সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সিরিজ কবিতা : শুভম চক্রবর্তী

অনন্যা আহত করো




১
সেতুটি কাঠের ছিল. . .
গুটিগুটি হেঁটে যেতো যারা
তাদের নিয়মহীন কিছু নিয়মের বেড়াজালে 
আঁচড়ে কামড়ে তুই. . .আর তোর উদ্ধত শরীর
প্রতিটি নখের দাগে জন্মদিন বিরাট সফল. .  .
প্রতিটি রক্তের ফোটা আমাদের থেকে কিছু বেশি
ভেবে বসে প্রতিদিন আয়ু নেই,জ্যামিতিও নেই
নীরব বুকের খাঁজে থমথমে শিহরন আছে
অথবা কিছুই নেই. . .
যা থাকার যেটা না থাকার
অনন্যা আহত করো.  .  .
প্রতি স্বপ্নে প্রতিটি পলকে
ব্যর্থ প্রেমিকের বুকে ছ্যাঁকা দাও. . .
করুণাও করো !
নিকট বন্ধুর থেকে দূরগামী হেঁটে যাওয়া ভালো
অন্তত বেদনা গুলে অকারণ আঁকিবুকি হয়
ক্ষতর দেওয়াল ভেঙে বলে উঠি--প্রণয়. . .প্রণয়. . .
কে কার আশ্রয় তবে ?
সে আমার নাকি আমি তার
আড়ালে নিঃস্বাস ফেলে শরীরের আদিম ঝংকার
অনন্যা আহত করো. . .
উপোসী রুপসীটুকু খুলে
হাড় আর মাংস আর শরীরের বিনিত বিকার
মেনে নিতে শিখে গেছো
এখন আহত করো আরও
ক্রমবিলাপের পথে গোঙানি সম্বল করে করে. . .

২
মন্ডপ উলটে আছে
সরস্বতী পালিয়েছে বাড়ি
এদিকে দুয়ার বন্ধ. .তোর মোবাইল অফ মুডে
আগ্নেয় আকুতিগুলো নিদারুণভাবে ঝুলে আছে
কিছুই বলার নেই
নীরবতা ছাড়া কিছু আর
অবাক শস্যের দেহ অনিবার্য ফলনভাণ্ডার
অনন্যা পাখিরা নেই
কসমিক দোলাদল আছে
কামুক স্বপ্নের ফাঁকে গলে থাকা শরীর-করোটি
বিকেল ধ্বংস করে সন্ধ্যের দিকে হেঁটে যায়
আমিতো জাগ্রত সত্য অথচ ভীষণ মৃতপ্রায়
বিদায়ী রাত্রির স্পর্শে স্ফিতস্তন রজনীরা জানে
অপলক নিভে থাকা ছলোছলো শরীরের মানে !

৩
হটাৎ আড়াল চাও 
কবিতার পাতাছাওয়া ঘরে
কি দেবো তোমাকে তবে
কি দিয়ে আড়াল হবে হাওয়া
বাতাসের ফিসফিসে কোনোকালে বাজেনি দোতারা
পাতাটুকু ঝরে গেলে আমাদের পাতাছাওয়া ঘরে
শরীর নমস্য তাই দুপলক আলোছায়া করে
এসব ভেবেছি আর বর্ণনায় পুষেছি আগুন
গলানো ক্ষতর পথে পরিশ্রান্ত ধপধপে চুন
কেবলই নক্ষত্র জ্বলে ধিকিধিকি পুড়ে যায় সাপ
নিরাময় শুষে নেয় আদিগন্ত প্রাচিন প্রলাপ
সমস্ত রাতের শেষে একএকটা ভোর জেগে থাকে
যেখানে সেতুই সত্য 
সেখানেই খুঁজে মরি. . .আহত তোমাকে !

৪
তুমুল নদীর ধারে 
দুটি গাছ পাশাপাশি গজিয়ে উঠেছে
অথবা আকুতিটুকু যে যার সামনে রেখে চলে গেছে দূরে
দ্বৈতমিলনের চারা বেড়ে ওঠে. . .ক্রমশ আহত
শরীর ! শরীর নয় ধুপগন্ধ এবং প্রতীকী
ছিন্ন ব্রেসিয়ার জুড়ে বাসনার রোদরং আঁকা 
নাভির ঈষৎ নীচে সুবিশাল দলীয়পতাকা. . .

হে অমোঘ ,মেলে দাও
হে অমোঘ যা কিছু জটিল 
অস্থির নিঃশ্বাস মেখে আহতেরা চন্দ্রাতপ করে
অনিবার্য দোলাচল আমাদের নেবেনা ,শরীর. . .
অনন্যা পাগল করে
ছুঁড়ে দাও প্রতিবেশি জল
উলম্ব আবেগ চাটি নিদারুন---পাগল পাগল

৫
অথচ আমার কিছু করার ছিল না. . .
নিহত দূরের দিকে আড়চোখে চোখাচোখি ছাড়া
সাদা কাগজের পাশে প্রতিদিন গুম হয়ে বসি
কবিতা ধ্বিক্কার দেয় ,বলে--তুই,চুড়ান্ত আপোসী
ব্যর্থ পুরুষের আঁচে পুড়ে যাওয়া কিছুটা বিকেলও
আমাদের কতদিন থেকো বলো মেশামেশি নেই
দুপারে দুজন থাকি আবার থাকিনা কোনো পারে
একা রাত পুড়ে যায় চ্যাটবক্স বেদনাগিটারে
কেবলই শরীরটুকু চাওয়া আর পাওয়ার আড়ালে
প্রতিদিন জ্বলে ধুপ প্রতিদিন নেভানো চিবুকে
চুমু খাই একা একা
ভালো লাগে অথচ লাগেনা
অনন্যা আহত হবি ?
নাকি সুনিপুণ অভিনয়ে
ভেঙেচুরে যাবে সব কুয়াশা কুয়াশা কবিতারা
কেবলি আশ্রয় চায়. . .
দিশেহারা দুএকটি তারা !

৬
অনন্যা,তোমাকে কাল অর্থহীন দেখেছি গভীরে
দেখা না দেখার ফাঁকে কিছু কিছু সাপ ওৎ পাতে
পুটুস জঙ্গল বেয়ে সাঁতরায় বুনো পোড়া  দেহ 
সমস্ত সাঁতার শেষে ছলোছলো দামোদর আঁকি
সেখানে আমার মৃত্যু,প্রতি জন্মে প্রতি মরে যাওয়া
নীরব নিঃশ্বাসময় ফোঁসফোঁস ফণা তুলে চলে
শীতের আকুতি মেখে বলো কার মৃত্যুদিন আজ
অনন্যা প্রতিটি স্বপ্ন
বড় বেশি তোমাকে পাবার 
গোপনতা পুষে রাখে
একা একা লাইনে দাঁড়ায়
শুনেছি অ্যাসাইলামে তুমি বড় বেশি আলোচিত
শুনেছি তোমাকে ছাড়া কিছুক্ষণ খাওয়াপরা নেই
হয়তো তোমাকে ছাড়া সবই চলে জীবন চলেনা
অর্থহীন গভীরতা লেখে কিছু আহত পাগল. . .

৭
সকলে কি একা দেখো. . .
অথচ সকলে বাঁচে ভিড়ে
বাঁচা না বাঁচার মাঝে কিছু পাখি ঝিম হয়ে বসে
প্রাগৈতিহাসিক বুকে ভালোবাসা মেখে বসে থাকি
তুমি বলো ভালোবাসা
ভালোবাসা. . .ন্যাকা ও কমেডি
ইদানিং জ্বর হলে সারে খুব তোমার শরীরে
সমস্ত হুল্লোড় ভেঙে একদিন তুমি চলে যাবে
জানা ছিল লালচুল-আদুরে আদুরে স্বরলিপি
নিপাট কৃত্রিম ছাড়া প্রিয় কোনো বর্ণমালা নয়
অনন্যা, এ সব স্বপ্নে তোমারও তো সায় ছিল ভোর
তুমিও তো চেয়েছিলে গজিয়ে উঠুক কিছু প্রথাগত ভুল
নীরব নাভির নীচে আঙুল ছোঁয়ানো মনে পড়ে
আমিতো প্রতিটি স্বপ্নে আহত হয়েছি আর বিলাপ করেছি
সতত বিলাপ শেষে মনে --ধুর শালা,ন্যাকামি ন্যাকামি কারুকাজ
নষ্ট করে চলে যাবো উদাস নদীর দিকে একা
সকলে কি একা দেখো. . .
সকলেই করে কিছু প্রথাগত ভুল
অনন্যা কামনা করি ভালো থেকো
মদমাংসে থেকো
বিভ্রম পেরিয়ে যত নত হবে খেয়ালী প্রেমিক
তাদের ঠকিও তুমি. . .তাদের কে বুদ্ধিশুদ্ধি দিও
প্রেমিক কাঙাল হয়. .স্বভাবত হাবাগোবা হয়
প্রত্যেক রাত্রির শেষে ভোর থাকে; যাকে বলে ভোর
অনন্যা,অছিলাটুকু,পুটুসঝোপের আড় থেকে
মনে পড়ে ! আমাদের দেখেছিল কোনো এক গ্রামীন বালক
কি ভাবে দাঁড়াবে তুমি তার কাছে
বিন্দুমাত্র লজ্জাও হবেনা ?
অনন্যা আহত করো
পরিনামে আহতই হবে
কেননা জীবন শুধু
ভালোবাসা ফেরাতে শেখেনি !
প্রতি রাতে নেভে যারা একদিন তারা মোমবাতি
অনন্যা আহত করো
একদিন লুটোবে ধুলোতে
প্রাগৈতিহাসিক স্বপ্ন আগলে রাখেনা আজ কেউ
অথচ নদীর বালি দুজনের স্নান দেখেছিল
সে সব বালির দেশে
দেখা হোক আবার কখনও
অনন্যা,বিদায় বলে পৃথিবীতে কোনো গাছ নেই
যে গাছের পাতা ঝরে সে গাছেই আবার সবুজ
দুঃখবোধ আমাদের ভালো লাগে
তাই মাঝে মাঝে তোমারই মতন কোনো ছায়াময় গাছ খুঁজে বসি
আসলে অনন্যা বলে কেউ নেই,ছিলনা কখনও
ছায়াকে আশ্রয় ভেবে অনন্যা ডেকেছি এতদিন. . .
এখনও নিকষ রাতে ভয় হলে
'অনু' বলে ডাকি
আসলে অনন্যা বলে কেউ নেই
এইমাত্র বলে গেলো-সাবেকী জোনাকি !

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কবিতা বিষয়ক গদ্য : অনিন্দ্য রায়

ন্যূনতম কবিতা lighght শুধুমাত্র এই সাতটি অক্ষর লেখার জন্য কবিকে দেওয়া হল ৭৫০ ডলার। আজ নয়, গত শতকের ষাটের দশকের মাঝামাঝি। পৃথিবীর সব চে দামী শব্দ। আর বিতর্ক এখানেই। শব্দ? কী অর্থ এর? আবার যিনি লিখেলেন তিনি তো একেই বলছেন কবিতা, এই কটি অক্ষরসমষ্টিকে। তা প্রকাশিতও হচ্ছে, সংকলনে নির্বাচিত হচ্ছে। একটা সাদাপৃষ্ঠার মাঝখানে lighght এইটুকু ছাপা, এইটুকুই, একে বলে কবিতা ? ম্যানহাটন শহরে তখন শরৎকাল।  সালটা ১৯৬৫। সে এক সন্ধ্যা। বছর  বাইশের এক যুবক নিজের টাইপ রাইটারে  lighght এইটুকুই টাইপ করেন। কী এটা? বানান ভুল, হ্যাঁ,  light  শব্দটির মাঝে এই দুটি ব্যঞ্জনবর্ণকে ঢুকিয়ে দেওয়া, আর তাতেই নাকি  ব্যঞ্জনা । শিকাগো রিভিউ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় কবিতা হিসেবে। এবং তা স্থান পায় The American Literary Anthology-র দ্বিতীয় খণ্ডে, অবশ্যই কবিতা হিসেবে। এই সংকলন সম্পাদনা করেন National Endowment of the Arts(NEA) –এর পক্ষে George Plimpton। NBA-এর সিদ্ধান্ত মতো সংকলনটির প্রত্যেক কবিই পান ৭৫০ ডলার। সেই হিসেবে lighght-এর রচিয়তাও।  শিকাগো রিভিউ নিজে২৫০ ডলার রেখে দেয় আর বকিটা পেলেন কবি। ম...

পাগল পাঠক (কবিতার পাগলামি)

কবিতার তুমুল পাগলামি কাকে বলে সেটা অনেকেই জানেন। তবুও কবিতার সীমাহীন পাগলামির জন্য কবিতার সমস্ত পাগলরা ফেসবুক বা মুখবই এ সার্চ করুন "পাগল পাঠক" পেজটি। এই পেজটি পাগল কবিতা পাঠকের নিজস্ব দুনিয়া। বন্ধুরা যারা পেজটি লাইক করছেন তারা নিজের প্রিয় কবিদের কবিতা পোস্ট করুন। অনুরোধ নিজের কবিতা পোস্ট করবেন না। বিস্তারিত জানতে ফেসবুকে পেজে আমাদের পেজে যান।

গদ্য কবিতা : সুকান্ত দে

ডাব তুই হয়তো বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছিস। চুপিচুপি একটু গা ঘেষে দাঁড়াই। যাতে তুই একটু ঠেস দিতে পারিস। তোর ফাইল ব্যাগ একটু ধরি। তুই বলবি -- আ : হাত দুটো একটু ছড়াই, বলে সত্যিই ছড়িয়ে ...