সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বই আলোচনা : সুকান্ত ঘোষাল

আমিষ নিরামিষ মিলিয়ে:কবি আফজল আলি
(অদৃশ্য বোধের উত্তর আধুনিকতা)


আমরা এখন এমন এক সময়ে হাজির রয়েছি যখন পঞ্চম শ্রেণির কোন এক ছাত্রকে 'অবসর সময়ে সে কী করে' এই প্রশ্ন করলে উত্তর আসবে সে কবিতা লেখে।অর্থাৎ কবিতা তার কাছে 'অবসর যাপনের সামগ্রী'। এখন টিকিট কাটার লাইনে, মাছের বাজারে, পুরোনো নোট বদলে নেওয়ার কাউন্টারে-প্রায় প্রতিটি জায়গায় মোবাইলে ঘাই মেরে ওঠে কবিতা। তা পাঠক থাক আর না থাক।

একালের কবিতা নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। তবে এক জায়গায় সবাই মোটামুটি একমত কবিতায় বদলে যাওয়া সময়ের কথা বলতে হবে। বদলে যাওয়া ভাষায়। তবে সে ভাষা যেন কলিদাসের (মহাকবির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি) আমলের না হয়। এই ধরণের কবিতাকে আমরা 'আপডেট' কবিতা বলছি।

এই সময়ের কীর্তিমান কবিরা এ বিষয়ে একই গাড়িতে সফর করেন। 'আমিষ নিরামিষ মিলিয়ে' -বইটি আপডেট কবিতার বইয়ের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কবি আফজল আলি বর্তমান সয়য়ের একজন উল্লেখযোগ্য কবি।

বইটিতে কবিতার সংখ্যা ৫৭।  মানুষের রোজকার জীবন থেকে তিনি খুঁজে এনেছেন অজস্র অদৃশ্যকে। তাদের শব্দ দিয়েছেন। রং দিয়েছেন। রস দিয়েছেন।যেমন " অর্জুন সম্পর্কে সেই পুরোনো কথাগুলো /কি আমার নসিবে লেখা নাই" (চলুন ফিজিক্স-এ) কিংবা "তাহলে আমি তোমায় হুমায়ুনের দাড়ির কথা শোনাবো"( মুঠ্ঠি মে দুনিয়া) এরকম অসংখ্য দৃষ্টান্ত দেখানো যায়।

কবিতার নামগুলিতেও তিনি প্রচলিত সংস্কার ভেঙেছেন। আবেগের খই ওড়ান নি। কয়েকটি দেখাতে চাই। "ক্লাইভের টর্চ", 'যুক্তির বাইরে আমি তো লিচুবাগান', 'শব্দের পিছনে পেট্রল দিয়েছি' ইত্যাদি। সাধারণত কবিরা যে সব শব্দে বশীভূত থাকেন ;কবি আফজল আলি সেই ধরণের শব্দ এড়িয়ে গেছেন সযত্নে।  আমাদের রোজকার ব্যবহৃত শব্দগুলিই তাঁর কবিতার প্রাণ। তাঁর কবিতার চিত্রকল্প, কবিতার মীমাংসা সবই বহুমাত্রিক, বহুরৈখিক। কিছু কিছু ভাব,কিছু কিছু বাক্য তিনি এমন সৃষ্টি করেছেন তাতে তাঁর কবিতাকে কোন বিশেষ সাল দিয়ে বাঁধা যাবে না। তার কবিতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাহিত্যের খোরাক হতে চলেছে এটা জোর দিয়েই বলা যায়।

এ রকম উল্লেখযোগ্য কিছু লাইন-
১|'শরীর একটি অন্ধকারে হাতড়ানো ব্যামো(জীবন)
২|'পাউরুটির জন্য ভিজে মানুষটি /গলা থেকে নামাচ্ছিল না গান(যতটা স্বপ্ন ব্যবহার হচ্ছে)

দেখুন, প্রথাগত কোন নীতি,ইজ্ম, বা ছেঁদো বিষয়কে নিয়ে ঘেঁটে 'ঘ' করার কোন চেষ্টা নেই।চেনা জানা বোধ, বিষয়, ধারণা - যেগুলো ছোঁয়া যায়না তিনি সেগুলোকেই টেনে বের করে এনেছেন আমাদের ভিতর থেকে। তাঁর কবিতা বর্তমান তথা আগামী সময়ের ল্যান্ডমার্ক হতে চলেছে তাতে সন্দেহ নেই।

বই : আমিষ নিরামিষ মিলিয়ে
কবির নাম : আফজল আলি
কবিতা পাক্ষিক থেকে প্রকাশিত
মূল্য : ৮০ টাকা

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কবিতা বিষয়ক গদ্য : অনিন্দ্য রায়

ন্যূনতম কবিতা lighght শুধুমাত্র এই সাতটি অক্ষর লেখার জন্য কবিকে দেওয়া হল ৭৫০ ডলার। আজ নয়, গত শতকের ষাটের দশকের মাঝামাঝি। পৃথিবীর সব চে দামী শব্দ। আর বিতর্ক এখানেই। শব্দ? কী অর্থ এর? আবার যিনি লিখেলেন তিনি তো একেই বলছেন কবিতা, এই কটি অক্ষরসমষ্টিকে। তা প্রকাশিতও হচ্ছে, সংকলনে নির্বাচিত হচ্ছে। একটা সাদাপৃষ্ঠার মাঝখানে lighght এইটুকু ছাপা, এইটুকুই, একে বলে কবিতা ? ম্যানহাটন শহরে তখন শরৎকাল।  সালটা ১৯৬৫। সে এক সন্ধ্যা। বছর  বাইশের এক যুবক নিজের টাইপ রাইটারে  lighght এইটুকুই টাইপ করেন। কী এটা? বানান ভুল, হ্যাঁ,  light  শব্দটির মাঝে এই দুটি ব্যঞ্জনবর্ণকে ঢুকিয়ে দেওয়া, আর তাতেই নাকি  ব্যঞ্জনা । শিকাগো রিভিউ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় কবিতা হিসেবে। এবং তা স্থান পায় The American Literary Anthology-র দ্বিতীয় খণ্ডে, অবশ্যই কবিতা হিসেবে। এই সংকলন সম্পাদনা করেন National Endowment of the Arts(NEA) –এর পক্ষে George Plimpton। NBA-এর সিদ্ধান্ত মতো সংকলনটির প্রত্যেক কবিই পান ৭৫০ ডলার। সেই হিসেবে lighght-এর রচিয়তাও।  শিকাগো রিভিউ নিজে২৫০ ডলার রেখে দেয় আর বকিটা পেলেন কবি। ম...

পাগল পাঠক (কবিতার পাগলামি)

কবিতার তুমুল পাগলামি কাকে বলে সেটা অনেকেই জানেন। তবুও কবিতার সীমাহীন পাগলামির জন্য কবিতার সমস্ত পাগলরা ফেসবুক বা মুখবই এ সার্চ করুন "পাগল পাঠক" পেজটি। এই পেজটি পাগল কবিতা পাঠকের নিজস্ব দুনিয়া। বন্ধুরা যারা পেজটি লাইক করছেন তারা নিজের প্রিয় কবিদের কবিতা পোস্ট করুন। অনুরোধ নিজের কবিতা পোস্ট করবেন না। বিস্তারিত জানতে ফেসবুকে পেজে আমাদের পেজে যান।

গদ্য কবিতা : সুকান্ত দে

ডাব তুই হয়তো বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছিস। চুপিচুপি একটু গা ঘেষে দাঁড়াই। যাতে তুই একটু ঠেস দিতে পারিস। তোর ফাইল ব্যাগ একটু ধরি। তুই বলবি -- আ : হাত দুটো একটু ছড়াই, বলে সত্যিই ছড়িয়ে ...