যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো : শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আজ প্রথম আমি আমার এক প্রিয় কবির কাব্যগ্রন্থ নিয়ে আলোচনা লিখব। জানিনা কী লিখব আর কতটুকুই বা আলোচনা করতে পারবো! শ্রদ্ধেয় কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের "যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো"কাব্যগ্রন্থটি নিয়ে আমি আমার আলোচনা লিখছি।। 1983 সালে এই অসামান্য কাব্যগ্রন্থের জন্য কবি সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন। কবির এই অসামান্য কাব্যগ্রন্থটি বিশেষ কাব্য গুণে ভরপুর।এই গ্রন্থের নাম কবিতায় তিনি শুনিয়েছেন সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা যখন চাঁদ এবং চিতাকাঠ তাঁকে 'আয় আয়' বলে হাতছানি দেয়। কিন্তু এখানেই শেষ নয়,এছাড়াও এক গার্হস্থ্য পিছুটান যা কবিকে বলতে বাধ্য করেছেন--'যেতে পারি /যে-কোনো দিকেই আমি চলে যেতে পারি/কিন্তু,কেন যাবো? গভীর ভালোবাসায় তিনি সন্তানের মুখে চুমু খেয়েছেন।তিনি একাকী এই জগত্ সংসার ত্যাগ করে যেতে চান না।।তাই তো তিনি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে যেতে চান। "হাত পেতে দাঁড়িয়ে"কবিতায় এক দীন মানুষকে প্রার্থনা করিয়েছেন দু মুঠো অন্যের জন্য।"বলো, ভালোবাসো "কবিতায় কবি শুধুই ভালোবাসা পেতে চেয়েছেন। ভালোবাসা যতই হোক না কেন ছুঁচের মতন, বিদ্যুতের মতন। তিনি ভালোবাসাই পেতে চান, যে ভালোবাসায় অসুখ সেরে যায়। এই কাব্যগ্রন্থের বহু কবিতায় বিধৃত এক মৃত্যু চেতনা। কাব্যগ্রন্থের শেষ কবিতা "এপিটাফ"।এই কবিতার কয়েকটি পঙক্তি যা আদ্র ও সজল করে তোলে পাঠকের চোখ। কাব্যগ্রন্থের প্রতিটা কবিতাই পাঠকের মন ছোঁয়া। একজন পাঠক হিসাবে তাই প্রিয় কাব্যগ্রন্থটি নিয়ে দু-চার কথা লিখে ফেললাম। তাইতো এই সুন্দর গ্রন্থটি কবিকে আমাদের কাছে বারবার ফিরিয়ে নিয়ে আসে। কবিকে প্রণাম জানিয়ে আমি আমার ছোট্ট আলোচনাটি শেষ করলাম।ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন পাঠককুল।
কাব্যগ্রন্থ : যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো
লেখক : শক্তি চট্টোপাধ্যায়
প্রকাশক : আনন্দ পাবলিশার্স
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন