড়িতে দেয় আমার দিকে, ডাকে -- "আয়"। আমি অনায়াসে পেরিয়ে আসি সব হিংসা রক্তপাত গুপ্তহত্যার সেসব যুগ। মেয়েটির দিকে বাড়িয়ে দিই বস্ত্র। একটা ধর্ষণ অন্তত রুখে দিই। নগরের রাস্তায় পড়ে থাকে আমার লাশ। মানুষ না দেখার ভান করে পেরিয়ে যায়। তোর চোখ থেকে বৃষ্টি এসে ধুইয়ে দেয় রক্ত। মেঘের ওপর হেঁটে বেড়াতে বেড়াতে স্বগতোক্তি করি - ভাগ্যিস নদী চিনেছিলাম। দেখতে পাই সে পায়ে ঠেলছে একটা উলম্ব মেঘ। ধর্মের লিঙ্গের ওপর, ত্রিশূলের ওপর, আজানের ওপর নেমে নেমে যাচ্ছে নদী। একসাথে ডুবে যায় সমস্ত ধর্মস্থান, কবর ও শ্মশান। সমস্ত ভেসে যাবার আগেই অবুঝের মতো, সন্তানের মতো হাত তুলি আর বৃষ্টি থেমে যায়। একটা ফুটফুটে মেয়ে কাঁদতে থাকে আর অভিযোগ করতে থাকে -- কেন তোকে লিখতে হবে স্বামীর সিগারেটের ছ্যাঁকা, এসিডে পোড়া দৃষ্টিহীন মুখ, গুলিবিদ্ধ যোনি? কেন তোর শব্দের থেকে বল্গাহীন নারীরক্ত ফিনকী দেবে? কেন দেবতার চক্র আমার শরীর ছিন্নভিন্ন করে সতীপীঠ বানাবে আর সমস্ত ধর্ম চক্রান্ত হয়ে জ্বালাবে জীবন্ত পোড়ানোর সভ্যতা? আমি নিরুত্তর। শব্দহীনতায় বসে থাকতে থাকতে ফিরে যাই স্থান কাল সৃষ্টির আগে। দুই ভ্রুর মাঝে আচমকা খুলে যায় একটা দুয়োর। গোমুখ।
রেনট্রি
সবুজের রঙ বিরহ। অন্তত গাছেরা তাই মনে করে। ওরা রান্না করে অনাগত অতিথির কথা ভেবে। ডাল মেলে রাখে। পাখি এসে বসলেই ওরা খুশিতে আলো হয়ে যায়। খুব যত্ন করে খাওয়ায়। বাতাস করে সব থেকে ঝাঁপালো ডালটি দিয়ে। একদিন পাখি উড়ে যায়। আটকায় না। হাসি মুখে হাত নাড়ে। এরপরই তো বর্ষাকাল শুরু হয়। ছোট্ট ছোট্ট পাতা আসে। কবিতার বারের ব্রত শেষ হয়। গাছ একটি সুত্রের মতো। যা দিয়ে অনেক শক্ত অংক কষে ফেলা যায়। গাছেরা প্রধানত মেয়ে। সোহাগ জমে স্তন হয়। স্তন মূলত খরা পার করার নৌকা। গলুই এর জলে বসন্ত রাখা থাকে। বিশু পাগলের চলে যাওয়ার নেশা। সে মাঝে মাঝেই এর ওর রান্নাঘরে পাত পেড়ে বসে। আর্তের মতো খায়। তার খাওয়া দেখতে দেখতেই নন্দিনী যুবতী হয়ে ওঠে। একটা মোরগ ডেকে উঠে ঘোষণা করে শুভঙ্কর আসছে। সে নন্দিনীকে খুঁজতে আসে। পাগলের আর কি! সে থাকা বা না থাকা দুটোই একই পাহাড়ের যমজ চুঁড়ো।
Gomukh ar renTri valo legeche.rentri kobita tay vabna binuni paliye uTheche.
উত্তরমুছুনখুব খুশি হলাম
মুছুনগোমুখ খুব ভালো লাগল । রেন ট্রি ও ।
উত্তরমুছুনহঠাৎ আসা একটা লেখা "ডাব". বন্ধুদের ভালো লেগেছিল। আপনার ভালো লাগায় খুশি হলাম
মুছুনখুব ভালো লাগল সুকান্ত। ভাষা আর বিন্যাস চমতকৃত করল।
উত্তরমুছুনএখনও নিজের লেখা বলতে পারিনা। হঠাৎই চলে আসে কিছু। ভালো লাগলো জেনে খুব খুশি হলাম
মুছুনসকলকে ধন্যবাদ
উত্তরমুছুনতোকে আর কি ধন্যবাদ দিই
মুছুনdarun!
উত্তরমুছুন