অধম উবাচ
১
(মুনলাইট সোনাটা)
নতুন দুঃখে নতুন ভয়ে
এই নিশ্চিত এই সংশয়ে
কেমন আছ হে প্রিয় দুর্দিন?
পরিত্যক্তা বাড়ির জানলা
ফিকে হওয়া শাড়ি জামার আলনা
মাকড়সা জাল ধুলো কঙ্কাল
সমস্ত ঠেলে ভেসে আসে এক
নুয়ে পড়া কাঁধে বেজে ওঠা ভায়োলিন...
২
(আয়ে না বালম - বড়ে গুলাম আলি খান)
একতলা বাড়ি ভাঙা চৌকাঠ
উলঙ্গ রডে ঘুড়ি খায় লাট
ছাদ কে নিয়ে উড়ে পালাবার ইচ্ছে
বিকেলবেলার জ্বরগুলো সব
পালাচ্ছে, তারা সামনে এলেই -
নীচ থেকে যারা ঘুড়ি ও ছাদের
বেমালুম মজা নিচ্ছে....
৩
(জন্মেছি আমি আগেও অনেক - সুমন)
হে দুর্দিন হে প্রিয় জখম
আমি তো ভীতু, আমি অক্ষম
সেই ঘর থেকে বহু বহু দূরে
নিথর বসত করি...
তবু কী অলীক সাহস আমার
ইহজন্মের দেহ ছারখার
শ্যাওলায় মোড়া মুখটি ভাসলে ~
চলন্ত ট্রেনে বারবার উঠে পড়ি।
৪
(বাড়ির পাশে আরশিনগর - লালন ফকির)
মনে মনে ছেড়ে আসা পুরনো শহর
কাঁধে নুয়ে বাহুতেই লীন প্রান্তর
কামরায় বাউলের আরশিনগর
মিলে যাচ্ছিল ঘর রুগ্ন দু'হাতে
করাতের রাত আর শব্দে জখম
খাতা চিরে বের হওয়া আখরের যম
কবিতা খুঁটতে পাওয়া শোকানো মলম
আমি তো অধম, চলি তফাতে তফাতে...
বুকের ভেতর গাইছে লালন সাঁই
( মনেরে বুঝাতে আমার হল দিন...)
১
বুকের ভেতর গাইতে থাকেন লালন
নদী কি তোমায় বাড়িতে থাকতে বলে?
মনজুড়ে নেই বিন্দু লালনপালন,
ফিরবে না ব'লে ফিরছ যে অঞ্চলে
২
ফিরছ মানে যেভাবে ফেরে পাখিরা
পৃথিবীর মতো, - ফ্ল্যাটে তিনভাগ স্থল...
রুম নাম দাও, যে নামে ডাকে বাকিরা...
দুইবেলা স্নান বাথরুম জুড়ে জল....
৩
জল একভাগ, নদী থামে চৌকাঠে
কল ভেঙে গেছে, ভেসে চলে যায় সাবান
মগের নৌকা, জানলা নামের ঘাটে
নীল রঙা ছাদ - আকাশ... বলে - ভাসান!
৪
ভাসান তোমার দেবতার নাম চাই -
খড়ের শিরা, মাংস তৈরি কাদায়...
বুকের ভেতর তখন লালন সাঁই
কাঁদায় শুধু কাঁদায় এবং কাঁদায়
৫
কাঁদতে কাঁদতে একদিন সব থামে
মানুষ তো নয় ঝর্ণা কিংবা জল
গড়িয়ে পড়ছে পাথর,- ধুলোর নামে,
গাছেরা থামছে, এগোচ্ছে জঙ্গল...
৬
জঙ্গল জানে পথিকের বশ্যতা
একভাগ জল তিনভাগ পথ খায়
'আসছি' ব'লে যাদের ফেরার কথা
তারাই কেমন ফেরার হয়ে যায়!
যায়, যাবে, যাক, যাওয়ার জন্যে ঠাঁই...
ভাসান বলো আজ কী কী আর চাই?
বুকের ভেতর গাইছে লালন সাঁই
বুকের ভেতর গাইছে লালন সাঁই ....
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন