পাখিদের মিসিং লিঙ্ক
১
পলিমাটির সংসারে চালচুলোহীন পরিবেশ থেকে
ঘুমের শেষে ফিরিয়ে আনি
মৃত্যুর সাথে ডাংগুলি খেলা পাখিগুলোকে
পৌষ-কার্ত্তিক সংসারে যে শিশু জন্মানোর অনুমতি পায়না
বিপ্লবী কন্ঠে সেইসব গাছের একপৃথিবী ঝড়ের প্রয়োজন
যেখানে কচিপাতারা বেড়ে উঠবে
উৎসব করে
পাখিদের মুখে মুখে গুঁজে দিই লজ্জায় রাঙানো
অবিকল কিছু মাথায় ঝুটুন বাঁধা বীজ
যেখানে পাখিদের মুখ থেকে
বেড়ে উঠবে গাছ ও পাখিদের অস্তিত্বের চাবিকাঠি
২
চাঁদের অর্ধনগ্নতা দেখবো বলে
রোজ কেটে ফেলতে ছুটি
সবুজ ঘাস থেকে তেপান্তরের পরিচিত গাছটাকে
শরীরজুড়ে এভাবেই রোজ
নিজেই নর্দমা নিয়ে নিজের দিকেই ছুঁড়ি
পাখিদের প্রতিচ্ছবিও জানে আমার উঠানের পরিচয়
তাই নিজে থেকে দূরে গিয়ে
রাত্রির স্রোতহীন পাটাতন ভেঙে যাওয়া নৌকায় গিয়ে বসি
আধো-আধো আমার অচেনা ভাষায় মা-মা ডাক
মিশে থাকে আমার ত্রিমাত্রিক অবস্থানে
নিভৃতে নিকুঞ্জে তরুণীটি
আলিঙ্গনে দীর্ঘ বৃষ্টি থামায় পালকের ভাঁজে ভাঁজে
৩
কতদিন সেলফির মুখোমুখি যেতে পারিনি
সেই হিসেবে মাথা রাখলেই
জেব্রা ক্রসিং পার হতে থাকা পাখিগুলো
আমার এলাকাটাকে পরিচিত করে নেয়
আমি পাখি পুষবো বলে যে গাছ পুঁতেছি
পাখিদের সেই গাছের ঠিকানা দিয়ে
আপাতত নিঃশব্দে
আনন্দের গান ধরতে থাকি
পাখি ও গাছটার মধ্যে যে সেতু গড়ে দিয়েছি
সেই সেতুতে আমিই এখন শিমুল গাছ হয়ে যাই বলে
বারবার জীবাশ্ম ঘরে এলার্ম দিতে বসি
ঠোঁট আর আঙুলের মাঝে আটকে রাখি
পাখিদের নিয়ে এসব আদুরে মোড়া কথা
তার চেয়ে বারবার এটা দেখতে ভালো লাগে
সন্ধ্যার বকুনির ভয়ে লজ্জারাঙা গালে হেঁটে চলে বিকেলের সূর্য
৪
গাছের সাথে গাছের কথা শুরু হলে
নিস্তব্ধ হয়ে যায় অনুভূতিপূর্ণ ডানাদের দল
আগন্তুক কোনো পাখি হটাৎ করে
গাছ ছুঁয়ে দিলেই
মিঠে লজ্জার কথারা ভুলে যাবে পথ
তাই নিয়ম করে একদল অন্ধকারী পালক
রোজ পাড়াটার খবর নিতে বেরোয়
গাছেদের প্রেমে যখন এমনই কিছু প্রত্যাশার জন্ম হয়
পাখিদের পরিবার জুড়ে
অনিয়ম চলে খাবারের থালায়
এভাবে রোজ হয়তো
গাছেদের বিবাহ দেখার অপেক্ষায় থাকে একদল পরিযায়ী পরিবার
৫
যদি কোনো রমণী পাখি হতে চায়
তার ইচ্ছায় জল ঢেলো না
কারণ প্রতিটা রাত্রির মৃত্যুতে নেমে আসে ভোর
আর সেই রাত্রি রেখে যায়
প্রত্যেক ইচ্ছের একটা করে গতিমুখ
শহুরে উন্মাদনা সঠিক ভাবে পূর্ণতা পাওয়ার আগেই
কিছু পাখি
উড়ে যায় কোনো এক বীজ বপনকারী কৃষকের ঘরে
আর তুলে আনে কালকের আমিকে
যে কুকুরছানা সন্ধ্যায় রোজ
পাখিগুলোর ফিরে আসা দেখে
তারও ঘুম ভাঙে অসভ্যতায় কিংবা স্বাভাবিক দেরিতে
একমাত্র সকাল ডেকে আনা মোরগই জানে
আমি পাখি , আর এক পাখি কখন উড়ে যায়
৬
দুটো পাখির সম্পর্ক জানতে চাইলে
আমি একা একা বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াই
গাছের যে ডালটা
আমার ফাঁকা বারান্দায় রোজ পাহারা দেয়
সেটার কাছাকাছি চলে যাই
নিভৃতে সঙ্গ বিনিময় করতে থাকে পাখিদের পরিবার
বর্ষা এলেই নেমে আসবে যাবতীয় উৎকণ্ঠা
তাই গ্রীষ্মের দিকে তাকিয়ে থাকে
খুঁজে আনে বাড়ি সাজানোর বিপুল তরবারি
শৈশব খুঁজে রাজপথ
পরিনতিবোধ বোঝে বিলাসিতার ফল
তবুও একদল পরিণত কণ্ঠস্বর
রোজ নিয়ম করে শিশুর মুখের হাসি খুঁজতে বেরোয়
৭
একটা বাবুই
রোজ আমার ছাদে দাঁড়িয়ে
চারিদিকের পরিবেশটাকে ঘুরে ঘুরে দেখে নেয়
মায়া নাকি অন্যকিছু
এই প্রশ্ন নিয়ে হাজারো মুখ থেকে
খুঁজে আনতে বেরোয় আমার পাড়ার পাখিদের সুখ
পাখিটা যেন অজান্তেই বলে
প্রিয়, আমায় একটু রঙিন জীবন দিতে পারো
শেষ রাতের দিকে দেখি
মাখো মাখো প্রেম নিয়ে কিছু অজানা মুখ
ছাদে পাখিদের ঘুম কেড়ে নেয়
নিজেকে কোনোদিন খাঁচাবন্দি করতে পারিনি
তাই বারবার পাখিদের নিঃশ্বাস গভীর হলেই
আমার হার্টবিট বেড়ে যায়
পাখিদের মুখ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া একটা খড়কুটোও
আমার দৈনন্দিন খিদেয় নিজেকে সাজিয়ে রাখে না
তবুও আমি রোজ রোজ মানুষ সাজতে বসি
ভূমিষ্ট শিশু হয়ে পাখিদের পুনর্জন্মহীন ব্যথা অনুভব করতে
৮
পাখিদের কুঁড়েঘর থেকে
নিয়মিত মধ্যবৃত্তের ঝগড়া ভেসে আসে
খেয়ে না খেয়ে না বলে যে চিৎকার রোজ ভেসে আসে
বাড়ির মা কিংবা
ঠাকুমার কণ্ঠে
সেই চিৎকারে নিজেদের পরিবেশের পরিচিতি করে নেয়
রেলিংয়ের ওদিকে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু অনিয়মিত প্রিয় কিচিরমিচির
কথা দিয়ে কথা রাখা যায়
খাঁচায় আটকে পড়া পাখির গুরুত্ব জানে জোৎস্না রাতের ইচ্ছেরা
শীতের সর্ষে হাসছে
সকালের সাথে চুমুতে ব্যস্ত গাছেদের আঙিনা
কুয়াশাকে সুতো করে যে রমণী সোয়েটার বুনতে ব্যস্ত
তার দিকে চেয়ে চেয়ে দিনরাত্রির সাক্ষাৎকার নিচ্ছে এই কিচিরমিচির শ্রমিকের দল
৯
কোনো শিশু হাসাকালীন দুটো ঠোঁটের মধ্যেকার দূরত্ব
মনে হয় পাখিরাও বুঝে নেয়
তাই রোজ রোজ বিশ্বাসের দুপুর গড়ে ওঠে
আঁধার লুটোপুটি খেলে নিজের সাহসে
বারান্দায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় থাকে একঝাঁক পাখিদের শুভাকাঙ্খী
পাখিদের মুখ থেকে
সূর্য ঘুম কেড়ে নিলে
গাছের পাতা থেকে শিশিরের নিজের ঠিকানায়
ফিরে যাওয়ার সময় এসে যায়
বৃষ্টির কারণে নতুন মুখ খুঁজে পাওয়া পাখিদের গোঙানি
মেঘেদের ডাকে
বাহির থেকে ফিরিয়ে দেয়
কিছু উপকারে আসা নতুন দিনের উজ্জ্বলতাকে
শিশিরের ফিরে যাওয়া থেকে বৃষ্টি পর্যন্ত
নতুন করে শস্যের উৎপাদনে
লেগে থাকে ডানাদের আসা যাওয়ার নিমিত্ত সময়রেখা
১০
বহুমুখী রাস্তার কোলাহল বেড়ে গেলে
চঞ্চল পাখিদের গতি কমে আসে
রোদের ছায়া হাতুড়ি মারে
পালকের খাবার খোঁজার তীক্ষ্ণ দৃষ্টির ওপর
মাঝরাতে এখানেই অন্ধকার চিবিয়ে খাওয়া শক্তি
রোজ রোজ সকাল দেখার অপেক্ষায় থাকে
যদিও সেই অপেক্ষার অবসান ঘটলেই
রাস্তার পরিচিতিতে নিভে আসে এদের ইচ্ছের কন্ঠস্বর
দিনযাপনের যাবতীয় ভাগ করা সময়
মিথ্যে হয়ে যাওয়ার আগে
আরো একবার ঘরমুখো হয়ে যাবে পাখি
কিছু বাহিরমুখো অক্সিজেনের ঢেউ পাখিদের মতো
সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে
প্রাণ পেতে ব্যস্ত থাকবে রোজ
সূর্যের সাথে রোজ এভাবে লুকোচুরির খেলা খেলে
অনুভব আসে
আসলে সূর্য এতোদিন নিরুত্তাপই ছিলো
১১
হাওয়াকে পথের সঙ্গী করা যায়, রাত্রি বালিশ করা যায়না
তাই দিনদিন পাখির সাজানো সংসার
নীল আকাশকে প্রতিবেশী করে নেয়
রোজ রোজ স্থলভূমি আলো ছুঁড়ে দিয়ে
যে রনকৌশল সাজিয়ে তোলে
সেই রণকৌশলে পালক উড়িয়ে বিচিত্র রাত্রি বিছানা
সাজিয়ে বসে পাখি দম্পতি
পাখি ও ভূমির যুদ্ধের কোনো সুগন্ধি আভাস থাকেনা
তবুও মাটির প্রতিদিনকার জলখিদের কথা ভেবে
চাষীদের ঘরে বীজ খুঁজে বেড়ায়
দুটো নিয়মিত পালক
এইভাবে রোজ সকাল সকাল ধূলি আর পালকেরা মুখোমুখি হয়
দিনের বয়স বাড়ে
নির্মাণ হয় আরো দৈনন্দিন এক সভ্যতা
শিশুর রাজপথ খোঁজার তাগিদে আবারও আত্মশ্লাঘা হয় কিচিরমিচির শব্দ
১২
আমাকে সাবালক হতে দাও
ময়ূরের কণ্ঠে আমি বিষ মিশিয়ে দেবো
এমনই ভাষা নিয়ে হয়তো কোনো কবি
লিখে চলবে পাখিদের দুয়ার ভাঙা ঝড়ের কাহিনী
নষ্ট ডিম
বিমর্ষতা পেয়ে পড়ে থাকবেনা নদীর পাড়ে
নদী মোহনায় মুগ্ধ পাখিদের পরিবার
চিবুকে জল ছুঁড়ে মারার আদুরে খেলায় ব্যস্ত থাকবে রোজ
রোজ সকাল সকাল এই রঙিন খেলা দেখার তাগিদ নিয়ে
পলাশের বন বৃষ্টির ফোঁটাকে
সঙ্গ বিনিময়ের অনুরোধ জানাবে
আগামী বৃষ্টিতে ভেসে যাবে আদিখ্যেতা
পাতাদের সংসার আত্মগোধূলি হয়ে লুকিয়ে রাখবে পাখি বিছানা
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন