সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পিয়াস মজিদ

রিক্তসুর

প্রক্ষিপ্ত পট ছেড়ে
সমস্ত মৃত্যু আজ ঐক্যবান।
নক্ষত্র-নন্দন যেখানে
কালোনীল অভিরূপের ছায়া ফেলে
অপ যত ভ্রুণকে সার্বভৌম করে।
এমন অমাকরোজ্জ্বল জীবন ছিল
সেই ঊষায় ঘনীভূত
যা তুমি সমুদ্রের বিস্তীর্ণ বর্ণমালায়
খুঁজে পেয়েছিলে।

তোমার ব্যাকরণবিচ্যুত আমি;
নিরক্ষর এই অগ্নিপরিধিতে
পুড়ে যাচ্ছি কেবল।


ঝরা পাতার সিংহাসন

ঝরে পড়া প্রেমের মতোই
তুমি মালঞ্চে চির-চৈত্রশীল।
ঘাতকের নিষ্ঠায়
রচনা করে তোলো
সহস্র রূপমৃত্যুর মঞ্জুষা-ফাঁদ।
মরচে পড়া আলোর ঝলকানি
তামাদি করে বেছে নিই
জীবনের সেইসব অন্ধকার নন্দন!
আর যত ফেরারি পুষ্পে ছিল
ফেলে আসা ফাল্গুনরাত্রির
সবুজ কন্সট্রাকশন।
হৃদয়ের বসন্তবনে গুঞ্জরিত
মরা পাতার দল
ফাঁপা ফসলের চেয়েও
জাগায় বেশি আনন্দধ্বনি।

অনন্ত অনাঘ্রাতার দিকে
রিক্তের এই চৈত্রযাত্রা
চলছে, চলবেই।

স্বপ্নমৃত্যুপ্রসারণ

এই গ্রীষ্মেও
মুষলধারে কাঁদছে আকাশ;
কান্নাপ্রণালি
কোনো ঋতু মানে না। 
দিগন্তপাতালে
রন্ধনশালার বিস্তার তার।
এর মাঝে আমি এক
ঋজুরেখ নক্ষত্রবাদি,
এই ক্রন্দনসিম্ফনির
কারুকাঠামো ভেদ করে
শুক-স্বাতী-অরুন্ধতীর
হৃৎমহলে যাই;
দেখে আসি
এক একটি নক্ষত্রের
নির্মাণশেষে
তোমার চোখের জল
কত যুগের
বর্ষা হয়ে
ঝুলে থাকে
অনন্ত
অন্তহীনে!

নীরক্তকরবী 

বেঁচে থাকার অসুন্দর
পরিসর ঘিরে
নাচে তা ধিন, ধিন তা
সুন্দরী কমলা।
সাক্ষী শুধু
শোকার্ত দাঁড়িয়ে থাকা অশোকতরু ;
থোকা থোকা কান্নাপল্লব
প্রেতপুষ্পলোকের অনন্য আতুঁড়ঘর।
দেবদূত-মরা গন্ধে
যত উদ্যাপন
ক্যান্ডেল নাইট
আর বৃদ্ধা পরির নিঃশ্বাস।
এমন রিক্ত জীবনফাল্গুন
কোন এক অন্তর্গতার
আরও কোনো ভেতরমহলে
প্রয়াত বসন্তের
কণা কণা স্মৃতি হয়ে বাঁচে।

খরাস্নান

ঘনীভূত নৈরাজ্যে-শৃঙ্খলায়
পা বাড়াই পাতালে,
মেঘমায়াবী মরুভূমি-
ভরা পূর্ণিমায় অন্ধকারের গর্ভগান;
দুপুর লতিয়ে উঠে ভৈরবীর ভাঙচুরে।
বেঁচে থাকার এই কাননে
মৃত্যু মূলত মিউজিক
তাই প্রতিটি কফিনে
কিছু সুর লেগে থাকে
আর ওদিকে শকুনচক্ষু প্রƒফরিডারও
ধরতে পারে না
তোমার-আমার প্রেমে
পুঞ্জীভূত ভুল।
অন্ধ মেয়ের মেকাপে
জেগে ওঠে রাতের মণ্ডল।
শীত শুরু হয়ে গেলে
কেউ আর যায় না
প্রিয় মেঘসিঁড়ির ধারে কাছে।
জীবনের সমস্ত নোংরা অর্চনা
ধুয়ে ফেলি এক সকালের সাবানে
তবু বৃষ্টিবেলায় থামেনা
ফুলের ফায়ারিং রেঞ্জ।
ফুঁসে ওঠা যৌনজলধারায়
দেখেছি নৈঃসঙ্গ্যের সমূহ বিকাশ।
এতসব প্রসঙ্গের মাঝে
আজ শুধু আমিই বিবিধ ;
ফিরে ফিরে চলে আসি
ফুলের প্রসঙ্গে
কেননা পৃথিবীর প্রতিটি ফল
ঝুলে থাকে
ফুল নিঃশেষের শোক নিয়ে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কবিতা বিষয়ক গদ্য : অনিন্দ্য রায়

ন্যূনতম কবিতা lighght শুধুমাত্র এই সাতটি অক্ষর লেখার জন্য কবিকে দেওয়া হল ৭৫০ ডলার। আজ নয়, গত শতকের ষাটের দশকের মাঝামাঝি। পৃথিবীর সব চে দামী শব্দ। আর বিতর্ক এখানেই। শব্দ? কী অর্থ এর? আবার যিনি লিখেলেন তিনি তো একেই বলছেন কবিতা, এই কটি অক্ষরসমষ্টিকে। তা প্রকাশিতও হচ্ছে, সংকলনে নির্বাচিত হচ্ছে। একটা সাদাপৃষ্ঠার মাঝখানে lighght এইটুকু ছাপা, এইটুকুই, একে বলে কবিতা ? ম্যানহাটন শহরে তখন শরৎকাল।  সালটা ১৯৬৫। সে এক সন্ধ্যা। বছর  বাইশের এক যুবক নিজের টাইপ রাইটারে  lighght এইটুকুই টাইপ করেন। কী এটা? বানান ভুল, হ্যাঁ,  light  শব্দটির মাঝে এই দুটি ব্যঞ্জনবর্ণকে ঢুকিয়ে দেওয়া, আর তাতেই নাকি  ব্যঞ্জনা । শিকাগো রিভিউ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় কবিতা হিসেবে। এবং তা স্থান পায় The American Literary Anthology-র দ্বিতীয় খণ্ডে, অবশ্যই কবিতা হিসেবে। এই সংকলন সম্পাদনা করেন National Endowment of the Arts(NEA) –এর পক্ষে George Plimpton। NBA-এর সিদ্ধান্ত মতো সংকলনটির প্রত্যেক কবিই পান ৭৫০ ডলার। সেই হিসেবে lighght-এর রচিয়তাও।  শিকাগো রিভিউ নিজে২৫০ ডলার রেখে দেয় আর বকিটা পেলেন কবি। ম...

পাগল পাঠক (কবিতার পাগলামি)

কবিতার তুমুল পাগলামি কাকে বলে সেটা অনেকেই জানেন। তবুও কবিতার সীমাহীন পাগলামির জন্য কবিতার সমস্ত পাগলরা ফেসবুক বা মুখবই এ সার্চ করুন "পাগল পাঠক" পেজটি। এই পেজটি পাগল কবিতা পাঠকের নিজস্ব দুনিয়া। বন্ধুরা যারা পেজটি লাইক করছেন তারা নিজের প্রিয় কবিদের কবিতা পোস্ট করুন। অনুরোধ নিজের কবিতা পোস্ট করবেন না। বিস্তারিত জানতে ফেসবুকে পেজে আমাদের পেজে যান।

গদ্য কবিতা : সুকান্ত দে

ডাব তুই হয়তো বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছিস। চুপিচুপি একটু গা ঘেষে দাঁড়াই। যাতে তুই একটু ঠেস দিতে পারিস। তোর ফাইল ব্যাগ একটু ধরি। তুই বলবি -- আ : হাত দুটো একটু ছড়াই, বলে সত্যিই ছড়িয়ে ...