সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সিরিজ কবিতা : জয়দেব বাউরী

স্পিরিট মেনেই


১
পেলান্টি বক্স। চাইছি না হ্যান্ড ।ভীষণ রকম সস্তার গোল।
প্রবল শীতে ফুলের আগুন সাজাচ্ছো,তাও খেলবো না দোল।

নিজের পায়েই বল রাখছি। মাঝে মধ্যেই হাল্কা ডিব্রল।
অঙ্ক কষেই সাবধানে পাস। ভাবতে থাকুক চিনের পাঁচিল ।

উস্কানি থাক হাজার রকম। এড়াচ্ছি সব ফাউল টাউল
স্পিরিট মেনেই দুরন্ত গোল, চাইছে স্বদেশ গ্যালারিকুল

একটু উঠে খানিক নামা সূচের ফাঁকেই তড়িৎ-গতি
বাঁশির আগেই পাঁচিল ভেঙে বার ছুঁয়ে বল ঠিকই ।

২
যদি ভাবছো, নিশ্চিত কেউ দৌড়ে এসে নম্র হেডে গোল করবে
যদি ভাবছো, দুরন্ত কোন্ ব্যাকবলিতে নিঃঝুমতার জাল ছিঁড়বে

তবেই জেনো কুয়াশামাখা, সান্ধ্যভাষা সহযোদ্ধা সবার চোখে
কারও মনই অর্জুন নয়। অচেনা আর ঠান্ডা কী স্রোত দুলছে বুকে

কেবল ওই ভরসা হাওয়া।সংসারী নয়।কেমন যেন আউল বাউল
হযতো বা তাই এমন ঘটা ; হ্যাঙ্গ হওয়া ওই পশ্চিমদিক রক্তশিমুল

আবার বলি ফার্স্টবারে নয়; গতি রেখেই সেকেন্ডবারে ঝুলন্তবল
টার্ন করবেই এই হাওয়াতে।আর তাহলেই ইমন-বেহাগ।আলোর দখল।

৩
সব ফ্রি-কিকের সামনে ওয়াল উঠবে সটান ,জানা কথাই..
সব যুদ্ধের আগে পরেও ঠিক থেকে যায় এক ভার্সাই।

তেমনি, দেখছো, দুই মাথা দুই কাঁধের মধ্যে সামান্য ফাঁক ।
ডান পায়ে নয়, বাম পায়ে শর্ট রকেট স্পিডে ঠিক নেবে বাঁক।

এখন  হাওয়া অন্যরকম। কান পাতলেই কি সব শুনি
দক্ষিণে নয়, পশ্চিমে নয়; পূব-নতুনের কোনাকুনি।

ওই ফাঁকে  বল বেরিয়ে এলেই বারের কোনায় হাল্কা সুইং
আর তখনই  সরবে দ্যাখো, অন্য ভোরের মেঘলা উইংস।

৪
যতই তোমার প্রস্তুতি থাক
যতই তুমি শর্টের মোটিভ বুঝতে পারো
যতই তোমার বিশালডানা
ছড়িয়ে রেখে স্বর্গদুয়ার আড়াল করো

দুরন্ত ঝাঁপ। চোখের পলক
বন্ধ এবং খোলার মাঝেই হরপ্পা সব।
আসন ভেঙে গুড়িয়ে গেছে
আর্বজনা পুড়িয়ে ফেলার মহোৎসব

সময়।যখন সময়ই হয়
বল আঙুলের ডগা ভেঙেই রকেট স্পিড...
থমথমে চোখ। প্রতিহিংসা
ধুলোয় লুটায় দুর্গ গড়া সব অর্কিড

আজ্ঞাবহ  সকল বাঁশি
সত্যিকারের আলোর বেণু ঠিক তখন
দ্যাখো কেমন কাজল মুছে
দিগন্তে কার রামধনু রঙ উন্মোচন।

৫
আমি ডিফেন্স ভেঙে ঢুকছি
তুমি জার্সি টেনে ধরছো
তবু রেফারীর বাঁশি নিশ্চুপ
তাই চোরা গোপ্তাও মারছো!

সব লাইনস ম্যানই অন্ধ
সব হাতের পতাকা পঙ্গু
কোথা উড়িয়ে সনির্বন্ধ
রোজ খেলে যাবে ত্রিশঙ্কু !

কার সাপোর্টারস ক্ষোভে ফুঁসছে
কার সাপোর্টারস খুব হতবাক
তবু আমারই ফাউল ধরছে
কোন সেন্টারে থাকা দাঁড়কাক।

মন্তব্যসমূহ

  1. জয়দেব দা দুরন্ত সব কবিতা।এভাবেই কবিতাই থেকো।অনেক শুভেচ্ছা।

    উত্তরমুছুন
  2. ছন্দের music-টাতেই মন ভরে গেল , বারবার পড়তে গিয়ে এমন মোহাচ্ছন্ন হচ্ছি বাজনায় যে কথাগুলোর গভীরতায় ঢুকতেই দিতে চাইছে না। দারুণ লাগল জয়দেব।

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কবিতা বিষয়ক গদ্য : অনিন্দ্য রায়

ন্যূনতম কবিতা lighght শুধুমাত্র এই সাতটি অক্ষর লেখার জন্য কবিকে দেওয়া হল ৭৫০ ডলার। আজ নয়, গত শতকের ষাটের দশকের মাঝামাঝি। পৃথিবীর সব চে দামী শব্দ। আর বিতর্ক এখানেই। শব্দ? কী অর্থ এর? আবার যিনি লিখেলেন তিনি তো একেই বলছেন কবিতা, এই কটি অক্ষরসমষ্টিকে। তা প্রকাশিতও হচ্ছে, সংকলনে নির্বাচিত হচ্ছে। একটা সাদাপৃষ্ঠার মাঝখানে lighght এইটুকু ছাপা, এইটুকুই, একে বলে কবিতা ? ম্যানহাটন শহরে তখন শরৎকাল।  সালটা ১৯৬৫। সে এক সন্ধ্যা। বছর  বাইশের এক যুবক নিজের টাইপ রাইটারে  lighght এইটুকুই টাইপ করেন। কী এটা? বানান ভুল, হ্যাঁ,  light  শব্দটির মাঝে এই দুটি ব্যঞ্জনবর্ণকে ঢুকিয়ে দেওয়া, আর তাতেই নাকি  ব্যঞ্জনা । শিকাগো রিভিউ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় কবিতা হিসেবে। এবং তা স্থান পায় The American Literary Anthology-র দ্বিতীয় খণ্ডে, অবশ্যই কবিতা হিসেবে। এই সংকলন সম্পাদনা করেন National Endowment of the Arts(NEA) –এর পক্ষে George Plimpton। NBA-এর সিদ্ধান্ত মতো সংকলনটির প্রত্যেক কবিই পান ৭৫০ ডলার। সেই হিসেবে lighght-এর রচিয়তাও।  শিকাগো রিভিউ নিজে২৫০ ডলার রেখে দেয় আর বকিটা পেলেন কবি। ম...

পাগল পাঠক (কবিতার পাগলামি)

কবিতার তুমুল পাগলামি কাকে বলে সেটা অনেকেই জানেন। তবুও কবিতার সীমাহীন পাগলামির জন্য কবিতার সমস্ত পাগলরা ফেসবুক বা মুখবই এ সার্চ করুন "পাগল পাঠক" পেজটি। এই পেজটি পাগল কবিতা পাঠকের নিজস্ব দুনিয়া। বন্ধুরা যারা পেজটি লাইক করছেন তারা নিজের প্রিয় কবিদের কবিতা পোস্ট করুন। অনুরোধ নিজের কবিতা পোস্ট করবেন না। বিস্তারিত জানতে ফেসবুকে পেজে আমাদের পেজে যান।

গদ্য কবিতা : সুকান্ত দে

ডাব তুই হয়তো বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছিস। চুপিচুপি একটু গা ঘেষে দাঁড়াই। যাতে তুই একটু ঠেস দিতে পারিস। তোর ফাইল ব্যাগ একটু ধরি। তুই বলবি -- আ : হাত দুটো একটু ছড়াই, বলে সত্যিই ছড়িয়ে ...