সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

গুচ্ছ কবিতা : মৃণালিনী

১
 বৃষ্টি



শ্রাবনের বৃষ্টির সঙ্গে বয়ে এল প্রেম
একটা ছাতার নীচে আমাদের জমাট বাঁধা 
উষ্ণ ভালোবাসা। কফি আর টান করা বিছানায় 
বিন্দু বিন্দু ছিটে আসা জল সেদিন ঘাম ধুয়ে দিয়েছিল।
জানালার কাঁচ লজ্জায় যখন ঘোলাটে
প্রেম পিপাসায় নিজেকে রাখিনি সমাজ বস্ত্রের মোরকে।



২
ভালোবাসা
 


জানোয়ারদের ভীরে একা
বৈশিষ্ট্যে নেই ফাঁক- ফাঁকা 
সকালের ফুটন্ত সূর্যের রঙ বাহারি আলো
অন্ধকার তার কাছে কুত্সিত কালো
সময় গড়িয়ে পোঁয়াতির ন'মাস
ভালোবাসা হাতের মোরকে মোরকে
দাঁত কেলিয়ে মনের উঁকি--
ইঙ্গিত দিয়ে যায় মন ভাঙার সম্ভাব্য ইতিহাস।



৩
বসন্ত দহন



দহন সাময়িক 
স্মৃতির তুষের সাক্ষী বসন্ত পলাস
ধোঁয়া আর বাস্প জমজ
আঁটোসাঁটো বাধা, 
দুকুলের পাপড়ি দোল
আগুনের শিখা
দুহাত বাড়িয়ে ডাকে
বসন্তের অনুরাগে?
পুরনো দহন, অভিনব শিরোনামে।



৪
ব্যর্থ প্রেমের চিতা



ঘড়ির কাঁটার টিক্ টিক্
হার্ট-বিট, যুক্ত তবে থেকে----
প্রথম দেখার বিন্দু বিন্দু ভালোবাসার
মুহূর্তগুলো ঠেস চাওয়া চিলেকোঠার বিছানায়,
রোদ্দুর মেঘ গড়িয়ে যাওয়া আঁচলে--- 
ছাঁদে পাপড়ি ঝরা লাল গোলাপ
আজও প্রতীক্ষায় স্মৃতি, কর্মের হাতছানি মরীচিকা
সময়ের খুনসুটি
চিলেকোঠায় নিঃসঙ্গ সুর,
সানাইয়ের সুরে গোলাপের গন্ধ মাখা শরীর 
আর টিক্ টিক্ শব্দ-- 
ফুলসজ্জা----
ব্যর্থ প্রেমের চিতা।



৫
অসহায় জিভের জড়তা



পাতার ভাঁজে এখন ভোরের গাঢ় অন্ধকারে 
টিয়ার লাল ঠোঁটের উঁকি ডেকে নেয় সূর্যকে
কাকের চিরকালের কা কা ধ্বনি 
রক্তের বুদ বুদে সূঁচালো ঠোঁটে শব্দ আর কলম
এক নতুন ভাষা---
আমাদের চেনা পরিচিত,
বোঝার এক রাশ ভান
কোঁচকানো চামড়ার অভিজ্ঞতাপূর্ণ স্বার্থের টান
হালকা ভাব হালকা কথা
সরল কথা চলিতে বলা
মন- দরজার পেছনে বিবেক লুকিয়ে রাখে
ভারী ভারী শব্দের স্টোররুম।এ
যখন নির্ধারিত সময়।
শুকুনেরা ওৎ পেতে আছে
ঘুমিয়ে গেলেই নিশ্চিত জয়।
রঙিন পৃথিবীর সবই ধূসর আজ থেকে
দাঁত কেলিয়ে হাসির জয়োৎসব
যদি একটি প্রাণ হতো, নিজের 
চিতা সাজাতাম সবার আগে।
হতে দিতাম না প্রিয়কে-
কঠিন মর্গের লাশ।



৬
ক্ষমার যন্ত্রণা



ক্ষমা করে দিয়েছে জাগতিক নিয়ম মেনে--
যেভাবে সূর্য ক্ষমা করে সন্ধ্যাকে
চাঁদকে। চাঁদের মোহময় জ্যোত্স্নায় বিভ্রান্ত মনগুলোকে
সূর্য তো নীরব সাক্ষী, দিনে আর্তনাদের।
বুকফাটা চিৎকার শুনে যদিও গীষ্মকে পাঠিয়ে 
সান্ত্বনা দেয় নিজেকে----
চাঁদ যেভাবে ক্ষমা করে সূর্যকে
যন্ত্রণার তাপের সঙ্গে সূর্যের তাপের জ্বালা 
দুটো তাপ--- ঠান্ডা করতে চায় রাতে
ভরিয়ে দিতে চায় জ্যোত্স্নার মহুয়া
কল্পনারা স্বপ্ন হয়ে দেখা দেয়----
চাঁদের আনন্দ মিথ্যা অনুরাগে 
স্বপ্নের নগরের রাজকুমার-- রাজকুমারী।
সূর্যের কাছে ইন্দ্র আর উর্বসী।
ক্ষমা করে দিয়েছি 
দেবলোকের কামুক রাজ্যকে, রাজ্যবাসীদের।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কবিতা বিষয়ক গদ্য : অনিন্দ্য রায়

ন্যূনতম কবিতা lighght শুধুমাত্র এই সাতটি অক্ষর লেখার জন্য কবিকে দেওয়া হল ৭৫০ ডলার। আজ নয়, গত শতকের ষাটের দশকের মাঝামাঝি। পৃথিবীর সব চে দামী শব্দ। আর বিতর্ক এখানেই। শব্দ? কী অর্থ এর? আবার যিনি লিখেলেন তিনি তো একেই বলছেন কবিতা, এই কটি অক্ষরসমষ্টিকে। তা প্রকাশিতও হচ্ছে, সংকলনে নির্বাচিত হচ্ছে। একটা সাদাপৃষ্ঠার মাঝখানে lighght এইটুকু ছাপা, এইটুকুই, একে বলে কবিতা ? ম্যানহাটন শহরে তখন শরৎকাল।  সালটা ১৯৬৫। সে এক সন্ধ্যা। বছর  বাইশের এক যুবক নিজের টাইপ রাইটারে  lighght এইটুকুই টাইপ করেন। কী এটা? বানান ভুল, হ্যাঁ,  light  শব্দটির মাঝে এই দুটি ব্যঞ্জনবর্ণকে ঢুকিয়ে দেওয়া, আর তাতেই নাকি  ব্যঞ্জনা । শিকাগো রিভিউ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় কবিতা হিসেবে। এবং তা স্থান পায় The American Literary Anthology-র দ্বিতীয় খণ্ডে, অবশ্যই কবিতা হিসেবে। এই সংকলন সম্পাদনা করেন National Endowment of the Arts(NEA) –এর পক্ষে George Plimpton। NBA-এর সিদ্ধান্ত মতো সংকলনটির প্রত্যেক কবিই পান ৭৫০ ডলার। সেই হিসেবে lighght-এর রচিয়তাও।  শিকাগো রিভিউ নিজে২৫০ ডলার রেখে দেয় আর বকিটা পেলেন কবি। ম...

পাগল পাঠক (কবিতার পাগলামি)

কবিতার তুমুল পাগলামি কাকে বলে সেটা অনেকেই জানেন। তবুও কবিতার সীমাহীন পাগলামির জন্য কবিতার সমস্ত পাগলরা ফেসবুক বা মুখবই এ সার্চ করুন "পাগল পাঠক" পেজটি। এই পেজটি পাগল কবিতা পাঠকের নিজস্ব দুনিয়া। বন্ধুরা যারা পেজটি লাইক করছেন তারা নিজের প্রিয় কবিদের কবিতা পোস্ট করুন। অনুরোধ নিজের কবিতা পোস্ট করবেন না। বিস্তারিত জানতে ফেসবুকে পেজে আমাদের পেজে যান।

গদ্য কবিতা : সুকান্ত দে

ডাব তুই হয়তো বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছিস। চুপিচুপি একটু গা ঘেষে দাঁড়াই। যাতে তুই একটু ঠেস দিতে পারিস। তোর ফাইল ব্যাগ একটু ধরি। তুই বলবি -- আ : হাত দুটো একটু ছড়াই, বলে সত্যিই ছড়িয়ে ...