রাহুল গাঙ্গুলী : রবীন্দ্রনাথ-কল্লোল-হাংরি পার করে শূন্য বা শূন্য পরবর্তী বর্তমান দশকে দাঁড়িয়ে যে সব কবিরা এ সময়ে থেকেও সময়কে অতিক্রম করে আগামী বেশ কিছু বছর পরের সমাজমনস্কতা ও জীবন দর্শন বিষয়ে সচেতনতা গড়ার চেস্টা করছেন,এমন একজন কবি হলেন রাহুল গাঙ্গুলী। পূর্বসূরিদের দেখানো পথ সহজ না হলেও তাতে আলো প্রচুর। কবির নিজস্ব ব্যক্তিগত জীবন দর্শন বর্তমান সময়কে পেছনে ফেলে তার সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে যেন আগামী প্রজন্মের প্রশ্নের উত্তর। কবির নিজের কথায়- ‘আউট সাইড অফ দি সিলেবাস” এবং কথাটি কতটা সত্যিই তা রাহুলের ব্যক্তিগত জীবনে একটু উঁকি দিলেই বোঝা যায়- কোন রকম এসট্যাবলিসমেন্টের তোয়াক্কা না করেই নিজের মনের কথাকেই গুরুত্ব দিয়েছেন সবথেকে বেশি। তাই হয়তো কোন কোন কবিতায় কবির ব্যক্তিজীবনের শূন্যতা ছায়াপাত করলেও তীক্ষ্ণ ও তীর্যক লেখনি বর্তমান সমাজ, শিক্ষা, রাজনীতি, মিথ্যাচার, ভদ্র হবার পোষাকি ঢং - সব কিছুকেই যেন উলঙ্গ করে জন্মজাত মেকআপ ছাড়া আসল রূপ উঠে আসে বারবার তার কবিতায় । কবিতা পাক্ষিক থেকে প্রকাশিত- "নো- ম্যানস ল্যান্ড" বইটি অল্প সময়ের মধ্যেই কবি ও পাঠক মহলে সারা ফেলেছে, বইটি চারটি কবিতা গুচ্ছ- এক একটি প্রশ্নবোধক ও একই সঙ্গে উত্তর আর যার পেছনে লক্ষ্য করা যায় রাজনীতি- সমাজনীতি ও অর্থনৈতিক বিষয়ে সচেতন রাহুলের অতীত জীবন অভিজ্ঞতা। দ্বিতীয় গুচ্ছ কবিতা থেকে কয়েকটি লাইন তুলে দিলে পাঠকের বুঝতে সুবিধা হবে---
"আসলে রোদচশমায় দিনেও সন্ধ্যে
এক্স ইকুলাইস ইনফিনিট সময় হলে-
যে মারণ বীর্য নিষিক্ত করেছিল অনির্দিষ্ট জরায়ু।
সীমাহীন নো ম্যানস ল্যান্ডে জন্মান্তর নিশ্চিত
বলাৎকার আলোচনায় বর্জিত ঈশ্বর বা শয়তান।"
পরবর্তী কালে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতা বা 'মেন্টাল অ্যাসাইলাম' বিষয়ক কবিতাগুচ্ছে ফুটে ওঠেছে শূন্যতা জনিত বিকৃতবোধের প্রতি তিরস্কার যা পড়বার পর পাঠকের স্নায়ু তন্ত্রে উত্তেজনার সৃষ্টি করে, প্রকাশের ভাষা আপাত দৃষ্টিতে অশ্লীল বলে মনে হলেও তা ভাব প্রকাশের যথার্থ বাহন হয়ে উঠেছে 'তরুণ কবি' রাহুল গাঙ্গুলীর কলমে। লিখেছেন মৃণালিনী।
অ্যান্তোনিওনির ম্যাজিক ক্লাব
ফর্মুলা ওয়ান - স্ট্রেটকাট রিক্সা করে রোলা গাঁরো।
গতিবিদ্ধ ঝুমঝুমি। রেটেল স্নেক। ইয়ো ইয়ো ইয়ো।
ইথারিং তাপে - ভ্যানগঘের ছবি যদি ইঁদুরের তলপেট।
রেডবুক ও কমিউনিস্ট ইস্তেহার - পায়খানায় বন্ধক।
ট্যালকম ট্যালি - অহেতুক কালকেতু-ফুল্লরা।ফুঃ।
অ্যান্তোনিওনি - তোমার ক্লাবে যাব না।
মদ খেলে ওয়াক হয়।হিশি পায়।শব্দগুলোর ইচ্ছেমত।বিছানায় টুকরোটুকরো।স্তাবক ধর্ষক।।
প্রিয় পাঠিকা।দুদিন আগে কেন এলে না।
চুমু খেতাম অভিকর্ষ কপালে।
ইল্লে থুড়ি।জয়গুরু।পারলেই চেটেপুটে এঁটো থালা।
আইজ্যাক।চলে এসো ম্যাজিক ক্লাবে - উল্লাস।
২
পটলচেরা চোখ - পাঁচ ব্যাবহারে দোর্মা বানাতে চাই।
কৃষ্ণকলি কোন চূলোয় গেলে বলো তো।
খাইখাই।স্তন।বেলুন ফুটবল - মাপি না।১২ নম্বর।
ভাতার মেজাজে - ওরাও পেঁয়াজি চাট খাওয়ায়।
খাই - ভুলি।ভুলি - হাগিস্।আমবাগান - মুকুল।
অন্ধ হলেও শরীরটা তরমুজ ও ছুরি।
আঁচল খসালে - অ্যান্তোনিওনি তোমার শালা...
ঝাঁপতাল।উহো ওহো উইইইই...
উইং থেকে উঠে এসে গোওওওল...
ব্রেসিয়ার খুললেই - যুদ্ধক্ষেত্র।স্কার্ট খুললে মেমেন্টো
একটা বাওয়ালের তাজমহল বানালে - পুরোটাই টিকিট ব্ল্যাক।মেধাবী ছাত্র - গবেষনায় টেস্টটিউব ভিত্ - লালা ঝরছে স্যাঁতস্যাঁতে মেঘের যোনী থেকে।
৩
জড়ানো সন্দেহে চন্দনের বদনাম।
রেখেছো বেলোয়ারি আলো-আঁধারি চুমুক।
ইদানিং আমাকেও ভোগী হতে দাও - মানবো না ঝিনুক সহবাস।
ব্লা ব্লা ব্লা - বাফারিং আলোচনায় আনন্দ প্লাস পুড়কি দেয় - আহা মস্ত কবি - কত প্রেম জংশনে।
যে কবির মৃত্যু হলো যক্ষায় তাকে কেউ চিনলো না।
চিনলো না বমি বা রক্ত।পাম পাম ত্যারা রেরে ত্যারা।
হারমোনিকা ফুসফুস - সালোকের ছায়া কে করে লাদাখ্ অভিযান।
অ্যান্তোনিওনি - ম্যাজিক ক্লাবে বৃষ্টি নামাবো।
৪
ঝাঁকাচ্ছ।ঝাঁকাচ্ছ।ঝাঁকাচ্ছ।ঝমঝম রেলগাড়ি।
নাড়াচ্ছ।নাড়াচ্ছ।নাড়াচ্ছ।ভ্যানিশিং রঙবাহার।
পড়ছে।পড়ছে।পড়ছে।টু-পিস অলোকানন্দার বেলুন।
চৌচৌ।চিঁচিঁ।চমচম।আহা চামচ - গঙ্গাজলে চুম্বক।
অ্যান্তোনিওনি - এই যে এতো কথার ধুকপুক।
মুরগির ছটফট।পাঠা মন্ত্রের ঘ্যাচাং - তোমাকে পাঠাই।কখনো বিক্রি করো না কেন?
বুঝি।বুঝি।বুঝি।ঋ-মতে খোলাবাজার একটা প্যারাডক্স ছাড়া কিছু নয়।
এবারে নিশ্চিত - জমানো ক্ষতগুলো আপেক্ষিক আবর্জনার বস্তায় পিছমোড়া করে পাঠাবো।
যে মেয়েটির সাথে রাত শুয়েছিল - তাকেও নিয়ে যাব।
অ্যালঝাইমা হলে বেশ - প্রতিটা সঙ্গমেই কেবল সবুজ।
ওড়াচ্ছ।ওড়াচ্ছ।ওড়াচ্ছ।সেইসব আলাদিনের চিরাগ...
৫
ঘোর সকালেও মরাসাপটার জন্য মখমলি মেঘ।
বেহাত না হলে ডাবের খোলায় বিকেল মিশিয়ে খেলে - ক্ষতি নেই।
বিষ।বিষাক্ত।মন্থন।জটিলতা।স্নায়ুকোষ।
কুঁকড়ে - ভয়ে - ছয়ে - নয়ে - একছোবলে নুনঝালটক।।
ব্লন্ড সুন্দরি - লাক্স সাবান।আমি তাঁতাই মার্গো দিয়ে।ঝেড়ে উঠছে পহেলা নম্বরের ঈগল কুঁজ।
ল-লাল-লুডো-লিকার-লিলিপুট-কত মৌতাতে হলুদ তরল বলো।
অ্যান্তোনিওনি - ক্লাবের খরুচে বেডরুমগুলোর পর্দায় ফি সায়োনারা রঙ ছেটাও।টসেটসে তরমুজ গাল - একটাকার টমাটো হয়ে যাবে।
টংটংটং...ছুটি হলো নিষিদ্ধ ভাটবকার ইস্কুল।
৬
আলুকাবলি মেরামতে টু-ইন ওয়ান উচ্চতা।
পোড়া টায়ার - শিবলিঙ্গের মতোই টেকসই।
একটা ম্যাজিক চত্বর।হাঁ হাঁ।কঁক্কর কঁ।পমপম।
এতসব ভাষার চাপ - মগজ ধোলাইয়ে স্ক্র ও পেরেকের স্নায়ুযুদ্ধের কোলাজ।
কতোটা চু-কিতকিতে "ঘন্টা করবি" পেট ফাঁসানোর ফয়সালা।
ইন্ডিয়ানা লাল গ্যাস সিলিন্ডারটায় চালান অপসারণ এবং কোনো এক সকালে রেলকুমারির ব্যালাস্ট টুকরোটাকরা কুড়িয়ে - খামচি মারলে -
এ শম্মারও ডুগি পাল্টি।
অ্যান্তোনিওনি - কি হলো সদলবল মগজে?
হঠাৎ করে কেনই চুংচাং ক্লাব মেম্বারদের বেড়ে গেল এইএইডস্ বিষয়ক লাথখোরি সচেতনা?
কলার খোসায় পালস্ থিয়োরির লদকালদকি।
কাল ডিউটি যাব পোলিও পেপারমিলে - এখন কন্ডোমের লভেরিয়ায় ঘুমাই।
৭
লালচোখো সিন্দুকে ষোলোচোখি মাকড়শার লুবুলুবু অবশেষ - চারকোনা মাখন যৌনতায় বাষ্পীয় উল্কাজুড়ে পাথুরে জুজু।
একটা লিপরাস্তা মৌমাছি হলে - মন্দ হয় না।তবে - ব্রসিওর জুড়ে স্যালাইন নৌকা ঢেউতোলা টিউলিপ ফুলকেও ছাপিয়ে যায়।যেন ম-শব্দে মিউচুয়াল রাশি ও ডেসডিমনার লাট খেতেখেতে উচ্ছন্নে যাওয়া।আবলুশ সময়টা বড় জটিল অ্যান্তোনিওনি।
চাণক্য ছাপ পেন্সিল পরীক্ষায় ফেল করে।
বরাহ ছাপ চশমা ছানি কাটার দোকানে যায়।
নেহেরু ছাপ স্কার্ট কিন্ডারগার্ডেন স্কুলের টয়লেট।
রবীন্দ্র ছাপ মশলার প্যাকেট দিনেমানে পকেটমারি।
...আসলে একটা দূরবীনে সবকিছুই নেগেটিভে রাখা।
অতএব।সেলফোন।সেলোটেপ।সেলবাজি।সেলাই।
কষকষে সাদা।সাদাসাদা কষ।
মচমচে ঘুড়ি।ঘুড়িঘুড়ি কাঁচ।
ওরিজিনাল ব্ল্যাকবোর্ডে ক্লাবের ঠিকানাটা দিও।
একটা হুডখোলা নক্সিকাঁথার মাঠ সাথে নিয়ে যাব।
আর থাকবে ম্যাজিকাল নেশায় - ঘোলানো জল ও
কয়েকটা চাষির ভরপেট খাবারের ফসফরাস ছবি
কলমে রয়েছে যুদ্ধের ঘোড়ার টগবগানি.
উত্তরমুছুনভালোবাসা রইলো
মুছুনভালোবাসা রইলো
মুছুনধন্যবাদ দেবযানী দি
উত্তরমুছুন