সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

গুচ্ছ কবিতা : ছন্দক দাস

১
প্রেয়সী
                                           

চল কিছুটা রামধনু কুড়িয়ে আনি
তোর চুলে বিনুনী করে দেব ,
কুসুম পিঠ স্পর্শে ঝুলে থাকবে -
দুটো কাঁটাহীন গোলাপ গেঁথে দেব ভাঁজে ।
কালো দীঘি জলের সুরমা টেনে নিবি
আশমানী শাড়ি পরে তুই মনোহরী ,
কপলে টিপ পরাব একবিন্দু অস্তরাগ
নরম সবুজ গালিচা মাড়িয়ে তুই-আমি ।
গোধূলি আলোর আঁচল ঢাকে বুক
মৃদু হাসির ঝিলিক মুক্তা ছাড়ায় -
হালকা বাতাসের শীতল আমেজ
গা ঘেঁষে উষ্ণতা মেপে নেয় ;
লতার মত আষ্টে পিষ্টে জড়িয়ে দু-হাত ।
কতশত স্বপ্ন পাঁপড়ি মেলে শতদল
ভ্রমর সেথা গুঞ্জে নাবাগতের কামনায় ,
ইচ্ছেরা কাগজের নৌকা হয়ে ভাসে
স্থির জলে হওয়ার পালে , এলোমেলো ।
ক্ষনে ক্ষনে আদরস্পর্শে লজ্জাবতী
খুনসুটির ছলে দূরে ঠেলে -
আরও কাছে আসার আমন্ত্রণ বার্তা ;
সময় শোনে না কোনো কথা
আপন গতির ছন্দে সে ছন্দময় ,
ম্লান আলো ক্ষীণ হয়ে আঁধার ঘনায়
সারাদিনের গল্পেরা ডানা মেলে ঘরের ঠিকানায় ।

২
কবিতা তুমি
                               

কেটে গেছে অনেক রাত শূন্যতায়
তোমার অনুপস্থিতি বেদনা বিদীর্ণ
কুরে খায় অন্তর গহন -
দীর্ঘ প্রতীক্ষা উত্তরের প্রত্যাশায়
কড়া নাড়ে উচ্চস্বরে , ক্ষুব্ধ কণ্ঠ ।
দমকা হাওয়ার মত তোমার আগমন
জীবন লন্ডভন্ড ক্ষণিক মিলনে ,
কৃষ্ণপক্ষের চাঁদ তুমি , ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু
অমাবশ্যার রাত কাটে না আর -
নিকষ কালো ঘিরে ধরে আষ্টে-পিষ্টে
এলোমেলো পথে বিচলিত মন দিকভ্ৰষ্ট ।
তোমার অসীম আকাশে অপারগ খেচর
মরচে ধরা ডানা ঝাপটে তীব্র চেষ্টা -
তোমায় ছুঁয়ে দেখার অম্লান আকাঙ্খা
শক্তি জিইয়ে রাখে বাহু পেশিতে ।
স্পর্শনাতীত তুমি -
তৃষ্ণার্ত মরূপথিক হয়ে ছুটে চলি
একবিন্দু কবিতায় কণ্ঠ ভেজাতে ,
তোমার লুকোচুরি নতুনত্বের সন্ধান দেয়
পূর্ণতা আনে অন্তর দৃষ্টি দূরবীনে ;
তবু কেন আজও তুমি অধরা ?

৩
প্রতিবাদ
                                         

বোবা শব্দেরা শিখেছে বুলি
প্রতিবাদী সুর ঘনীভূত -
আত্মদর্পের টাইটানিকে ক্রোধহিমের ধাক্কা ,
অতলে তলিয়ে চূর্ণ অবশেষ ।
শোষণ শাসনের ডানা ছাঁটা , পঙ্গু স্বৈরাচার
আর্তনাদের সুনামি ভাসিয়ে নিয়ে যায় ।
উচ্চাসনে ভণ্ডবেশি পঙ্গপালদের রাহুগ্রাস
উপোষ পেট ভরে প্রতিশ্রুতির কথন
অন্ধকার ভবিষ্যৎ সর্বনাশের ক্যালেন্ডার -
শহীদ মৃত্যু হার মানে মৃত্যু সুরার সরোবরে
লাল-হলুদ কাগজ ধর্ষিতার ম্যাজিক মলম ।
মিথ্যা দারিদ্র প্রতীকী সততার বিজ্ঞাপন
ওরা-আমরা সরল মনে গড়ে বিভ্রান্তির পটভূমি -
আঙুল সংখ্যায় ঘুরে আনে মনোহর উপহার ,
এক যায় আরেক আসে , গড্ডালিকা প্রবাহে ফাঁসে ।
সময় এখন চোরকাঁটা উপড়ে ফেলার
উষ্মা আবেগ আগুন ধরায় প্রত্যুত্তর দ্যোতনে -
নিপাত যাক স্বার্থ্যান্নেশী স্বৈরাচারীর সাম্রাজ্য ।

৪
অনুরাগ
                           

তোর আগুন ঝরা চোখে
ধীর , অতি ধীরে জমা মেঘে
যখন বিন্দু বিন্দু বৃষ্টি নামে -
আমি তখন অনিয়ন্ত্রিত আবেগে !
লতার ন্যায় জড়িয়ে ধরে
মুছতে থাকি বয়ে যাওয়া -
অভিমানের আড়ালে সুপ্ত কষ্ট ।
ভাটির টানে সরে যায় সব ব্যাথা
ভেসে আসে এক অদ্ভুত নীরব খুশি -
কম্পিত ওষ্ঠে ফুটে উঠতে চায়
মনের অগোচরে থাকা কত স্বপ্ন ,
যে স্বপ্নেরা ডানা মেলতে অপারগ
ভালোবাসার অনন্ত আকাশের বুকে ।
ক্রমশ মুখোমুখি দুই নয়ন নিস্পলকে
কত মান অভিমানের হিসেব জমে ,
সব উবে যাবে আজ কর্পূরের মত
হঠাৎ এক অম্লান হাসির ঝলকে ।

৫
ও পুরুষ
                                    

ও পুরুষ , কোই গো -
এসো , এসো
আমায় ধর্ষণ করো !

আমি যে অষ্টাদশী যৌবনা ,
রূপ লাবণ্যে ঊর্বশী
যৌবনের প্রথম কদম ফুলে
আমায় ছিঁড়ে খাও -
তোমার সুধা রসের উপ সামগ্রী বানাও ।

আমি যে নারী ,
শত যন্ত্রণা-কষ্ট সহ্যের আড়ালে
নয় মাস দশ দিন পেটে ধরে
জন্ম দিয়েছি যে তোমায়
দেবে না তার প্রতিদান ?

বছরের পর বছর ভাই ফোঁটায়
ভগবানের কাছে করেছি যে
দীর্ঘ জীবনের প্রার্থনা -
দেবে না তার পুরস্কার ?

আমি যৌবনা হই কিংবা শিশু বা বৃদ্ধা ,
তাতে কি এসে যায় তোমার ?
সেই তো ছিঁড়ে খাবে আমায় ।
কখনো ভাই বা দাদা হয়ে
সবার অনুপস্থিতে ,
কখনও বা পিতা হয়ে
কোনো অন্ধকূপে লুকিয়ে রেখে ।

তুমি তো দেখ কেবল
রূপ - সৌন্দর্য্যের দেহ
ছাড় পায় না কেহ ,
কফিনের মৃতাও তাই আজ ধর্ষিত ।

৬
ধর রে
                              

ধর রে ধর
এবার তো ধর
দিক ভ্রস্ট তরীর হালটা ধর ;
কেউ তো এসে ধর
একে না হয় , দশে মিলে ধর ।
অরাজকতার টুঁটি টিপে
অন্যায়-অবিচারের ঘাড় ধরে
নেতিয়ে পড়া , পিছিয়ে পড়া
সমাজের অগ্রগতির রাস্তা ধর ।
যতদিন থাকবি চুপে অদেখার ভান করে
ততদিন রবি পিছে প্রতিবন্ধী মন নিয়ে -
ছাই চাপা আগুন হয়ে একবার জ্বলে উঠ
পুড়িয়ে ছারখার করে দে ভন্ড সমাজের মুখ ।
বেঁচে থাকার মত একদিন অন্তত বাঁচ
আয়ুতে নয় , নয় বয়সের সংখ্যায় -
বাঁচার মত বাঁচ সমাজিক সেবায় ।
ধেয়ে আসা প্রতিকূলতার ঢেউ চিরে
এগিয়ে যা ক্ষিপ্রতায় আমৃত্যু শ্বাস ,
মরণের পরেও রয়ে যাবি অমরত্ব নিয়ে
লড়েছিলিস একদিন যে দুর্বলদের হয়ে ।

৭
আর কতদিন ?
                                 

এ ভাবে আর কতদিন চলবে ?
শত সহস্র শহীদের বলিদান
এই ভাবে ধূলায় লুটাবে -
ঔপনিবেশিকাতার বদলে
রাজনৈতিক অত্যাচারের আবির্ভাব ,
জোর-জুলুম-খুন-ধর্ষণ-রাহাজানি
দিনের পর দিন ক্রমবর্ধমান !
জীবনের মূল্য এখন কাগজে
এই আছে এই নেই চোখের পলকে ।
সতীদাহ প্রথার বদলে নব রূপে
জন্ম নিয়েছে বধূ নির্যাতন ,
ভালোবাসার আড়ালে শরীর ভোগ
পণ্যসম চরিত্র বিকে যায় অবলীলায় ।
নিজের আখের গোছাতে গোছাতে
মা কে বেচে আসে কিছু কাগজের লোভে ,
কাম তাড়নায় উন্মাদ হয়ে ধর্ষণ করে
ছিন্ন ভিন্ন করে পালায় অপকর্মের কীর্তি ।
পণের জ্বালায় দগ্ধ হয়েছে কত শরীর
দড়ির ফাঁদে ঝুলেছে কত নিষ্পাপ দেহ ,
কত শত মূর্তির পায়ে মাথা ঠুকে জন্মানো
বংশপ্রদীপ একদিন পাঠায় বৃদ্ধাশ্রমে ।
এই সেই বলিদানের স্বাধীন মাতৃভূমি
যার সন্তানরা এখনও পায়নি মুক্ত বাতাস ;
কেবল এক হাত বদলে অন্য হাতের অধীন -
না না স্বাধীন নয় এ ভূমি আজও পরাধীন !

৮
পরিচয়
                                  

তুমি কে ?
কি বা তোমার পরিচয় -
মানুষ রূপে জন্মেছ বলেই মানুষ ?
নাকি মনুষ্যত্বের গুণ আছে বলে মানুষ !
দর্শনে নয় , শারীরিক গঠনে নয়
নয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মিলে ;
মানুষ হয় মান আর হুঁশ এই দুই নিয়ে ।
যন্ত্রণার পীড়া , ক্ষুধার জ্বালা -
বেঁচে থাকার লড়াইয়ে জীবন সংগ্রাম
সবই আছে পশু-পাখি আর মানুষের ;
তবে কি বা রইল তফাৎ পশুতে-তোমাতে ?
অর্থ পিপাসু মনের অর্থ লোভের আশায়
একের পর এক মনুষ্যত্বের বিকে যাওয়া ,
ভদ্রতার মুখোশে হিংস্রতার রূপ নিয়ে
আঁধার রাতে নারী দেহ ছিঁড়ে খাওয়া ।
এটাই কি মনুষ্যত্ব ?
নাকি মুমুর্ষ পথিকের দুঃখ-দুর্দশা-যন্ত্রণা
অদেখার ভান করে পাশ কাটিয়ে চলা ,
নিজেদের মধ্যে হিংসা-দ্বেষ ভেদাভেদ
ক্রমবর্ধমান বিবেক হীনতার পরিচয় -
মায়া-মমতা ভুলে নবজাতকের হত্যা
এ সব মনুষ্যত্ব ?
না না না , রূপে গুণে মানুষ হলেও
মানহীন হুঁশহীন জীব হয় না মানুষ ,
মনুষ্যত্বের জন্য চাই দয়া-মায়া-মমতা
আর ক্ষমাযোগ্য বিবেক-বিশ্বাসের মূল ভীত ।

৯
মরু-হৃদয়
                                        

মরুভূমি এই হৃদয়ে এক মুঠো মেঘ চাই
বৃষ্টি কণায় শীতল পাক পোড়া মনটা ,
তাতে আবার হোক নব প্রাণোদয়
ভরে উঠুক সবুজে সবুজে সাহারা ।
বেঁচে থাকার এই জটিল বাস্তুতন্ত্রে
তুমি হলে জীবন ধারক জলাধার -
আমি না হয় হলাম ভোরের শিশির কণা ,
প্রভাতের আলোর সাথে মিলিয়ে যাব হঠাৎ
অজানা এক দেশের অদৃশ্য এক ভিড়ে -
চেনা নামে ডাকতে ডাকতে তুমি পরিশ্রান্ত
এদিক ওদিক উঁকি বুঁকি দিতে আঁখি ক্লান্ত ,
আমি তখন পবনের তালে ঘুরতে থাকি -
ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসির ঝিলিক নিয়ে ।
জানি আবার আসব ফিরে চেনা রূপে
বাড়তে থাকা আঁধারে হিমের পরশে ,
টুপ করে ঝরে পড়ব কোন এক পত্রাগ্র বেয়ে ।

১০
প্রিয়া                                     
                                          

আমি তোমার আকাশে রামধনু হয়ে
তোমায় আবীর রঙে রাঙিয়ে দিতে চাই ,
ফুলসম সাদা মনটাকে সাতরাঙা করে
জীবনটাকে রঙীন করে সাজাতে চাই ।
যেথা স্বপ্নেরা আনমনে করে আনাগোনা
ছোট্ট ছোট্ট ইচ্ছেরা পাড়ি দেয় মেলে ডানা ,
স্মৃতিগুলো বেঁচে থাকে লাজুক নয়নে
ভালোবাসার রাজপ্রাসাদের দেওয়ালে ।
যেথা দুঃখ - কষ্টেরা লুকোচুরি খেলে
সুখ - শান্তির সাথে পেরে উঠতে পারেনা ,
মন কষাকষিগুলো ধোঁয়া হয়ে উড়ে যায়
খুঁজে নেয় কোন অসীমের ঠিকানা ।
চাওয়া - পাওয়াগুলি হাতে হাত ধরে চলে
নিরাশার সীমা ছেড়ে , নব ঊষার সূচনায় -
দুর্ভাগ্যের বিপদের ঝড় ঝঞ্ঝা হতে
বেঁচে থাকি প্রেমের নিশ্চিন্ত আস্তানায় ।
জানলা দিয়ে খুশির আলো ছড়িয়ে পড়ে
সোহাগ ভরা নরম চাদরের বিছানায় ,
গুনগুনিয়ে উঠে দুই মন একই তানে
প্রেম সুধা রসের মনোহর সেই সুরে ।
দিনগুলি কেটে যাবে সময়ের স্রোতে
ভেসে যাবো মোরা তারই সাথে ,
পাল তুলে স্বপ্ন তরীর দাঁড় বেয়ে
পৌঁছে যাব জীবন সমুদ্রের শেষ প্রান্তে  ।

১১
কাজের বৌ
                                
ওগো , শুনছ
আজ আবার এক ঝামেলা ;
কাজের বউয়ের নাকি আবার জ্বর ।
আমার হয়েছে যত জ্বালা
রান্না কর , টিফিন বানাও , খেতে দাও
এদিকে আবার এত বাসন জামাকাপড় ।
কি যে করি , কোনটা করি !
আর ভাল লাগেনা ।
আসবি না , কালকে বলতে পারতিস
এখন সকাল বেলায় , ৭ টা বাজে
জানানোর কোনো মানে হয় ?
মেমসাহেব আবার ফোন করে জানাচ্ছে
এদের ঢঙের আর শেষ নেই ।
এই তো দুদিন আগে
শরীর খারাপ বলে ছুটি নিল ,
ওদের কি মাসে দুবার করে জ্বর হয় নাকি ?
যত সব ফাঁকি বাজির দল ।
ও সব জ্বর - টর কিছু নয়
দেখ অন্য কোথায় কাজ ধরেছে ,
আর এই বেতনে পোষাচ্ছে না হয়তো
পরের দিন এসে বলবে -
দিদি বেতন বাড়াও , নইলে ছেড়ে দাও
এক - একটা পয়সা লোভী সব ।
ওদিকে আবার বসকে ফোন করি
দেখি , দেরি করে যেতে বলে কিনা ।
একা হাতে আর কত সামলাব বলত
আমিও তো একটা মানুষ , নাকি ?
সন্ধ্যে বেলা ,
জিজ্ঞেস করত ফোনে
কালকেও ডুব মারছে কিনা
না এলে তো আবার হয়ে গেল ।
উফ ! এদিকে কে আবার বেল বজায় ,
কিরে তুই ? তোর মায়ের খবর কি ?
কালকে আসবে , না ডুব মারবে ?
মা বিকেলে মারা গেছেগো
শেষের দু মাসের টাকাটা দাও ,
নইলে পোড়াতে পারবো নাগো কাকিমা ।

১২
স্মার্টফোন
                           

একটা স্মার্টফোন হব -
বেশ সুন্দর , অনেক দামি
সবার হাতে হাতে ঘুরে বেড়াব
কত যত্নে কত আদরে থাকব ।
ক্ষিদে পাওয়ার আগেই খেতে পাব
ভালো থাকার রক্ষা কবজ দেবে -
একটু খানি সাড়া দিলেই
ছুটে আসবে সব কাজ ফেলে ।
নিজের পোশাক নোংরা করে
আমায় রাখবে সর্বদা পরিষ্কার ,
সব কিছু ভুলে গেলেও -
ভুলবে নাকো আমায় একটিবার ।
গুপ্তধনের চাবি তালা থাক বা নাথাক
আমার থাকবে হরেকরকম বদ্ধ দ্বার -
পড়াশোনার ফাঁকে আমার সাথে
খেলা হবে বেশ কয়েক বার
ভুলে যাক অলিগলি আর খেলার মাঠ ।
রোগ - জ্বালার ভয়ে দিয়ে দেবে কত
এন্টিভাইরাস - ভ্যাক্সিন আর টীকা
মাঝে মাঝে আপডেটে বডি চেকআপ ,
মাথা ধরে গেলে অন্যের মাথা খারাপ ।
যতই থাকুক ক্ষতি করার সম্ভাবনা
আমায় ছাড়া এক পা-ও চলবে না ,
হাজার কাজের সাথে আমি সাথী
প্রেম প্রণয়ের মাঝে একটু খোঁচা-খুঁচি ।
জীবন নয় , আমিই হব সবচেয়ে দামি
আমায় সময় দিতে গিয়ে হয় হোক
নিজের চরম পরিণতি -

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কবিতা বিষয়ক গদ্য : অনিন্দ্য রায়

ন্যূনতম কবিতা lighght শুধুমাত্র এই সাতটি অক্ষর লেখার জন্য কবিকে দেওয়া হল ৭৫০ ডলার। আজ নয়, গত শতকের ষাটের দশকের মাঝামাঝি। পৃথিবীর সব চে দামী শব্দ। আর বিতর্ক এখানেই। শব্দ? কী অর্থ এর? আবার যিনি লিখেলেন তিনি তো একেই বলছেন কবিতা, এই কটি অক্ষরসমষ্টিকে। তা প্রকাশিতও হচ্ছে, সংকলনে নির্বাচিত হচ্ছে। একটা সাদাপৃষ্ঠার মাঝখানে lighght এইটুকু ছাপা, এইটুকুই, একে বলে কবিতা ? ম্যানহাটন শহরে তখন শরৎকাল।  সালটা ১৯৬৫। সে এক সন্ধ্যা। বছর  বাইশের এক যুবক নিজের টাইপ রাইটারে  lighght এইটুকুই টাইপ করেন। কী এটা? বানান ভুল, হ্যাঁ,  light  শব্দটির মাঝে এই দুটি ব্যঞ্জনবর্ণকে ঢুকিয়ে দেওয়া, আর তাতেই নাকি  ব্যঞ্জনা । শিকাগো রিভিউ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় কবিতা হিসেবে। এবং তা স্থান পায় The American Literary Anthology-র দ্বিতীয় খণ্ডে, অবশ্যই কবিতা হিসেবে। এই সংকলন সম্পাদনা করেন National Endowment of the Arts(NEA) –এর পক্ষে George Plimpton। NBA-এর সিদ্ধান্ত মতো সংকলনটির প্রত্যেক কবিই পান ৭৫০ ডলার। সেই হিসেবে lighght-এর রচিয়তাও।  শিকাগো রিভিউ নিজে২৫০ ডলার রেখে দেয় আর বকিটা পেলেন কবি। ম...

পাগল পাঠক (কবিতার পাগলামি)

কবিতার তুমুল পাগলামি কাকে বলে সেটা অনেকেই জানেন। তবুও কবিতার সীমাহীন পাগলামির জন্য কবিতার সমস্ত পাগলরা ফেসবুক বা মুখবই এ সার্চ করুন "পাগল পাঠক" পেজটি। এই পেজটি পাগল কবিতা পাঠকের নিজস্ব দুনিয়া। বন্ধুরা যারা পেজটি লাইক করছেন তারা নিজের প্রিয় কবিদের কবিতা পোস্ট করুন। অনুরোধ নিজের কবিতা পোস্ট করবেন না। বিস্তারিত জানতে ফেসবুকে পেজে আমাদের পেজে যান।

গদ্য কবিতা : সুকান্ত দে

ডাব তুই হয়তো বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছিস। চুপিচুপি একটু গা ঘেষে দাঁড়াই। যাতে তুই একটু ঠেস দিতে পারিস। তোর ফাইল ব্যাগ একটু ধরি। তুই বলবি -- আ : হাত দুটো একটু ছড়াই, বলে সত্যিই ছড়িয়ে ...