সিরিজের কবিতা
১
থমকে থাকা ঘরের আঁচল বা মায়েদের খামভাঁজ
নিষিক্ত হতে হতেই হারিয়ে ফেলছে ফণা
যেভাবেই কাঁদো ফিকে হয়েই ফিরে আসে মার্চের বাসাবাড়ি
ছাপানো গ্রিলে আটকে থাকে পড়শির বিকেল বিকেল পাতাঘর
বা শান্তি শান্তি ওম জল তুমি কার বলো তো
২
সাইকেল ধ্বনিত হচ্ছে ক্ষুরধার বুকজুড়ে
বাজাতে শেখো বাজাও যেমন দূরদূরান্তর
আস্তে আস্তে পালকের চুরমার দেখো শেখো কিভাবে
সাইকেল চালাতে চালাতে বয়স বেড়ে যাচ্ছে
গাছেদের মাটি নেই খুবলে দেখো গো ইস্কাবন
বেদেনী জ্বর নামাতে পারো
তুমি বলো কিভাবে
জ্বরের মুখে তুমি আগুনচুষ গো দিদিমণি
৩
পাতা ওল্টাতে গেলেই ফোঁস করছে সাপেদের স্বভাব
বাষ্পগুলো জমতে জমতে
আবার মিলিয়ে যাচ্ছে বাড়ির চারপাশে তখন সবাই ফুঁ দিচ্ছে
ঘোড়াদের পা থেকে যে বিকেলগুলো দৌড়তে গিয়ে আঙিনা পাচ্ছে
পোষাকুকুর খেতে না পেয়ে দৌড়তে দৌড়তে
ঘাড় খুলে ফেলছে পুরনো সাল
চায়ের ফুরসতে কাপ কাপ খেলছে আত্মা ও পাখিদের নরম অসুখ
৪
উপচে উঠলেই বাটি ভরে নিচ্চি হাতের তালুতালু শব্দ
বেঁচে উঠছি সফেদ গন্ধে গলেও যেতে দাও নি
জেব্রা ছুঁয়ে দিলে রাস্তার মাঝপথে থেমে আহা মন
পাড়ে পাড়ে ঘুমচ্ছিল সাপেদের নিঃশব্দ হাড় ও পেছন না ফেরা রোগ
৫
আড়চোখে তাকালে কাঁধে বীজগণিতের চুমু
কেউটে হয়ে খেলছে
জড়িয়ে ফেলো সাপের গায়ে গায়ে
কত মার্চএপ্রিল কাঁটা এঁকে দিচ্ছে নুনভাত
গায়েহলুদ তোমারও হ'ক শেকড়বাকড়সহ অভেনের জিভ
আলগা খুলে যাচ্ছে পিষে দাও
৬
সূচীপত্র ফেটে যাচ্ছে চিৎকারের মাঝামাঝি
কয়েকটি দাগ হলুদের ভাষা বুঝতে পারলেই গ্রামীণ হয়ে যাচ্ছে
তোমার এক জোড়া স্তন বা মাই মহেঞ্জদারো
বোতলের গভীরে নির্জনতম আত্মা ধীরেধীরে পাংশু ফসল
চুপ কন্যাদের গালে কেকের রঙবেরঙ আস্কারা নিয়ে ফিরছে
৭
জলের বুঝি অপমানিত হতে নেই, শুধুই যাওয়া নিচু নিচু নিচুই
আছে আছে আছে। পাপও আছে। তুমিই দেখো না শুধু
নিচু হয়ে গেলেই তো জলের পেট খসিয়ে দিলে গুরু
আসাও তো হতে পারে বলো। বলো দিন ভেঙে গেলে
কী খাই কী মাখি গায়ে কী ক'রেই বা গেয়ে উঠি কীর্তন সাঁই
৮
চার দেয়ালের গায়ে অট্টহাসিদের ছাপ ছাপ তুমি ফুটে আছো গো রাধে
নামতেও পারছ না দেখো পাতা হয়েই রয়ে গেলে চিরটাকাল
বদলে বাগান করো ফুল হ'ক প্রতিটি শুয়ে থাকা মানুষের খুলি আর কোমরের হাড়
আসলেও তোমার ছায়া বাধা রয়ে যাচ্ছে হ্যাঙ্গারের জিভে কিংবা ভাষায়
৯
ধ্রুপদীগামছা রাখো, আহামৃত্যু ফতুর ক'রে আব্বাসউদ্দিন
ছিপগান গাইতে গাইতে তোমাকেই উপড়ে ফেলছে
মূর্ছা যাও, প্রিয়স্রোত ছুঁয়ে যাও গ্রামবাংলার ভেতর
নগরকীর্তন ঘুম ভাঙাচ্ছে তোমার, আমারও
১০
জানালা বেয়ে রোদপাখিদের পালক, হালকা দোষ পেয়ে
ফের উড়ে যাচ্ছে সনাতনী
ঘুমন্ত নাভি গভীর হতে হতে তোমার হয়ে যাচ্ছে
ধারণ করো রাবণ, রাবণের গতিপথ
১১
ইস্ গুলো গড়িয়ে পড়ছে, ধরো জবাফুল, টকটকে ফুটে থাকলো হাতে
নাড়াও জিহ্বা, সর্পাঘাত
নোনতা পাচ্ছ আমাকে, এভাবেও ইস, বলা যায় বলো
১২
আগলে রাখো চশমা, নজরদারি, কীভাবে ভেঙে ফেলছি
নথ আর মাস্তুলঅভিশাপ
দেখো জাহাজ ফিরে এলো মুকুট ফিরিলো না
মুকুট থেকে খুলে যাচ্ছে পালক, সর্পাঘাত, স্মৃতিরোগ
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন