সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সিরিজ কবিতা : অনিন্দ্য কেতন গোস্বামী

অথঃ বস্তিনামা



১
পথের কাছে জিজ্ঞেস করে নেবো
ধুলোয় ধুলোয় পা রাখার নাম কি
মুখের বলিরেখা ?
আর পাশ ফিরে দেখে নেবো
পুতুলের গায়ে সেঁটে ছেলেবেলা
রঙ, বালিঘড়ি। ন্যাকা !
পাড়ার সাথে সেঁটে থাকা বাড়ে
উলঙ্গ ন্যাংটো চু-কিৎ-কিৎ বস্তি।
ছিনেজোঁক।
একদিনও শিখিনি তুমি আর আমি
ফলিত সমাজবিদ্যা। রাখিনি
দূরবীনে চোখ।

২
আমার মাথার উপরে খেলা করে
শব্দের সামিয়ানা
আর ঠোঁটের উপরে তুমি।
আমার বুকের উপরে চাপা
আজন্ম নিশ্বাস
পিঠে ছুপানো জন্মভূমি।

আমার চিন্তারা গোল বাঁধে
বিকেলের ঝরে আসা রোদে।
     আমার স্বপ্নেরা হেঁটে যায়
তোমার   প্রাত্যহিক চুল মুখ ঠোঁট
টেনে আনার সোদ বোদে।

আমার মাথার ভেতরে খেলা করে
এক আকাশ হাওয়া ,অভুক্ত চোখ
আর      পায়রাদের ছিঁটিয়ে দেওয়া দানা।
আমি কি করবো বলো—
আমার মাথার উপরে খেলা করে
ক্লাসিক শব্দের সামিয়ানা।

 

৩
আরাকটু বোস......
তোকে খুদ রান্নাকরে দেবো
পাথর সেদ্দ দিয়ে।
জানি      তোর পরানে চড়বড় করে
                       লক্ষ বছর ধরে
ঘটে যাচ্ছে পাথরের শল্কমোচন।
দধিচির হাড়ও ক্ষয়ে ক্ষয়ে বালি
হয়ে শুরু হচ্ছে তীব্র মরুঝড়।
     আরাকটু অপেক্ষা কর
             তুই একরত্তি।
পাথর সেঁদ্দ হলেই
ফুটপাথ উবে যাবে কর্পূর।
ঘর পাবি স্নেহময় সত্যি !
তোরা মায়াবিনী নোস
       আরাকটু বোস......
তোদের খুদ রান্না করে দেবো
পাথর সেদ্দ দিয়ে......

 

৪
মুক্ত হাওয়ায় চোখ জ্বালা করে ল্যাটপ্যাট
রাত ফুটপাথে ঘুমআসে বিনা ট্যাক্সে।
মাঝে মাঝে আসে কুহক আলোর বিন্দু
ধরে নিয়ে যায় সান্ধ্য মিডিয়া ম্যাক্সে।

হাত ছানি দিয়ে ডেকে নেবো তোকে বোনটি
সেলফির ফাঁসে মেপে নেবো তোর ন্যাংটো।
সুখ শেষহলে পথে ঠেলে দিয়ে হু...স্ মার
মারা গেলে তোর গড়ে দেবো মনুমেন্টো।

 

৫
শহরের শেষে ফেলে দেওয়া খুঁদকুড়ো
আর অবজ্ঞায় তোদের চোখের জল
ধাপার মাঠের থেকেও বিস্তার।
দৃষ্টি গুলো শুধু শহরকে বিদ্ধ করে
আর       আরবান ভ্যাপারকে করে জেরবার।
তবু পিঁচ থেকে পিঁচে প্রশ্ন ঝরে যায়
কত ঘনসেন্টিমিটারে
              হৃদয়ের ক্ষেত্রফল
ডুবে যাবে অশালীন চৌকাঠে ?
‘’আমার হৃদয় আজি নাচেরে আজিকে’’
বেজম্মাদের হাটে।

 

৬
আর একবার পায়ে হেঁটে চল
তীর্থ মন্দির দরগায়।
কতদিনে নিরম্বু থাকলে বলো
জীবন্ত দেবতা হওয়া যায় ?
কতদিনে বলো হাইড্রেন খুঁটে
তোমার দূরত্বে... তফাৎ ?
কতদিনে আর প্রচ্ছদে থেকে
পোষ্টারে বাজিমাৎ ?

 

৭
মোক্ষোম ফোকাস আমার, তোদের প্যাঁচার সহবাস
ক্লাসিক ফ্রেমে বন্দী হবি তোরা রেল খাঁদ- উল্লাস।
জানতেও পারবিনা কোন ভদ্র গ্যালারীতে ?
মৃতছবি হয়ে বাহবা নিবি তোরা কোনোএক বোবা শীতে।
গোপন প্রসংসা পাবি তোরা খুব খোলাবুক
আর ছবি তৈরীর হাত
জাতের মত আর্টিষ্ট এরা বস্তিরা মডেলের মত জাত।

শীৎকারে ভরে যাবে গ্যালারীর রাত আর ভাঙা বস্তি
তোরা যে ঘুমিয়ে আছিস
ঘুমিয়ে আছি আমিও-
এই শুধু জেনে যাওয়া স্বস্তি।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কবিতা বিষয়ক গদ্য : অনিন্দ্য রায়

ন্যূনতম কবিতা lighght শুধুমাত্র এই সাতটি অক্ষর লেখার জন্য কবিকে দেওয়া হল ৭৫০ ডলার। আজ নয়, গত শতকের ষাটের দশকের মাঝামাঝি। পৃথিবীর সব চে দামী শব্দ। আর বিতর্ক এখানেই। শব্দ? কী অর্থ এর? আবার যিনি লিখেলেন তিনি তো একেই বলছেন কবিতা, এই কটি অক্ষরসমষ্টিকে। তা প্রকাশিতও হচ্ছে, সংকলনে নির্বাচিত হচ্ছে। একটা সাদাপৃষ্ঠার মাঝখানে lighght এইটুকু ছাপা, এইটুকুই, একে বলে কবিতা ? ম্যানহাটন শহরে তখন শরৎকাল।  সালটা ১৯৬৫। সে এক সন্ধ্যা। বছর  বাইশের এক যুবক নিজের টাইপ রাইটারে  lighght এইটুকুই টাইপ করেন। কী এটা? বানান ভুল, হ্যাঁ,  light  শব্দটির মাঝে এই দুটি ব্যঞ্জনবর্ণকে ঢুকিয়ে দেওয়া, আর তাতেই নাকি  ব্যঞ্জনা । শিকাগো রিভিউ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় কবিতা হিসেবে। এবং তা স্থান পায় The American Literary Anthology-র দ্বিতীয় খণ্ডে, অবশ্যই কবিতা হিসেবে। এই সংকলন সম্পাদনা করেন National Endowment of the Arts(NEA) –এর পক্ষে George Plimpton। NBA-এর সিদ্ধান্ত মতো সংকলনটির প্রত্যেক কবিই পান ৭৫০ ডলার। সেই হিসেবে lighght-এর রচিয়তাও।  শিকাগো রিভিউ নিজে২৫০ ডলার রেখে দেয় আর বকিটা পেলেন কবি। ম...

পাগল পাঠক (কবিতার পাগলামি)

কবিতার তুমুল পাগলামি কাকে বলে সেটা অনেকেই জানেন। তবুও কবিতার সীমাহীন পাগলামির জন্য কবিতার সমস্ত পাগলরা ফেসবুক বা মুখবই এ সার্চ করুন "পাগল পাঠক" পেজটি। এই পেজটি পাগল কবিতা পাঠকের নিজস্ব দুনিয়া। বন্ধুরা যারা পেজটি লাইক করছেন তারা নিজের প্রিয় কবিদের কবিতা পোস্ট করুন। অনুরোধ নিজের কবিতা পোস্ট করবেন না। বিস্তারিত জানতে ফেসবুকে পেজে আমাদের পেজে যান।

গদ্য কবিতা : সুকান্ত দে

ডাব তুই হয়তো বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছিস। চুপিচুপি একটু গা ঘেষে দাঁড়াই। যাতে তুই একটু ঠেস দিতে পারিস। তোর ফাইল ব্যাগ একটু ধরি। তুই বলবি -- আ : হাত দুটো একটু ছড়াই, বলে সত্যিই ছড়িয়ে ...