সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

জগন্নাথ মণ্ডল

ট্রেন সফর

রেললাইনে বিকেল ভাবছে ডানা গুটিয়ে বসবে কীনা?চোখের সামনে দৃশ্যের জন্ম হচ্ছে শুধু।
আঙুলে পোড়াচ্ছি সময়।
ভিড় সামলে ক্লান্তি এসে হাত রাখল চোখে

ক্রিসমাস

ডিসেম্বরী শীতের হিম সন্ধ্যে।
আলগা শহরে জুবুথুবু হিমেল আমেজ।
কেক দোকানে লম্বা লাইন।
কেক বিক্রি হচ্ছে নানা দামে নানান বাহারে।
ঘৃনার ময়দায়,স্বার্থপরতার চেরি,পাপের কিসমিস আর রক্তের ফয়েলে কেক।
খুব চাহিদা তৈরির সাথেই শেষ।
এসব দেখে কাঁটার মকুট পরা একজন মৃদু হাসছেন,হেসেই চলেছেন।

দুঃসময়

তোমার গেঞ্জিতে চে'র ছবি।চে কে ছিলেন জান না।
বাচ্ছারা বুঝতে পারছে বাচ্ছাবেলাতেই রূপকথার
গল্প সত্যি নয়।
সত্যিকারের মুখোশে ঢেকে যাচ্ছে সারি সারি মুখ।দুঃসময়ের তাত গায়ে লাগছে।

সান্টাবুড়ো

হলুদ বুটের মতো ট্যাক্সিতে হুসহাস মানুষ।
অটোর ধাক্কায় ছিটকে ওঠে সর্তকতা।
বেকার ছেলে কান্না চেপে রাস্তা পেরোয়।
যন্ত্রনারমানে জান না?কাঠবেকারের হাত খরচের মানিব্যাগ দ্যাখো।ওগো সান্টা বুড়ো তোমাকে ফোনে পাচ্ছি না,বিজি বলছে বারবার।
সময় পেলে এসো একদিন।

এই অঘ্রানে

অঘ্রানে ধান কেটে নেওয়া মাঠ যেন ভিখিরির শূন্য থালা।
নেশা ধরানো দুপুর রোদে আমি শুয়ে আছি একা আলপথে।
শরীর বেয়ে ঘুম উঠছে সরীসৃপের মতন।
মাথার উপর উড়ে গেল হাড়গিলে পাখি।
আমার খড়িওঠা দেহকে উর্বর জমি ভেবে মাটি খুঁড়ছে মেঠো ইঁদুর।লুকিয়ে রাখছে মুঠো মুঠো ধান।
লম্বাচওড়া একটা বুড়ো আলকেউটে আসার শরীরে ছেড়ে হেল শেষ খোলস।
এরপর চরাচরে বিকেল নামল বিষন্নতার মতো।আমি ধীরে ধীরে মাটি হয়ে যাচ্ছি।

অসুখ

একমুঠো স্লিপিং পিলের পরেও এপাশ ওপাশ।
অ্যাশ ট্রে উপচে উঠছে পোড়া ছাইয়ে।রাত বাড়ে মাথার ভিতর।
ট্রেন ষ্টেশন পেরোয়।
চালতা পাতায় শিশির ঝরে টুপটুপ।
ভাবছি আত্মহত্যা করব কীনা?
কিন্তু কাল তো আমার বইমেলায় যাওয়ার ছিল...

লাশ ছুঁয়ে বসে আছি

তুলো তুলো রাত শহরময়।নেড়ি কুকুরের ঘুম।
গঙ্গার ছলাৎ জলে ভেসে যায় গুঁড়ো চাঁদ।
চিতকাঠ পোড়ার অদ্ভূত শব্দ।নিজের নাভি পোড়া গন্ধে বমি পাচ্ছে আমার।
তোমার আমাকে এই হু হু বাতাসে রেখো যেয়ো না নিঃসঙ্গ।
চাল কলায় আমার তীব্র অরুচি।

সমকামী

হাতে হাত রাখলাম,লোকেরা চোখ রাঙালো।
আঙুল ছুঁলাম,ইট মারল।
একটু নিভৃতি খুঁজতে গেলাম তুই আমি,ল্যাংটো করে রাস্তায় দাঁড় করালো।তুই অ্যাসিড খেলি।
আমি তোর নিভে আসা চিতার সামনে "বনমালী তুমি "গাইতে গাইতে চৈতন্য হারালাম।
এবার ভাবছি তোর মতো অ্যাসিড ঢালাব গলায় নাকী কাটব শিরা?

রবীন্দ্রনাথ

শহর জীবনে চোখ সবুজ দেখতে ভুলেছে।
হাসি না বহুদিন।
রাত হলেই গাঁজা আর সিগারেট ধোঁয়া বাড়ছিল।
দুবার সুইসাইডের মুখ থেকে আমাকে ফিরিয়ে এনেছেন রবীন্দ্রনাথ।
জগতের আনন্দে আমাকে ডাক পাঠালেন।
আমি জীবনের স্বাদ নিতে শিখলাম নলেন গুড়ের মতো।
আমারে তুমি অশেষ করেছ।

মনখারাপ

দুপুর নাগাদ মনখারাপের সাথে দেখা হলো।
সে আমার সাইকেলে চড়ে বসলো।
আমরা একসাথে স্নান করে অনেকক্ষন ঘুমুলাম।
সারাদিন এক দানাও দাঁতে কাটলাম না।
বিকেলে মনখারাপ চলে গেল আবার আমাকে একা করে।
আমার কান্না শুরু হলো।

মন্তব্যসমূহ

  1. তুই তো নাগরিকত্ব গুলে খেয়ে নিয়েছিস.. দারুন দারুন, তা এই অধম কি তোর Blog-এ লিখতে পারে, যদি তুই অনুমতি দিস।

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কবিতা বিষয়ক গদ্য : অনিন্দ্য রায়

ন্যূনতম কবিতা lighght শুধুমাত্র এই সাতটি অক্ষর লেখার জন্য কবিকে দেওয়া হল ৭৫০ ডলার। আজ নয়, গত শতকের ষাটের দশকের মাঝামাঝি। পৃথিবীর সব চে দামী শব্দ। আর বিতর্ক এখানেই। শব্দ? কী অর্থ এর? আবার যিনি লিখেলেন তিনি তো একেই বলছেন কবিতা, এই কটি অক্ষরসমষ্টিকে। তা প্রকাশিতও হচ্ছে, সংকলনে নির্বাচিত হচ্ছে। একটা সাদাপৃষ্ঠার মাঝখানে lighght এইটুকু ছাপা, এইটুকুই, একে বলে কবিতা ? ম্যানহাটন শহরে তখন শরৎকাল।  সালটা ১৯৬৫। সে এক সন্ধ্যা। বছর  বাইশের এক যুবক নিজের টাইপ রাইটারে  lighght এইটুকুই টাইপ করেন। কী এটা? বানান ভুল, হ্যাঁ,  light  শব্দটির মাঝে এই দুটি ব্যঞ্জনবর্ণকে ঢুকিয়ে দেওয়া, আর তাতেই নাকি  ব্যঞ্জনা । শিকাগো রিভিউ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় কবিতা হিসেবে। এবং তা স্থান পায় The American Literary Anthology-র দ্বিতীয় খণ্ডে, অবশ্যই কবিতা হিসেবে। এই সংকলন সম্পাদনা করেন National Endowment of the Arts(NEA) –এর পক্ষে George Plimpton। NBA-এর সিদ্ধান্ত মতো সংকলনটির প্রত্যেক কবিই পান ৭৫০ ডলার। সেই হিসেবে lighght-এর রচিয়তাও।  শিকাগো রিভিউ নিজে২৫০ ডলার রেখে দেয় আর বকিটা পেলেন কবি। ম...

পাগল পাঠক (কবিতার পাগলামি)

কবিতার তুমুল পাগলামি কাকে বলে সেটা অনেকেই জানেন। তবুও কবিতার সীমাহীন পাগলামির জন্য কবিতার সমস্ত পাগলরা ফেসবুক বা মুখবই এ সার্চ করুন "পাগল পাঠক" পেজটি। এই পেজটি পাগল কবিতা পাঠকের নিজস্ব দুনিয়া। বন্ধুরা যারা পেজটি লাইক করছেন তারা নিজের প্রিয় কবিদের কবিতা পোস্ট করুন। অনুরোধ নিজের কবিতা পোস্ট করবেন না। বিস্তারিত জানতে ফেসবুকে পেজে আমাদের পেজে যান।

গদ্য কবিতা : সুকান্ত দে

ডাব তুই হয়তো বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছিস। চুপিচুপি একটু গা ঘেষে দাঁড়াই। যাতে তুই একটু ঠেস দিতে পারিস। তোর ফাইল ব্যাগ একটু ধরি। তুই বলবি -- আ : হাত দুটো একটু ছড়াই, বলে সত্যিই ছড়িয়ে ...