সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

গুচ্ছ কবিতা : সুকান্ত ঘোষাল

১
পর্দার ফাঁক

নাকগলানোর অন্যের ব্যাপার
ভায়া মেনলাইন
        যখন
বুকসমান জলে দাঁড়িয়ে বুঝতে চাইছি
পায়ের ঠিক কোথা থেকে
      আলোগুলো জ্বলে ওঠে।

বাজনার চামড়ার মতো চলনসই
তিনচাকার বিবরণ
      গর্ত বাঁচিয়ে এগিয়ে গেল-

দু'কলম পরিস্কারের উপর ঝুঁকে পড়েছে
      সহজ-
             না থাকার চেয়েও
               
                    গুরুতর
     
      পর্দার কিছু অংশ ফাঁক।

২
জন্মদিন

আজ হয়তো বিশেষ কারো
জন্মদিন হবে-কিংবা কেউ হয়তো
নতুন করে বানিয়ে নিচ্ছে প্রসাবখানা-
কারণ পিছিয়ে পড়ার বাকি অংশে
আপনি দেখেছেন ভাঙা রেললাইন।

তাদের আকাশ খোলা-
তাদের বন্ধ গাছ-
চেয়ারের চার-পা সম্পর্কে অনুবন্ধ
বিকেলের ভোলা-মনে ধুয়ে যায় ড্রেন।

গোড়ালির উচ্চতায় শতকরা
নেমে এসেছে ছাদ- আর ছড়িয়ে পড়েছে
গতরাতের পোশাক, যেখানে রেখে এসেছেন
খিদেগুলির বিক্ষিপ্ত মাছি।

৩
হাসির গল্পের ঠোঁট


উপরতলার অদৃশ্যগুলোর হাঁটাপথ
মুদ্রিত দামের চেয়ে কিছুটা আড়ালে
          বুঝি অভ্যাস করেছে উদাহরণ-
দেয়ালে হাসির গল্পের ঠোঁট
          কয়েকবার বুলিয়ে দিয়ে দেখি

সিদ্ধান্তও চওড়া হয়ে গেছে।
               

৩
গোপন

যেগুলো খুলে দেখার আগে কিছুটা
         গোপন লাগে এদিক-ওদিক

ভিজে অংশ টিকিয়ে রাখতে
উপরটাই তৈলাক্ত রাখি-
         
          এই ঝাঁজ যা কিনা কাশির জন্য
          যথেষ্ট ছিল না।

৫
হৃদয়বিদারক

হৃদয়বিদারকের উপর ধুলো পড়েছে
দুপুরের নৈঋত, তখনও জিন্মা করিনি
          রুমালের কোণে
মৌনতার চেয়েও যেমন খুশি সাজো-

মুখ ভরতি বাতাসের পিছনে
মার্জনা করার মতো ধৃষ্টতা
        
         বের করে আনছেন পূর্বপুরুষ।

৬
ট্রায়ালরুম

দুপুরের কিছুটা স্যালাড প্রবণতা
কারণ লেটুস শাকের আন্তরিকতায়
কাঁকড়ার দাঁড়াটির কোন অনিদ্রা নেই।
       
মগজে রাজনীতি ঢুকে গেলে
          সব পাহাড়'ই হয়ে পড়ে পাথুরে

তাই আলো জ্বালানোর উদ্যোগে শার্পনেস
          বাড়িয়ে নিতে হয়।

চাহিদার ফ্রাইপ্যানে আরেকটি পকেটের দাবি
          তখন জরুরী ট্রায়ালরুম।

৭
আলপিন

মুখেই যখন বিঁধিয়ে দিলাম ভাবনাপাখি

হাওয়ায় আঁকি সমকোণী আমার কাগজ

রোজ বাড়ছে পাইপ ধরে সমান্তরাল সকাল

কিছুটা একাকী ভ্রমণ আলপিনে রসের প্যাকেট।

৮
কাচঠেলা ঘর

তবুও বায়ুর গায়ে রঙছাড়া দুরন্ত ভেলা

আমিও সেন্টিমিটার বিপ্রতীপে স্টিয়ারিং হই

লোশনের ভিজে ভিজে পা ঝুলিয়ে হুইলচেয়ার

দ্বিখন্ড ভাষাগুলি লার্ভার কাচঠেলা ঘর।

৯
দরজা

আমার চারপাশে যাবতীয় বৃত্ত একগুঁয়ে

টুপটাপ লালচে সড়ক ব্যাসার্ধে ঘুরে যায়

একরাশ মৌনমিছিল কেন্দ্রে সন্নিহিত তিনি

অথচ সুহৃদ সার্বজনীন একটিও দরজা রাখেনি।

১০
কাঁটা

ভিজে জামার ভিতর শুকিয়ে যাচ্ছে
       ভিটামিন-ডি
এখনই ক্রিয়ার কাল নামিয়ে আনার
       ইচ্ছে নেই আমার
কমলার খোসা খুলে দূরে যাচ্ছে স্বর্গ ।

এখানেই থাকতে পারতো -
পাখিদের জানালা-খেলা
সাইকেলের বেল...

যে ধ্বনিতে নদী নেই সেখানে কিছু ষড়যন্ত্র থাকে
যদিও খুঁজে পাচ্ছি না ,কাঁটা আছে
                   কাঁটা থেকেই যায় ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কবিতা বিষয়ক গদ্য : অনিন্দ্য রায়

ন্যূনতম কবিতা lighght শুধুমাত্র এই সাতটি অক্ষর লেখার জন্য কবিকে দেওয়া হল ৭৫০ ডলার। আজ নয়, গত শতকের ষাটের দশকের মাঝামাঝি। পৃথিবীর সব চে দামী শব্দ। আর বিতর্ক এখানেই। শব্দ? কী অর্থ এর? আবার যিনি লিখেলেন তিনি তো একেই বলছেন কবিতা, এই কটি অক্ষরসমষ্টিকে। তা প্রকাশিতও হচ্ছে, সংকলনে নির্বাচিত হচ্ছে। একটা সাদাপৃষ্ঠার মাঝখানে lighght এইটুকু ছাপা, এইটুকুই, একে বলে কবিতা ? ম্যানহাটন শহরে তখন শরৎকাল।  সালটা ১৯৬৫। সে এক সন্ধ্যা। বছর  বাইশের এক যুবক নিজের টাইপ রাইটারে  lighght এইটুকুই টাইপ করেন। কী এটা? বানান ভুল, হ্যাঁ,  light  শব্দটির মাঝে এই দুটি ব্যঞ্জনবর্ণকে ঢুকিয়ে দেওয়া, আর তাতেই নাকি  ব্যঞ্জনা । শিকাগো রিভিউ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় কবিতা হিসেবে। এবং তা স্থান পায় The American Literary Anthology-র দ্বিতীয় খণ্ডে, অবশ্যই কবিতা হিসেবে। এই সংকলন সম্পাদনা করেন National Endowment of the Arts(NEA) –এর পক্ষে George Plimpton। NBA-এর সিদ্ধান্ত মতো সংকলনটির প্রত্যেক কবিই পান ৭৫০ ডলার। সেই হিসেবে lighght-এর রচিয়তাও।  শিকাগো রিভিউ নিজে২৫০ ডলার রেখে দেয় আর বকিটা পেলেন কবি। ম...

পাগল পাঠক (কবিতার পাগলামি)

কবিতার তুমুল পাগলামি কাকে বলে সেটা অনেকেই জানেন। তবুও কবিতার সীমাহীন পাগলামির জন্য কবিতার সমস্ত পাগলরা ফেসবুক বা মুখবই এ সার্চ করুন "পাগল পাঠক" পেজটি। এই পেজটি পাগল কবিতা পাঠকের নিজস্ব দুনিয়া। বন্ধুরা যারা পেজটি লাইক করছেন তারা নিজের প্রিয় কবিদের কবিতা পোস্ট করুন। অনুরোধ নিজের কবিতা পোস্ট করবেন না। বিস্তারিত জানতে ফেসবুকে পেজে আমাদের পেজে যান।

গদ্য কবিতা : সুকান্ত দে

ডাব তুই হয়তো বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছিস। চুপিচুপি একটু গা ঘেষে দাঁড়াই। যাতে তুই একটু ঠেস দিতে পারিস। তোর ফাইল ব্যাগ একটু ধরি। তুই বলবি -- আ : হাত দুটো একটু ছড়াই, বলে সত্যিই ছড়িয়ে ...