সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সিরিজ কবিতা : বিশ্বজিৎ বর্মন

সিরিজের কবিতা


১
থমকে থাকা ঘরের আঁচল বা মায়েদের খামভাঁজ
নিষিক্ত হতে হতেই হারিয়ে ফেলছে ফণা

যেভাবেই কাঁদো ফিকে হয়েই ফিরে আসে মার্চের বাসাবাড়ি

ছাপানো গ্রিলে আটকে থাকে পড়শির বিকেল বিকেল পাতাঘর
বা শান্তি শান্তি ওম জল তুমি কার বলো তো

২
সাইকেল ধ্বনিত হচ্ছে ক্ষুরধার বুকজুড়ে
বাজাতে শেখো বাজাও যেমন দূরদূরান্তর 

আস্তে আস্তে পালকের চুরমার দেখো শেখো কিভাবে
সাইকেল চালাতে চালাতে বয়স বেড়ে যাচ্ছে

গাছেদের মাটি নেই খুবলে দেখো গো ইস্কাবন
বেদেনী জ্বর নামাতে পারো 

তুমি বলো কিভাবে 
জ্বরের মুখে তুমি আগুনচুষ গো দিদিমণি 

৩
পাতা ওল্টাতে গেলেই ফোঁস করছে সাপেদের স্বভাব

বাষ্পগুলো জমতে জমতে 
আবার মিলিয়ে যাচ্ছে বাড়ির চারপাশে তখন সবাই ফুঁ দিচ্ছে

ঘোড়াদের পা থেকে যে বিকেলগুলো দৌড়তে গিয়ে আঙিনা পাচ্ছে

পোষাকুকুর খেতে না পেয়ে দৌড়তে দৌড়তে
ঘাড় খুলে ফেলছে পুরনো সাল

চায়ের ফুরসতে কাপ কাপ খেলছে আত্মা ও পাখিদের নরম অসুখ

৪
উপচে উঠলেই বাটি ভরে নিচ্চি হাতের তালুতালু শব্দ
বেঁচে উঠছি সফেদ গন্ধে গলেও যেতে দাও নি

জেব্রা ছুঁয়ে দিলে রাস্তার মাঝপথে থেমে আহা মন

পাড়ে পাড়ে ঘুমচ্ছিল সাপেদের নিঃশব্দ হাড় ও পেছন না ফেরা রোগ

৫
আড়চোখে তাকালে কাঁধে বীজগণিতের চুমু
কেউটে হয়ে খেলছে

জড়িয়ে ফেলো সাপের গায়ে গায়ে  
কত মার্চএপ্রিল কাঁটা এঁকে দিচ্ছে নুনভাত

গায়েহলুদ তোমারও হ'ক শেকড়বাকড়সহ অভেনের জিভ 
আলগা খুলে যাচ্ছে পিষে দাও

৬
সূচীপত্র ফেটে যাচ্ছে চিৎকারের মাঝামাঝি

কয়েকটি দাগ হলুদের ভাষা বুঝতে পারলেই গ্রামীণ হয়ে যাচ্ছে 
তোমার এক জোড়া স্তন বা মাই মহেঞ্জদারো 

বোতলের গভীরে নির্জনতম আত্মা ধীরেধীরে পাংশু ফসল
চুপ কন্যাদের গালে কেকের রঙবেরঙ আস্কারা নিয়ে ফিরছে

৭
জলের বুঝি অপমানিত হতে নেই, শুধুই যাওয়া নিচু নিচু নিচুই

আছে আছে আছে। পাপও আছে। তুমিই দেখো না শুধু
নিচু হয়ে গেলেই তো জলের পেট খসিয়ে দিলে গুরু 

আসাও তো হতে পারে বলো। বলো দিন ভেঙে গেলে
কী খাই কী মাখি গায়ে কী ক'রেই বা গেয়ে উঠি কীর্তন সাঁই 

৮
চার দেয়ালের গায়ে অট্টহাসিদের ছাপ ছাপ তুমি ফুটে আছো গো রাধে
নামতেও পারছ না দেখো পাতা হয়েই রয়ে গেলে চিরটাকাল

বদলে বাগান করো ফুল হ'ক প্রতিটি শুয়ে থাকা মানুষের খুলি আর কোমরের হাড়

আসলেও তোমার ছায়া বাধা রয়ে যাচ্ছে হ্যাঙ্গারের জিভে কিংবা ভাষায়

৯
ধ্রুপদীগামছা রাখো, আহামৃত্যু ফতুর ক'রে আব্বাসউদ্দিন 
ছিপগান গাইতে গাইতে তোমাকেই উপড়ে ফেলছে

মূর্ছা যাও, প্রিয়স্রোত ছুঁয়ে যাও গ্রামবাংলার ভেতর
নগরকীর্তন ঘুম ভাঙাচ্ছে তোমার, আমারও

১০
জানালা বেয়ে রোদপাখিদের পালক, হালকা দোষ পেয়ে 
ফের উড়ে যাচ্ছে সনাতনী

ঘুমন্ত নাভি গভীর হতে হতে তোমার হয়ে যাচ্ছে
ধারণ করো রাবণ, রাবণের গতিপথ 

১১
ইস্ গুলো গড়িয়ে পড়ছে, ধরো জবাফুল, টকটকে ফুটে থাকলো হাতে

নাড়াও জিহ্বা, সর্পাঘাত
নোনতা পাচ্ছ আমাকে, এভাবেও ইস, বলা যায় বলো

১২
আগলে রাখো চশমা, নজরদারি, কীভাবে ভেঙে ফেলছি 
নথ আর মাস্তুলঅভিশাপ

দেখো জাহাজ ফিরে এলো মুকুট ফিরিলো না
মুকুট থেকে খুলে যাচ্ছে পালক, সর্পাঘাত, স্মৃতিরোগ

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কবিতা বিষয়ক গদ্য : অনিন্দ্য রায়

ন্যূনতম কবিতা lighght শুধুমাত্র এই সাতটি অক্ষর লেখার জন্য কবিকে দেওয়া হল ৭৫০ ডলার। আজ নয়, গত শতকের ষাটের দশকের মাঝামাঝি। পৃথিবীর সব চে দামী শব্দ। আর বিতর্ক এখানেই। শব্দ? কী অর্থ এর? আবার যিনি লিখেলেন তিনি তো একেই বলছেন কবিতা, এই কটি অক্ষরসমষ্টিকে। তা প্রকাশিতও হচ্ছে, সংকলনে নির্বাচিত হচ্ছে। একটা সাদাপৃষ্ঠার মাঝখানে lighght এইটুকু ছাপা, এইটুকুই, একে বলে কবিতা ? ম্যানহাটন শহরে তখন শরৎকাল।  সালটা ১৯৬৫। সে এক সন্ধ্যা। বছর  বাইশের এক যুবক নিজের টাইপ রাইটারে  lighght এইটুকুই টাইপ করেন। কী এটা? বানান ভুল, হ্যাঁ,  light  শব্দটির মাঝে এই দুটি ব্যঞ্জনবর্ণকে ঢুকিয়ে দেওয়া, আর তাতেই নাকি  ব্যঞ্জনা । শিকাগো রিভিউ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় কবিতা হিসেবে। এবং তা স্থান পায় The American Literary Anthology-র দ্বিতীয় খণ্ডে, অবশ্যই কবিতা হিসেবে। এই সংকলন সম্পাদনা করেন National Endowment of the Arts(NEA) –এর পক্ষে George Plimpton। NBA-এর সিদ্ধান্ত মতো সংকলনটির প্রত্যেক কবিই পান ৭৫০ ডলার। সেই হিসেবে lighght-এর রচিয়তাও।  শিকাগো রিভিউ নিজে২৫০ ডলার রেখে দেয় আর বকিটা পেলেন কবি। ম...

পাগল পাঠক (কবিতার পাগলামি)

কবিতার তুমুল পাগলামি কাকে বলে সেটা অনেকেই জানেন। তবুও কবিতার সীমাহীন পাগলামির জন্য কবিতার সমস্ত পাগলরা ফেসবুক বা মুখবই এ সার্চ করুন "পাগল পাঠক" পেজটি। এই পেজটি পাগল কবিতা পাঠকের নিজস্ব দুনিয়া। বন্ধুরা যারা পেজটি লাইক করছেন তারা নিজের প্রিয় কবিদের কবিতা পোস্ট করুন। অনুরোধ নিজের কবিতা পোস্ট করবেন না। বিস্তারিত জানতে ফেসবুকে পেজে আমাদের পেজে যান।

গদ্য কবিতা : সুকান্ত দে

ডাব তুই হয়তো বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছিস। চুপিচুপি একটু গা ঘেষে দাঁড়াই। যাতে তুই একটু ঠেস দিতে পারিস। তোর ফাইল ব্যাগ একটু ধরি। তুই বলবি -- আ : হাত দুটো একটু ছড়াই, বলে সত্যিই ছড়িয়ে ...