সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সিরিজ কবিতা : রাহুল গাঙ্গুলী

স্টেশনের শেষ প্ল্যাটফর্ম



১
অন্ততঃ ভেজা বসন্তেও - বাসন্তী ক্যাম্পফায়ার।
চকমকি আলো সামলে আকারহীন নির্জনতা।
স্টেশনের শেষ প্ল্যাটফর্ম - টিকিট কাটার হিড়িক
জলীয়তা - নেই : নেই : নেই : নেই।
সময়ের অভাব থাকলে ব্যস্ত ভীড়ের প্রতিফলন
উলযোগী কোলাজ - হয়তো অপেক্ষায় সময়।
হয়তো বেহেস্ত রাত......ইদানীং - ভীড় : ভীড় : ভীড়

২
রাত বাড়ছে।১ম পা ছুতে চাইছে শীত-অনামিকা।
ঈশ্বর বা শয়তান : মানুষী রুহু-তক রূপ।
জীভ খুঁটছে শিলালিপির আস্বাদ।
ডানা মেলে ঘুমাচ্ছে অসংখ্যিত সমতল চাদর

৩
লুডোসাপ।ছক্কা।পুট।কখনো যন্ত্রাংশ।
সভ্য অবসরে মাত্রাধিক সুযোগ : বিখ্যাত ইতি।
উপহারে নীল ঝিনুকের শামুকলতি আবেদন।
ফাকা চেয়ার।সন্ধে ৮টা।বরফি তারাখসাদের ছুটি

৪
একেএকে কমিয়ে আনছি বিরতি।
মধ্যান্তরে - সময়ের অভিকর্ষজ ত্বরণ = ০।
পরিণত বিনির্মাণ।ভাঙ্গছে ভাঙ্গছে শেষ।
স্বপ্নিল টাওয়ার থেকে টুপটাপ অ্যাসিড
নীল রঙে ভরিয়েছে স্টেশন........

৫
শেষতম স্টেশনে সম্পূর্ণ হোক অপেক্ষা।
নিহুরি তাপে নেমে আসুক খোজবদ্ধ মাটি।
মাটি ও মাটি : মেনে নিলাম সম্পৃক্ত বসত্।
মেয়েটি তাকায় - মোমঝুরি প্রস্তুতির শিৎকার।
শেষতম স্টেশন - বাউলের চোখে হোক নিখোঁজ

৬
গা-ভর্তি গয়না তরঙ্গে দেহাতী তরুণী।
মিশে যাচ্ছে রাত : বাড়ছে গোখরোর খিদে।
খড়কুটোয় পুড়ে যাওয়া কাগজ-চামড়ায়
ঝরুক মেঘ-তাজমহল.......আপত্তি কিসের?

৭
জায়মন্তী প্রতিসমে - বাতিল সুরক্ষা।
বারোমাসি পোয়াতি হওয়া ভুলচুকে
অজস্র অজগর-হিম।ছুটছে নাচছে কাটাচ্ছে।
বেলিটোন : নাখুন বুদবুদ।
কালচিটে প্ল্যাটফর্ম ধোঁয়াটে মরিচ।
৪র্থ লাশ হলো বেসুমার নাজুক প্ল্যানচেট।
যে কারণ ভুলে থাকি বারবার -
পেট্রল ও বীর্যমাখা গঙ্গাজলে শুদ্ধতা প্রয়োজনহীন

৮
ভোর শব্দে কুয়াশা-ত্বকের সন্ধি জমা থাকুক।
হোক যাবতীয় পারমাণব - আপোষহীন।
অনিয়ত ফসফরাস - ও.টি. উল্লাসে মাখুক
ব্যক্তিগত ধ্রুবতারা।কিছু কম কিছু বেশী
আগ্নেয় লাভায় স্বীকারোক্তি লিখিক ক্লান্ত নুপুর।
হয়তো লাজুক রোমান্টিসিজম...........

৯
পর্দায় নিষিদ্ধ আড়াল চাই।
ছোটাছুটি - লাফালাফি - লোফালুফি।
সদরে দাগছে ভয় >>> রেশম কোলাজ।
ফুটন্ত মৌ-বনে সরল আঁতাত......
হুড়োহুড়ি কমবেশি - ঝিঁঝিঁর ডানায়
দেওয়ালেই ছাপা হোক পর্দার ডাকনাম.....

১০
প্রচ্ছন্ন ছায়াগুলো ভেঙ্গে পড়ে মুঠো কোলাহলে
তরঙ্গ ছাড়িয়ে যায় রাজকীয় সিন্দুক
জাহাজের ফেনায় দেখি বিন্দুরূপ ঘাম
পুরনো জামা - ছেড়ে কবুতর আলোয়ান.....
ভয় পিঠে কেপে ওঠে কুমোরের শখ..........

১১
তিনকোনী পৃথিবীর ১টিও সমকোণ নেই।
তবু কিছু মাটিবর্তী বিকিরণ - মাঝেমাঝে।
এর চেয়ে নখে জমুক শীতার্ত মেঘ-হিম.......
রাতারাতি আলোকবর্ষ হোক চিরুনি লুকানো রেডার।।
জলীয় বাষ্পে লুব্ধক আকি ক্রমশঃ...........

১২
কালোজাম চুম্বক তিলে - কালশিটে পরা শহর।
তুলনায় বহুতল আকাশ।আকাশে আকাশ ভাঙ্গে।
আঁতুড় ভূমধ্যসাগর।রাত হওয়া কবিতায় চুরমার।
মানচিত্র ছায়াছবি - মায়ার নৈরাজ্য থেকে ওঠে।
অবশিষ্ট তেলমাখা দোকান চলকে পরে
জরিপি পেট্রাল.......হরিনের দাম বাড়ে সিগনালে।
কিছুটা বাইপাস ফুসফুসেও দরকার।।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কবিতা বিষয়ক গদ্য : অনিন্দ্য রায়

ন্যূনতম কবিতা lighght শুধুমাত্র এই সাতটি অক্ষর লেখার জন্য কবিকে দেওয়া হল ৭৫০ ডলার। আজ নয়, গত শতকের ষাটের দশকের মাঝামাঝি। পৃথিবীর সব চে দামী শব্দ। আর বিতর্ক এখানেই। শব্দ? কী অর্থ এর? আবার যিনি লিখেলেন তিনি তো একেই বলছেন কবিতা, এই কটি অক্ষরসমষ্টিকে। তা প্রকাশিতও হচ্ছে, সংকলনে নির্বাচিত হচ্ছে। একটা সাদাপৃষ্ঠার মাঝখানে lighght এইটুকু ছাপা, এইটুকুই, একে বলে কবিতা ? ম্যানহাটন শহরে তখন শরৎকাল।  সালটা ১৯৬৫। সে এক সন্ধ্যা। বছর  বাইশের এক যুবক নিজের টাইপ রাইটারে  lighght এইটুকুই টাইপ করেন। কী এটা? বানান ভুল, হ্যাঁ,  light  শব্দটির মাঝে এই দুটি ব্যঞ্জনবর্ণকে ঢুকিয়ে দেওয়া, আর তাতেই নাকি  ব্যঞ্জনা । শিকাগো রিভিউ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় কবিতা হিসেবে। এবং তা স্থান পায় The American Literary Anthology-র দ্বিতীয় খণ্ডে, অবশ্যই কবিতা হিসেবে। এই সংকলন সম্পাদনা করেন National Endowment of the Arts(NEA) –এর পক্ষে George Plimpton। NBA-এর সিদ্ধান্ত মতো সংকলনটির প্রত্যেক কবিই পান ৭৫০ ডলার। সেই হিসেবে lighght-এর রচিয়তাও।  শিকাগো রিভিউ নিজে২৫০ ডলার রেখে দেয় আর বকিটা পেলেন কবি। ম...

পাগল পাঠক (কবিতার পাগলামি)

কবিতার তুমুল পাগলামি কাকে বলে সেটা অনেকেই জানেন। তবুও কবিতার সীমাহীন পাগলামির জন্য কবিতার সমস্ত পাগলরা ফেসবুক বা মুখবই এ সার্চ করুন "পাগল পাঠক" পেজটি। এই পেজটি পাগল কবিতা পাঠকের নিজস্ব দুনিয়া। বন্ধুরা যারা পেজটি লাইক করছেন তারা নিজের প্রিয় কবিদের কবিতা পোস্ট করুন। অনুরোধ নিজের কবিতা পোস্ট করবেন না। বিস্তারিত জানতে ফেসবুকে পেজে আমাদের পেজে যান।

গদ্য কবিতা : সুকান্ত দে

ডাব তুই হয়তো বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছিস। চুপিচুপি একটু গা ঘেষে দাঁড়াই। যাতে তুই একটু ঠেস দিতে পারিস। তোর ফাইল ব্যাগ একটু ধরি। তুই বলবি -- আ : হাত দুটো একটু ছড়াই, বলে সত্যিই ছড়িয়ে ...