সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

দুটি কবিতা : স্বর্ভানু সান্যাল

১
মেখলা,তুমি

মেখলা, তুমি একলা বিকেলে আমার সাথে বৃষ্টিতে ভিজেছিলে
               মনে পরে?
মেখলা, তোমার হাতের নরমে আমার হাতকে আশ্রয় দিয়েছিলে
              যত্ন করে।

মেখলা, তুমি অষ্টমীতে নীল শাড়িতে আকাশ হয়েছিলে
                                                 মনে আছে?
মেখলা, তোমার কস্তুরী মৃগী গন্ধ পেতে আসতে চেয়েছিলাম
                                                 আরো কাছে।

মেখলা, তুমি স্নানশেষে খোলা চুলে কার অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিলে
                 জানালাতে?
মেখলা, সেই বৃষ্টিস্নাতা মিষ্টি তোমায় লুকিয়ে দেখেছিলাম
                                                 একা ছাতে।

মেখলা, তোমার ঠোঁটের নরম ঠোঁটে নিয়েছিলাম
                                        লুকিয়ে অন্ধকারে;
মেখলা, তোমার বন জোছনা রুপ চোখে হারিয়েছিলাম
                                         বারে বারে।

মেখলা, তোমার কাঠবিড়ালী-লঘু পায়ের আলসেমিতে
                                      নুপুর পরিয়েছিলাম;
মেখলা, তোমার জীবন সাথী হবার
                                      স্বপ্ন দেখেছিলাম।

মেখলা, তোমার চড়ুই পাখি চোখ
                        শান্তি দিয়েছিল
মেখলা, তোমার আলগা-খোঁপা বাঁধন খুলে
                        বৃষ্টি নেমেছিল

মেখলা, তুমি পারো নি শেষে হিসেব করতে গিয়ে
                                     আমার নারী হতে
মেখলা, তবে আজ কেন কাঁদো উপুড় হয়ে শুয়ে
                                   প্রতি রাতে?


২
স্বাধীনাকে


আজও তোর ছাদের বাগানে বোগেনভিলিয়া হয়ে ফুটি
     তোর আঙ্গুলের ছোঁয়া পাব বলে
আজও তোর ঠোঁটে সিগারেট হয়ে জুটি
     তোর ফুসফুসে কার্বন হয়ে জমবো বলে

আজও তোর হাতে গেলাস হয়ে তোর স্নায়ুতে, মস্তিস্কে মাদক হয়ে ছুটি,
     নেশাতুর ঘুমের রেশ
আজও সদ্য-গোঁফ-ওঠা কিশোরের চোখে মুগ্ধতা হয়ে ফুটি
     তোকে দেখি, নির্নিমেষ

বিয়ে বাড়িতে কতবার বাজারি বেলিফুল হয়েছি
     তোর চুলে জড়াবার জন্য।
গত এপ্রিলে মন্দারমুনিতে বালি হয়ে ছিলাম
     তোর পায়ের নগ্নতাকে চিনতে; বন্য,
তুই ব্যালকনিতে দাঁড়াস যখন, আজও বৃষ্টি কনা হয়ে
    তোর শরীরে আঁতিপাতি খুঁজি
        মাঝরাতে;
মেঘলা দুপুরে তুই যখন একলা উপুড়,
    তোর ঠোঁটের সব না-ফোটা-কথা বুঝি
        নিরালাতে;

তোকে জ্যোৎস্না জলে ভেজাব বলে আজও চাঁদ হয়ে উঠি
                     আকাশেতে
মানুষ নয়, অন্য কোনো শরীর নিয়ে কতবার সাজিয়েছি ঘুঁটি
                     তোর শরীর পেতে

তবু, “ভালবাসি” হয় নি বলা;
       পারিনি তোকে নিজের করে নিতে -
তুই নয়, প্রাণে ভয় ধরিয়েছে, তোর স্বাধীনতা;
       পারিনি আমার পুরুষতান্ত্রিকতাকে মেরে দিতে।

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কবিতা বিষয়ক গদ্য : অনিন্দ্য রায়

ন্যূনতম কবিতা lighght শুধুমাত্র এই সাতটি অক্ষর লেখার জন্য কবিকে দেওয়া হল ৭৫০ ডলার। আজ নয়, গত শতকের ষাটের দশকের মাঝামাঝি। পৃথিবীর সব চে দামী শব্দ। আর বিতর্ক এখানেই। শব্দ? কী অর্থ এর? আবার যিনি লিখেলেন তিনি তো একেই বলছেন কবিতা, এই কটি অক্ষরসমষ্টিকে। তা প্রকাশিতও হচ্ছে, সংকলনে নির্বাচিত হচ্ছে। একটা সাদাপৃষ্ঠার মাঝখানে lighght এইটুকু ছাপা, এইটুকুই, একে বলে কবিতা ? ম্যানহাটন শহরে তখন শরৎকাল।  সালটা ১৯৬৫। সে এক সন্ধ্যা। বছর  বাইশের এক যুবক নিজের টাইপ রাইটারে  lighght এইটুকুই টাইপ করেন। কী এটা? বানান ভুল, হ্যাঁ,  light  শব্দটির মাঝে এই দুটি ব্যঞ্জনবর্ণকে ঢুকিয়ে দেওয়া, আর তাতেই নাকি  ব্যঞ্জনা । শিকাগো রিভিউ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় কবিতা হিসেবে। এবং তা স্থান পায় The American Literary Anthology-র দ্বিতীয় খণ্ডে, অবশ্যই কবিতা হিসেবে। এই সংকলন সম্পাদনা করেন National Endowment of the Arts(NEA) –এর পক্ষে George Plimpton। NBA-এর সিদ্ধান্ত মতো সংকলনটির প্রত্যেক কবিই পান ৭৫০ ডলার। সেই হিসেবে lighght-এর রচিয়তাও।  শিকাগো রিভিউ নিজে২৫০ ডলার রেখে দেয় আর বকিটা পেলেন কবি। ম...

পাগল পাঠক (কবিতার পাগলামি)

কবিতার তুমুল পাগলামি কাকে বলে সেটা অনেকেই জানেন। তবুও কবিতার সীমাহীন পাগলামির জন্য কবিতার সমস্ত পাগলরা ফেসবুক বা মুখবই এ সার্চ করুন "পাগল পাঠক" পেজটি। এই পেজটি পাগল কবিতা পাঠকের নিজস্ব দুনিয়া। বন্ধুরা যারা পেজটি লাইক করছেন তারা নিজের প্রিয় কবিদের কবিতা পোস্ট করুন। অনুরোধ নিজের কবিতা পোস্ট করবেন না। বিস্তারিত জানতে ফেসবুকে পেজে আমাদের পেজে যান।

গদ্য কবিতা : সুকান্ত দে

ডাব তুই হয়তো বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছিস। চুপিচুপি একটু গা ঘেষে দাঁড়াই। যাতে তুই একটু ঠেস দিতে পারিস। তোর ফাইল ব্যাগ একটু ধরি। তুই বলবি -- আ : হাত দুটো একটু ছড়াই, বলে সত্যিই ছড়িয়ে ...