সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

গুচ্ছ কবিতা : শ্বেতা চট্টোপাধ্যায়

১
পরিচয়

ছেলেটা যখন সাকুল্যে ছাব্বিশ,
কাজের জগতে মেলছে রঙিন ডানা;
রোজই এক সময়, কখনো উনিশ বিশ
আসা যাওয়া পথে মিঠে খুনসুটি থাক না..!

মেয়েটা তখন ভীষণ ব্যস্ত 'পড়া'য়,
অবিরাম চলে টিকে থাকবার লড়াই;
চঞ্চল মন প্রেমের গল্প শোনায়,
বাস্তব জীবনে যুক্তিজাল এর বড়াই...।

এমন ভাবেই চলল বেশ কিছুদিন;
দুই পক্ষই নিজের নিজের তালে..
হয়তো কোথাও  বকেয়া ছিল ঋণ,
বসন্ত বাতাস  স্বপ্ন ওড়ালো পালে...।

মেয়েটা লিখল আপন মনের কথা
সোজাসুজি আর সহজ শব্দবন্ধে;
ছেলেটার নেই আদতেই দায় কোনো,
স্বপ্ন ভাঙল আপন সময় ছন্দে....।

ব্যস্ত শহরে প্রতিটা গলির বাঁকে
কত সুখানুভূতি'র নিত্য জন্ম হয়;
মেয়েটা খোঁজে গোছানো স্মৃতির তাক এ
প্রিয় মানুষের প্রেয়সী'র "পরিচয়...।"

২
না সংসারী প্রেম

যখন তুমি কাজের মধ্যে
আমার থেকে অনেক দূরে,
তখন আমি স্বপ্ন সাজাই,
ছবি আঁকি যত্ন করে..।

যখন তুমি ঘোর সংসারী;
সকাল সন্ধে কাঁটায় মাপো,
তখন আমিও হিসেব করি,
আমার কথা কি একটু ভাবো?

যখন তুমি শেষ দুপুরে,
জড়িয়ে নেওয়া শীতের চাদর,
তখন আমি কমলালেবু,
নরম ঠোঁটে উষ্ণ আদর..।

যখন তুমি খুব কেয়ারিং;
ফুটফুটে এক মেয়ের বাবা,
কি যেন হয় বুকের ভেতর
জীবন বোধহয় মস্ত দাবা..।

যখন তুমি দিনের শেষে
সামলে চলো সমাজ বাঁধন,
আমার ভেতর গুমরে কাঁদে,
সূক্ষ্ম সুতোয় নিষেধ বারণ..।

যখন তুমি ভীষণ আবেগ;
মধ্য রাতের প্রেম, কবিতা,
তখন আমি সোহাগ তরী
ভেসে যাওয়াই স্বাভাবিকতা.।

যখন তুমি ঠোঁটের কোণে
মন ভোলানো চিলতে হাসি,
তখন আমি সেই আঠেরো
তোমায় ভীষন 'ভালোবাসি'..।

৩
একটু উষ্ণতার জন্য

কিচ্ছুক্ষন আগে মুঠোফোনে একগুচ্ছ অচেনা সংখ্যা ডেকে গেল আমায়,
কানে কানে বলল, 'বাইরের রাস্তায় অপেক্ষা করছি তোমার জন্য ;
আজ তোমাকে একটা অন্য পৃথিবীর ছবি আঁকতে দেবো....
'ঠিক' নাকি 'ভুল' বিচার না করেই বেড়িয়ে পড়তে ইচ্ছে করেছিল আমার..।

তারপর সেই অচেনা শরীর কে অনুসরণ করে চললাম আমি,
শীতের নিঝুম রাতে ঘুমন্ত রাস্তার গুলোর নিস্তব্ধ আর গা ছমছমে রূপ ;
একটু উষ্ণতার জন্য ঘেঁষাঘেঁষি করে কুকুরের সাথে মানুষের সহবাস,
ছোটো ছেলেটা ঘুমের ঘোরে আঁকড়ে ধরছে নরম একটা কিছুকে, একটু উষ্ণতার জন্য...।
নাহ্, ওদের মধ্যে কোনো পার্থক্য চোখে পড়ল না তো..!

বরং মনে পড়ল, গতকাল সোয়েটারের একটা বোতাম ছেঁড়া দেখে প্রচন্ড চিত্কার করেছিলাম,
যেন স্বভাবগত ভাবেই ওটা আমার জন্য নিখুঁত থাকার কথা ছিল,
একবারও মনে পড়েনি, ঐ বাচ্চাটার কথা...
তার ও তো একটু উষ্ণতার জন্য কমপক্ষে একটা নরম বিছানা পাবার কথা ছিল...!

৪
ডাউন মেমরি লেন

পুরোনো কে ফেলে নতুন আসে ফিরে
পুরোনোর নিয়মেই,
অনুসন্ধানী চোখ খুঁজে খুঁজে ফেরে
'ভালোবাসা' তোমাকেই..।
পথ জুড়ে আলো, কত আয়োজন
উত্সবে লোক মাতে,
নিঃস্ব মানুষ আঁচল বিছায়
শহরের ফুটপাথে...।
তবুও তো চলে ব্যস্ত সময়
প্রতিদিন তার ছন্দে ;
ওঠানো যায় না মনভাঙা দাগ
নতুন শব্দবন্ধে...।
একলা শহরে উড়ো কত স্মৃতি
আরও কত লেনদেন,
চমকে ফিরি তবু নতুনের ডাকে
'ডাউন মেমরি লেন...।'

৫
সেই উপহার টা

আজ তোমার জন্য তুলে রাখা আমার প্রিয়
উপহারের মোড়কটা খুলে রাখলাম,
অপেক্ষার ধুলো জমে জমে ক্রমশঃ
ভারি হয়ে উঠেছিল ওর নরম বুকটা,
যেখানে আমি রাত জেগে যত্ন করে
এঁকে দিয়েছিলাম তোমার নাম আর
আমার স্বপ্নপালকে মোড়া এক আকাশ শুভেচ্ছা..।

আজ আমার মতোই সেও খুব শান্ত ;
অপেক্ষার প্রহর গোনা শেষে
যখন পুরো অপেক্ষাটাই অর্থহীন হয়ে যায়,
তার অনুভূতি শুধু অপেক্ষমানই বোঝে...
কোথাও কোনো তাড়া নেই,একযুগ অখন্ড অবসর,
একটু কষ্ট করে মনে নিতে পারলেই হলো..।

আজ বড্ড হালকা লাগছে, অপেক্ষার রঙ মাখা
সাজানো বাসর ভুলে আজ বহুদিন পর
নতুন করে শ্বাস নেব আমি, দিনের পরে রাত..
আরও একটা জন্মদিন পেরিয়ে অনেক জন্মদিন,
ভালো থেকো তুমি, ভালো থাকুক
তোমার জন্য তুলে রাখা নির্দোষী সেই উপহারটা,
যে শুধুই তোমার কাছে পৌঁছতে চেয়েছিল....।

৬
এক বছর আগে

সেদিনও ছিল দিনটা এমন মেঘলা,
অগোছালো কথা চাদরের ভাঁজে দিব্য,
সময় চাইল, একটু থাকবে একলা,
বললাম বসো, তোমারই সঙ্গে থাকব..।

শব্দের পর শব্দ বসিয়ে যখন
খেলছি সে এক দুঃখ বিলাস খেলা,
সকাল গড়িয়ে দুপুর দুয়ারে কখন
বুঝিনি হয়তো  নষ্ট করেছি বেলা..।

মুঠোফোনে আসে সেই মানুষের 'বার্তা'
চেনা ছক থেকে সহসা পেলাম ছুটি,
যেই পথ দিয়ে শুরু হয়েছিল যাত্রা
সেই পথ বেয়ে ধাক্কা সামলে উঠি..।

জানলাটা আজও একই ভাবে খোলা আছে
নিয়মিত চাঁদ দেখা করে জোছনায়
একবার যদি ' তুমি' হয়ে কাছে আসতে,
বুঝতে 'ভালোবাসা' এভাবে ফেরানোর নয়...।

৭
দূরে থাকো

বোধহয় বড় হয়ে যাচ্ছি একটু একটু করে;
আজকাল, তোমার কাছে যেতে আমার কেমন ভয় করে..
মনে হয়, আমাদের শরীরের বাইরের শিরা উপশিরা আর অন্তঃস্থলের অনুভূতিরা ঢেকে রাখুক আসল আমি আর তুমিকে,
স্পর্শ বিহীন আভিজাত্যের আবরণ টুকুই
না হয় থাকল সম্বল..

দূরে থাকো মুহুর্ত'রা...
দূরে থাকো সান্ধ্য সেতুর আলোর মালা..
দূরে থাকো আমার পরিনত প্রেম,
আমার না ছুঁতে পারা চাহিদারা,
আমার ইচ্ছে তুলিতে আঁকা সেই সন্ধ্যেটা,
যার জন্য কত বিনিদ্র প্রহর গুনেছি অবলীলায়...

দূরে থাকো, আমার প্রিয় কবিতার কবি;
অটোগ্রাফ নাই বা থাকল কাগজের পাতায়...
দূরে থাকো আমার স্বপ্ন পুরুষ,
আমার ঘর গেরস্থালি'র বাসনারা...
একজীবনে দূর থেকেই জেগে থাক
আমার এক পৃথিবী কামনা বাসনারা...

আজকাল বড় ভয় হয়,
যদি কাছে গেলে তোমায় আর ভালোবাসতে না পারি..!
যদি আমার পেলব স্বপ্ন গুলো তীব্র কর্কশ আর বাস্তব হয়ে ধরা পড়ে আমারই দুচোখে ;
যদি তোমার স্বভাব সুলভ নৈমিত্তিকতায়
আমার নরম ভালোবাসা আর
যত্নে লালিত অভিভূতিরা আহত হয়..!

তার চেয়ে এই ভালো, দূরে থাকো মুহুর্ত'রা,
দূরে থাক আমার ইচ্ছে সুতোয় বোনা
সাতরঙা জীবনের গল্প রা, দূরে থাক সবটুকু,
কিন্তু জুড়ে থাক ভালোবাসায়....।

৮
পরশ

তোমার জন্য যখন সবচেয়ে বেশি পাগলামি করতে সাধ হয়,
যখন তোমার কথা ভেবে বৃষ্টির ফোঁটারা ভালোবেসে স্পর্শ করে আমার গাল,
তখন আমি এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ,
যখন তোমার জন্য আমার সবচেয়ে প্রিয় শাড়ি'টার ভাঁজ ভাঙি খুব যত্ন করে,
তখন একরাশ খুশিতে চলকে ওঠে আমার বুক ।
আমার ভাবনাদের দুচোখে তখন নতুন স্বপ্নের উড়াল,
ওরা বুনে চলে ওদের নতুন পৃথিবীর নকশা ।

আর যখন মাঝরাতে আমার না বলা কথারা আষ্টেপৃষ্ঠে আঁকড়ে ধরতে চায় তাদের একান্ত
আশ্রয়,
তখন কি তুমি এমনি করেই নিশ্চুপ থাকো ?
তোমার নির্বিকার মৌনতায়
তীরবিদ্ধ হয় আমার নরম অনুভূতিরা,
অস্থিরতা আর অপারগতায় ছটফট করে,
একপাশে পড়ে থাকে জমে ওঠা বার্তা'র স্তুপ হয়ে...
সেও তো আরও এক তুমি;
যার আপাদমস্তক উপেক্ষায় মোড়া...
আর এই দুই এর মাঝে দাঁড়িয়ে থাকি
আর এক আমি
নিশ্চুপে শুধু তোমাকে ছুঁয়ে থাকতে চাই বলে...।

৯
বর্ষাযাপন

মেঘ বলেছে যাব যাব
বৃষ্টি বলছে আড়ি,
অবাধ শ্রাবণ ভিজতে আসে
পুরোনো স্মৃতির বাড়ি ।

কোথায় যেন রাখা ছিল
এক পৃথিবী আশা,
খুঁজতে গিয়ে হারিয়ে ফেলে
না বলা ভালোবাসা ।

বৃষ্টি তখন দেখতো স্বপন
মেঘের মধ্যে থেকে,
সফল করার সাধ ছিল খুব
মেঘ যদি পাশে রাখে ।

এমনি করে কিছুদিন গেল
অলীক আশা নিয়ে,
বৃষ্টি শেষে হাত বাড়ালো
মেঘের কাছে গিয়ে ।

ক্ষেপেছিস তুই,পাগল নাকি ?
আমরা তো শুধু বন্ধু,
এক আকাশেই থাকলেই বুঝি
মিলতে হবে বিন্দু..!

আমার নেই তো কোনো ঠিকানা
ভেসে বেড়ানোই কাজ,
তুই যে কবে এমন হলি
নেই কি কোনো লাজ ?

চোখের পাতায় শ্রাবণ এলো,
অভিমানে মুখ কালো,
বলল বৃষ্টি নিজেই নিজে
যা হয়, তা সবই ভালো ।

তারপর সেই দুটো পথ যেন
কোন জীবনের বাঁকে,
মিলিয়ে গেছে,জানে না আজ
কোথায় কে যে থাকে ।

স্মৃতি গুলো তবু আজও আছে
আছে অঝোর শ্রাবণ,
মেঘ বৃষ্টি একাই থাকে
বুকের ভেতর বর্ষাযাপন...।

১০
স্পেস

মাঝে একটু ফাঁকা জায়গা,
ওটুকু বোধহয় বড্ড দামি;
হিসেবের ভুল সামান্য হলে
ছিটকে যাওয়া,আমি বা তুমি ।

কাজের ফাঁকে ছোট্ট কথা
রিমাইন্ডার বা বেস্ট উইশেস্;
এইটুকু তেই সব হয়ে যায় ?
'দায়িত্ব' নাকি শুধুই 'অভ্যেস' ?

সকাল, বিকেল আমার 'আমি'
স্বপ্ন শখের ঘুঁটি সাজাই,
মনের মধ্যে বসত করে,
আবেগ বনাম যুক্তি লড়াই ।

খুব কি চাহিদা ছিল আমার ?
চেয়ে তো ছিলাম শুধুই তোমায়,
একবার ভালোবাসলে পরে
চাওয়া, পাওয়া সব গৌন শোনায় ।

প্রথম প্রথম না জানি কেমন
ঘোর লাগত স্পর্শ সুখে
এখন বুঝি, 'স্পেস' বেড়েছে,
গতানুগতিক অভিমুখে ।

ভালো থাকতে দিলাম তোমায়
যেমনটা ঠিক তুমি চাইতে,
স্পেস দিতে দিতে কখন যেন
বাঁচতে শিখছি নিজের শর্তে ।

তবু কেমন আজব নিয়ম,
মন থেকে ফোন সবই তোমার,
আমি কেবল কান্না চাপি,
দিনের শেষে ঐ 'স্পেস' ই আমার ।

এত কিছুর মাঝেও বুঝি
ভালো থাকি এক ভাবনায়..
আশা কেবল কষ্ট বাড়ায়,
চেতনা বদলায় 'স্পেস' ভাবনায় ।

১১
পরকীয়া

অনেকদিন পর চোরা আনন্দের স্বাদ পেলাম,
সমাজ সংসার আর বাধ্যবাধকতার ভিড়ে
আমার যে একটা নিজস্ব 'আমি' আছে,
আজকাল তা একেবারেই ভুলতে বসেছি..!
দিনের শেষে আয়নার সামনে দাঁড়ালে
কাঁধের কাছে একটা ঘন নিশ্বাসের অস্তিত্ব টের পাই মাঝে মধ্যে,
কিন্তু, তারপর আমার কেজো পৃথিবীর সামনে
তাকে ভুলে আবার শুরু হয় সন্তুষ্ট করার 'অভিনয়' ।

আজ মাঝ দুপুরে একা পেয়ে পথ আগলে দাঁড়ালো সে,
চোখে চোখ রেখে বলল, 'আজ ছাড়ব না তোমায়' ক্রমাগত অভ্যেস এর দাসত্ব বন্দি আমিটা,
আজ যেন কেমন বেপরোয়া হতে চাইল ভেতরে ভেতরে...
মনে মনে বললাম, বেশ..তবে তাই হোক...!
আচমকা রাস্তার বুকেই শুরু হলো প্রবল আদর ,
আমার কপাল, চোখের পাতা, ঠোঁট
ভিজে যাচ্ছিল ওর তীব্র সোহাগে.....
আমি অনুভব করছিলাম আমার তন্ত্রীতে
সেই নতুন লয় আর তরঙ্গের অস্তিত্ব কে....
তবে যে সমাজ বলে,
মেয়েদের স্বামী,সন্তান আর সংসার ছাড়া
আর কোনো ভালোবাসা থাকতে নেই;
কই, আমার প্রেমিক বৃষ্টি তো সে কথা মানে না..!

১২
অন্য বসন্ত

লাল আবিরে হাত ছুঁয়েছে গাল
অনাস্বাদিত পূর্ব সে এক স্পর্শ;
অপেক্ষা কি তোমার ও ছিল তবে ?
আমিই বুঝিনি কোনটা বিরাগ, কোনটা যে হর্ষ ?

আলোকচিত্রে যে রঙ কথা বলে
সে রঙ আমি আমার মনেও চাই,
শহর জুড়ে দখিন হাওয়া বলে
তোমার সে রঙ কোথায় আমি পাই ?

এই তো দিলাম পলাশ টার ঐ গায়ে
আগুন রঙা পাগল করা পোঁচ,
ঝলসে যাওয়া জীবন নদীর নাও এ
চলতে থাকুক নতুন রঙের খোঁজ ।

আসুক আবার বসন্ত আজ নেমে
পুরোনো রাস্তা পাল্টে ফেলুক নাম;
একাকী বিকেল এবার পড়ুক প্রেমে,
ডাকবাক্সয় আসুক তোমার নামের খাম ।

আবার আমি বদলে যেতে রাজি,
তোমার দেওয়া নতুন রঙের সাজে,
ছিন্নবীণায় উঠুক সে সুর বাজি;
জীবন বাঁচুক প্রেমের পাতার ভাঁজে ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কবিতা বিষয়ক গদ্য : অনিন্দ্য রায়

ন্যূনতম কবিতা lighght শুধুমাত্র এই সাতটি অক্ষর লেখার জন্য কবিকে দেওয়া হল ৭৫০ ডলার। আজ নয়, গত শতকের ষাটের দশকের মাঝামাঝি। পৃথিবীর সব চে দামী শব্দ। আর বিতর্ক এখানেই। শব্দ? কী অর্থ এর? আবার যিনি লিখেলেন তিনি তো একেই বলছেন কবিতা, এই কটি অক্ষরসমষ্টিকে। তা প্রকাশিতও হচ্ছে, সংকলনে নির্বাচিত হচ্ছে। একটা সাদাপৃষ্ঠার মাঝখানে lighght এইটুকু ছাপা, এইটুকুই, একে বলে কবিতা ? ম্যানহাটন শহরে তখন শরৎকাল।  সালটা ১৯৬৫। সে এক সন্ধ্যা। বছর  বাইশের এক যুবক নিজের টাইপ রাইটারে  lighght এইটুকুই টাইপ করেন। কী এটা? বানান ভুল, হ্যাঁ,  light  শব্দটির মাঝে এই দুটি ব্যঞ্জনবর্ণকে ঢুকিয়ে দেওয়া, আর তাতেই নাকি  ব্যঞ্জনা । শিকাগো রিভিউ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় কবিতা হিসেবে। এবং তা স্থান পায় The American Literary Anthology-র দ্বিতীয় খণ্ডে, অবশ্যই কবিতা হিসেবে। এই সংকলন সম্পাদনা করেন National Endowment of the Arts(NEA) –এর পক্ষে George Plimpton। NBA-এর সিদ্ধান্ত মতো সংকলনটির প্রত্যেক কবিই পান ৭৫০ ডলার। সেই হিসেবে lighght-এর রচিয়তাও।  শিকাগো রিভিউ নিজে২৫০ ডলার রেখে দেয় আর বকিটা পেলেন কবি। ম...

পাগল পাঠক (কবিতার পাগলামি)

কবিতার তুমুল পাগলামি কাকে বলে সেটা অনেকেই জানেন। তবুও কবিতার সীমাহীন পাগলামির জন্য কবিতার সমস্ত পাগলরা ফেসবুক বা মুখবই এ সার্চ করুন "পাগল পাঠক" পেজটি। এই পেজটি পাগল কবিতা পাঠকের নিজস্ব দুনিয়া। বন্ধুরা যারা পেজটি লাইক করছেন তারা নিজের প্রিয় কবিদের কবিতা পোস্ট করুন। অনুরোধ নিজের কবিতা পোস্ট করবেন না। বিস্তারিত জানতে ফেসবুকে পেজে আমাদের পেজে যান।

গদ্য কবিতা : সুকান্ত দে

ডাব তুই হয়তো বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছিস। চুপিচুপি একটু গা ঘেষে দাঁড়াই। যাতে তুই একটু ঠেস দিতে পারিস। তোর ফাইল ব্যাগ একটু ধরি। তুই বলবি -- আ : হাত দুটো একটু ছড়াই, বলে সত্যিই ছড়িয়ে ...