আমি এবং চৈ চৈ
১
আমি
তোর জন্য শুভবিজায়ার
উসুম উসুম আলিঙ্গন
হলিই বা তুই স্টার জলসার বাহা
আমি না হয় জি বাংলার জিৎ
কয়েক বছরের পুরোনো সিরিয়াল
রেগে হেসে চালিয়ে যাচ্ছি
টি আর পি ও আছে
একদিন যাবি
দিকশূন্যপুর
ফ্রেমটা ছেড়ে ?
২
চৈ চৈ
আমি তো মৎস্যকন্যা নই
কেন টানিস নীল নদীতে?
ঘরময় কিচির মিচির
ইচ্ছেচড়ুই,
রান্না করতে ভালো লাগে না
ঘর গোছাতে ভালো লাগে না
চান করতে ভালো লাগে,
ফেনা মেখে
তাকিয়ে থাকি আয়নায়,
নিজের চোখে চোখ পড়তেই
গা ঢাকি,
টিকটিকিটা ডেকে উঠতেই
পড়িমরি ছুটি ছেলেকে আনতে।
পড়শিরা তাকায়
দেখতে পায়না
পা জড়ানো মেঘ।
বাড়ি ফিরতে ফিরতে
নিজের ওপর বিরক্ত হই
রান্না হয়নি কি খাবে ছেলেটা?
ঘরে ঢুকতেই দেখি
ইতি উতি ছড়িয়ে আছে
ইচ্ছে পালক ।
৩
আমি
কবিতার নামে লিখে রাখি
ব্যক্তিগত হিজিবিজি
তোর চুল থেকে ঘ্রাণ নেবার
গোপন অপরাধ
পাছে লাভার মতো ভিজিয়ে ফেলে
আর ধরা পড়ে যাই নিজের কাছে
নিজেকেই তো বেশি ভয়
যদি সে ভুল ক’রে
সব স্মৃতি ফেলে আসে
ধাবার মাঠে
তুই কি পারবি
সেসব গুছিয়ে দিতে।
৪
চৈ চৈ
ইচ্ছে করে উড়িয়ে দিয়ে চুল
তোর বুকেতে বৃষ্টি হয়ে রই
তুই একদিন ভ্রমর হয়ে আয়
আমি একদিন পাপড়ি খুলে শুই।
৫
আমি
একদিন আসবি হাতের মুঠোয়
আয়ুরেখা মাপবো শিররেখা মাপবো
হৃদয়রেখা মাপতে গিয়ে
ব্যথা পাবে তোর বুক
এসব কথা বলা যায়না তোকে
দিবাস্বপ্নেই জমিয়ে রাখি সুখ।
৬
চৈ চৈ
মেয়ে জন্মের সাথে সাথেই
গায়ে ফুটে ওঠে গারদের ঘাম
তোর সমস্ত কবিতা অপরাধ
না হয় আমি ক্ষমাই ক’রে দিলাম।
৭
আমি
রাত্রে এখনও ঝাঁকাস বারুদ গাছ
স্বামীর বুকে এঁকে দিস দূর্বালতা
ট্রেন ধরার তাড়ায়
ঝরে পরে আঙ্গুর?
শুধুই প্রশ্ন করছি,বেশ
এবার আমার কথা বলি
সাত-পাঁচ বেঁচে থাকার পর
কবিতার গর্ভপাত ঘটায়
ছেলেকে রাইমস পড়ান বাবা
সিগারেট ছাড়বে ভাবছে রোজ
বয়েসের সাথেই বাড়ছে বাজেট
বিছানার অভ্যাসে বাড়ছে ঘুম
ঘুমের মধ্যে তেষ্টা পায় খুব
তোর কাছে জল আছে?
৮
চৈ চৈ
ঘর ছাইতে পাছে স্বাধীনতা ক্ষয়ে যায়
তাই গাছের গায়েও
পড়িয়েছিলি ডানার পোষাক
এখন কেন আঁচলে আগুন খেলিস
পাথুরে জীবনে জলের আলোর
আগুন ছুঁড়ে ছুঁড়ে
কি যে সব
বিপথগামী স্বপ্ন ভাসাস
সময় ক্ষয়ে গেলে
কি বা হবে এতোসব উপাচারে।
এই পর্যন্ত লেখার প’র মনে হল একটা কথা স্বীকার করে নেবার সময় এসেছে। চৈ চৈ আসলে
আমার মতোই একটা মাত্র শরীরী জীবনে সন্তুষ্ট নয়। মোট কথা অলীক হলেও অবাস্তব নয়।
৯
চৈ চৈ
জানিস কি তুই তোর মধ্যেই
অনেক মানুষ ঘর করে
একের শরীরে লাঙল চালায়
অন্য চেতনে ভর ক’রে।
তুই কি জানিস
আসলে আমরা খন্ড খন্ড আয়না
একসঙ্গে জোড়া গেলেও
গোটা জীবন হয় না।
জানিস তোর মধ্যেই আমার বাস
দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী দীর্ঘ বরষ মাস।
আদপে এসব খেলা বইতো নয়
হার জিত দুই মাত্র জেনেও
হেরে যাবার ভয়।
তার চল এমনি করেই বাঁচি
জীবন যতই জট বাঁধুক
মৃত্যুতো উদাসী।
১০
আমি
মাপজোকের নিরীক্ষণে সেই তো একটা প্রাণ
সাড়ে তিন হাত গন্ডী কেটে শুই
আমিও তো উপরিলোভী মানুষ
খুঁজে ফিরি উপরে ওঠার মই
যখন তুই জ্যোৎস্না মেলে ডাকিস
একলা রাতে হয়ে উঠিস ব্রনগালের চাঁদ
তখন আমি খুঁজে ফিরি কোথায় সমাজ
ভোটবাক্স জগত এবং ফাঁদ
স্বপ্ন হোক সে দিন কিংবা রাতের
সমাজ খোঁজে স্বপ্নে পাপের মুখ
আমার সাথে তুই যদি না থাকিস
কে বা আমি কি বা আমার সুখ।
এরপর রাত্রি আড়াইটেতে আমি ছাদে উঠে এলাম। অগুন্তি তারাদের দিকে
তাকিয়ে মনে হ’ল—
আমি বাঁধা পড়ে আছি
হাড় মাংস দ্বন্দ্ব স্বপ্নে
তখন চাঁদ আমার সাথে বন্ধুত্ব পাতিয়ে বলে
তারও প্রাণ আছে
অসংজ্ঞাত প্রেমের প্রতি জিজ্ঞাসাও
এরপর সাতটা তারা সপ্তর্ষি হয়ে ওঠে
আমি হলাম যজ্ঞকুণ্ড
কালপুরুষ ঘুরে ঘুরে পাহারা শুরু করল
আমার ওপর ঝরতে শুরু করল ফুল ঘি হব্য
ওঃ কি তীব্রতম সুখ সেই দহনে
আমার আর শরীরে নামতে ইছা করল না
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন