১
হেডলাইন
স্নানঘরের শার্শি থেকে যে পাখিটা যৌবন দেখেছিল
সে কোনদিন অফিস যায়নি
তবে যে মেয়েটি প্রতিদিন যৌবন বেচে ঘরে ফেরে
সবার মুখে রুটি তুলে দেয়
সেই আলোচনায় উঠে আসে রুটি তরকার সাথে
প্রতিদিন কারুকার্য করা ড্রাইনিং টেবিলে
কিংবা কুনুই ঠেকাতে ইচ্ছে করে নির্দ্বিধায়
বাসের ঝুলন্ত হ্যাঙ্গারের আপ ডাউনে
আজ আমরা একবিংশ শতাব্দীতে
প্রকাশিত সংবাদপত্রের হেডলাইন কি জানে
মেয়েটির যন্ত্রণার কথা
যার জন্য হাজার কপি কাগজ বিক্রি বাড়লো
২
তর্জনী
রক্ত তর্জনী উঠে এসেছিলো
প্রতিদিন, দিন ক্ষণ তারিখ অতিক্রম করে
যেদিন থেকে তোমার ফুটন্ত রক্ত ছড়িয়ে পড়েছিল
আমার দেহে, টেবিলে টেবিলে টক্কর খেলায়
শখের শরীরে দৃঢ়তা সেঁটে সেদিন বলেছিলাম
আর নয় এবার বার্থটব থেকে বেরিয়ে এসো
প্রতিবাদি মুষ্টি হাতে
স্কাউনড্রেলের মাইলস্টন ভাঙতে হবে
ঘুরঘুরে অন্ধকার থেকে, তবেই বের হবে
ভৈরবী সুর, আজ ভোরে বেজে উঠবে
অসুর নিধনের বেণু, আর তখন
পিথাগোরাসের সূত্র ফেলে বুঝিয়ে দিতে হবে
তর্জনীটা শুধু ফুটন্ত রক্তের কথা বলে না
বরং তা ধরে হাঁটতে শেখায়
৩
স্লোগান
স্লোগান শেষ হলেই
কিছু বিজ্ঞাপনী হাসি
গড়াগড়ি খায়
মেলা শেষ হলে
ঠোঙা
হুড খোলা গাড়ি
এগোচ্ছে কাঠ
পরিশ্রমী শ্রমিক
হুড খোলা গাড়ি
মিছিল
ভিড়
ভোট
ফ্লাগগুলোর মতো
নির্জীব মানুষ
হাওয়া না বইলে
৪
তবু
তবু আমি সেদিন ভ্রাম্যমান পথের পথিক
মৃত্যুর পদশব্দ শুনি মিছিলের পতাকায়
তার ভিতর মিথগুলো জমাট বাঁধছে
টুকরো টুকরো করে কেটে নিচ্ছে স্বত্ব
আর স্লোগানে গলা মেলানো
মনটা তখন ময়দানের ঠোঙা
আমরা সব জেনেও হুড খোলা গাড়িতে উঠি
তবু মন খুলে হাসি না
৫
নেশাতুর
হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের প্রিয় শাকান্ন
হৃদয়জুড়ে শুধু বিলাসিতা নিত্য করে
কুঁচো কুঁচো যন্ত্রণা কমাতে
বিজ্ঞাপনের আশ্রয় নিই
তবু তুমি যদি একবার আসো
তাই জানালা খুলে শুয়ে আছি
আর চাপ চাপ লাল অন্ধকা
মেঝেময় গড়াগড়ি খাচ্ছে
নেশাতুর ঘুমের মাঝে
৬
উলের গোলা
অজস্র ব্যাকুলতা কুঁড়ি হয়ে ওঠে
চোখে মুখে ফুটে ওঠে গোপনীয়তা
বিছানা থেকে উঠে আসার পরও
বালিশে তখনও লেপ্টে আছে লালা
অসমাপ্ত সোয়েটারের রক্তমাংসে রক্তজালিকা
গড়িয়ে যাচ্ছে উলের গোলা
আমরা এখনও চেয়ে আছি
না পাওয়া চাওয়ার দিকে
৭
ঠোঁট
জানি না ঠোঁটে ঠোঁট রাখলে
যে রঙ উঠে আসবে
তাতে তুলি ঢুবালে
ক্যানভাস কতটা রঙিন হবে
৮
কষ্ট
আজ বুকের ব্যথাটা বাড়ছে আমারও
বাবা বলেছিল যে, আরও একটু বাঁচতে চায়
তাহলে আমিও আর আটকাতে পারবো না
অনুপ্রবেশ
তবু তো শেষ পর্যন্ত লড়াইটা চালতে হবে
মায়ের মুখ চেয়ে, মা খুব কষ্টতে থাকবে জেনে
৯
লাঙল
লাঙল চালাতো আমার বাবা
ফসল ফলাতো
মাটির কাছাকাছি বাস
আর আমাদের মাটিতে পা পড়ে না
দিনরাত জুতো পরে ঘুরে বেড়াই
আমরা না জানি ফসল ফলানোর মন্ত্র
না আছে মাটির টান
১০
সমতল
কিভাবে যেনসমতল খুঁজছি
আমরা দুজন
আমি আর আমার পোষ্য কুকুর
আমরা দুজন পাশাপাশি হাঁটছি
লজ্জাহীনভাবে
কিংবা নির্লজ্জভাবে
আসলে ওদের চোখে এটাই সমতল
ওরা মানে যারা আমাদের রেশন দেয়
আর পার্কে পাশে বসে দু-গালে দুটো চুমু দেয়
তারপর স্বামীর সাথে শুয়ে পড়ে
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন