সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

তরুণ কবির সাক্ষাৎকার : ইন্দ্রনীল তেওয়ারী

আমি আজও ছাপানো পত্রিকার পক্ষে : ইন্দ্রনীল তেওয়ারী

(প্রথম দশকের তরুণ কবি ইন্দ্রনীল তেওয়ারীর সঙ্গে রাখঢাকহীন আড্ডায় প্রথম দশকের আরেক তরুণ কবি শুভম চক্রবর্তী)




শুভম চক্রবর্তী : কেমন আছো কবি ইন্দ্রনীল তেওয়ারী?

ইন্দ্রনীল তেওয়ারী : কবি! কবে কে মোরে, শবদে শবদে বিয়া দেয় যেই জন। অ্যাঁ! এদিকে নিজেরই বিয়ে হচ্ছে না আবার বলছ ঘটকালি করি? এ আচ্ছা ঝকমারি। তবে আছি ভালো।

শুভম : কিছু লোক থাকে যারা আজন্ম কবিতায় নিবেদিত। আর কিছু লোক ঘরসংসার- চাকরি বাকরি সমস্ত গুছিয়ে কবিতা লিখতে আসে। তুমি দ্বিতীয় দলের লোক। এ ব্যাপারে তোমার নিরপরাধ স্বীকারোক্তিও প্রত্যক্ষ করেছি। কি বলবে এ বিষয়ে?

ইন্দ্রনীল : হ্যা। আমি দ্বিতীয়  দলের লোক। বস্তুত আমার মতে বাংলাভাষায় যারা কবিতা লিখবে তাদের আমি বলব আগে খাওয়া পড়ার একটা পার্মানেন্ট ব্যবস্থা করে নাও তারপর লেখ। দেখো এরকম বলার কিছু কারন আছে। একটা তো আন্দাজ করতেই পারো। কবিতা লিখে টাকা পয়সা নেই একেবারেই। অমূল্য বলে অ মুল্যে নেয় লোকে। এছাড়াও প্রধান কারন কিছু আছে। আসলে কবিতা একটা নিরবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া। আমার  মতে প্রতিটি মানুষের ভেতরে কবিতা চলতেই থাকে। এবার কবি শুধুমাত্র কবিতাটিকে প্রকাশ করতে পারে। পাঠক তার ভেতরের কবিত্ব দিয়ে কবির লেখা কবিতাটিকে আবার প্রকাশ করে। যতবার পড়ে ততবার প্রকাশ করে,এবং পাঠক এইভাবে বারবার সৃষ্টির আনন্দ লাভ করে। দেখেছ কি বকে যাচ্ছি। মোদ্দা কথাটা হল কবিতার শুরু বা শেষ হয় না। আজ লিখতে শুরু করলাম বলে আজ থেকেই কবি হলাম ব্যাপারটা এরকম নয়। অতএব আগে সবকিছু গুছিয়ে নাও, তারপর যদি তুমি প্রকাশ করতে পারো, কবিতা তুমি লিখবেই। কেউ আটকাতে পারবে না। আরও একটা ব্যাপার, মানুষের বেঁচে থাকার যে লড়ায় সেটাকে যদি পাশ কাটিয়ে যাও, তাহলে কবিতা লিখবেই বা কি করে? বেঁচে থাকার সংগ্রাম ষোল আনা না করলে কবিতা লিখতে পারবে না।

শুভম : কবিতা কি তোমার কাছে? যাপনের আটপৌরে দিনলিপি নাকি অদৃশ্যমান অনন্ত কুহক?

ইন্দ্রনীল : এই উত্তর টা মনে হয় আমি এখুনি দিলাম। দেখো একটি মাত্র মানুষের কাছে সৃষ্টির সবকিছু জেনে ফেলা অসম্ভব। ফলে যা তুমি জানো না তাইই তোমার কাছে অদৃশ্য মান অনন্ত কুহক। যেমন ধরো সামনের মানুষটা তোমাকে ভালবাসে কিনা জানো না। অতএব তার ভালবাসা তোমার কাছে ঐ কুহক। এবং তুমি ঐ কুহকের দিকে আকর্ষিত হচ্ছ। হয়তো বা কোন ছবি, গান বা কবিতার সাহায্যে তুমি তাকে দৃশ্যমান করে তুলতে চাও। এবং এগুলোই মানে ঐ ছবি , গান বা কবিতা অন্য আর্ট গুলো তুমি প্রাত্যহিক জীবনের দিনলিপি গেঁথে গেঁথে তৈরি কর।

শুভম : কেউ কেউ বলেন ইন্দ্রনীল খুব পলিটিক্যালি কারেক্ট থাকা মানুষ। ডালেরও খায়। শেকড়েরও খায়। তুমি এইসব প্রশ্নে উত্তর কিভাবে দেবে?

ইন্দ্রনীল : কে বলেছে হে এসব কথাবার্তা! আমাকে লিস্ট দিও, সকলের বাড়িতে গিয়ে একবার করে খেয়ে আসব। যা হোক, এটা একেবারী বাজে ইয়ার্কি মারলাম। ব্যাপারটা হচ্ছে ছোট থেকেই আমি বাঁদর। অতএব ডালেরও খাব তলারও খাব এইটা তো স্বাভাবিক।তবে কিনা পেট ভরা পর্যন্তই খাব। পকেটে করে নিয়ে যাওয়া আমার অভ্যাস নয়। আর সাথে দশজনকে নিয়েই যাবো খেতে।
আর আমার তো মনে হয় প্রতিটা সাধারণ মানুষের পলিটিক্যালি কারেক্ট হওয়ায় উচিত। নইলে পলিটিক্স যে ভুলটিকে তোমাকে বিনা দ্বিধায় বিনা প্রশ্নে মেনে চলতে বলবে তুমি অনায়াসেই এবং না বুঝেই সেটাকেই অনুসরন করবে এবং শেষ পর্যন্ত তুমি একটি ভিড়ের অংশমাত্র হয়ে যাবে। হয় সেটা উচ্ছৃঙ্খল হবে নয়ত বা একটি অন্যায়ের তীব্র সমর্থক হবে। এবং জেনে রেখো দুটোই সমান নৃশংস।

শুভম : ইন্দ্রনীল দা ক্ষেপচুরিয়াস ওয়েবজিন ও পত্রিকাকে কেন্দ্র করে তোমাদের মানে তুমি জুবিন ঘোষ মিলন চট্টোপাধ্যায় বানীব্রত কুণ্ডু উষসী ভট্টাচার্য আরও অনেকের চর্চার ধারাবাহিকতা গড়ে উঠেছিল।(যদিও চর্চা শব্দটি কবিতার ক্ষেত্রে কাপে বসে কিনা জানি না!)পরে তা ভেঙে যায়। মূলত জুবিনদাই একক প্রচেষ্টা ও আগ্রহে পত্রিকাটি এখনো বের করে। তোমরা নামমাত্র আছো, দূরে দূরে। এই ভাঙনের কারন কি? শঙ্খ বাবুর সেই পঙক্তি এক দশকে সঙ্ঘ ভেঙে যায়!” তোমাদের সঙ্ঘ ভাঙল কেন?

ইন্দ্রনীল : আমি যে সময়টা কবিতা লিখতে আসি সেসময় চারিদিকে খুব ই-ম্যাগ, ওয়েবজিন এসবের খুব রমরমা। একেবারে হৈহৈ কাণ্ড। তোমাকে আগেও বলেছি আমি ছাপা পত্রিকার পক্ষে। এক দুপুরে জুবিনের বাড়িতে আমি, বানী(বানীব্রত কুণ্ডু), মিলন(মিলন চট্টোপাধ্যায়), প্রসেন(প্রসেনজিত দত্ত), পার্থ(পার্থ প্রতিম রায়) এরা সকলে বসে ঠিক করি একটি পত্রিকা বের করব।
মূলত আমার সেসময়কার ভাবনাটুকু তোমাকে শেয়ার করি। আমার মনে হয়েছিলো অনলাইনে এতো এতো ছেলে মেয়ে লিখছে এবং দেখা যাচ্ছিল যে প্রতিটি লেখার অন্তত একটি সাধারণ পাঠক সবসময় থাকছে। মানে যেটাকে আমরা শুদ্ধ পাঠক বলতে পারি,সেরকম। এই সমস্ত লেখাকে যদি এক মলাটের ভিতর আনা যায়, তাহলে  প্রতিটি কবিতা লেখকের যে একটি সাধারণ পাঠক আছে সে আরও অন্যান সব লেখাকে পাবে। ফলে হয় তার তৃষ্ণা বেড়ে যাবে বা পরম প্রশান্তি পাবে। এবং এই দুটিই তো ভালো। এবং এতে পত্রিকা কেনার প্রবনতা বাড়বে। ক্ষেপচুরিয়াস না কিনুক অন্তত অন্য পত্রিকা তো কিনবে।
দ্বিতীয়ত ঐ যে বললে না সঙ্ঘ, এটা বললেই দল কথাটা মনে আসে আর তার সাথে দলবাজি, ঘোঁট শব্দগুলিও চলে আসে। আমি এই দলটায় ভেঙে ফেলতে চেয়েছিলাম। সঙ্ঘ ব্যাপারটায় থাকবে না, প্রতিটি নতুন কবি তার নতুন চিন্তাভাবনা নিয়ে এই পত্রিকায় এসে জুড়বে। হ্যা, তার নিজস্ব চিন্তাভাবনার জন্য আলাদা পত্রিকা বা ওয়েবজিন থাকুক, কিন্তু তার চিন্তাভাবনা যেন ক্ষেপচুরিয়াসেও যুক্ত হোক।
আর এখন মোবাইলে ডেটা ফ্রী হয়েছে, যদিও এই মুহূর্তে ফ্রী নেই। সেসময় ডেটা ব্যাবহার করা একটু খরচের ব্যাপার ছিল।নিদেন একটা ল্যাপটপ বা ডেক্সটপ লাগত, তার চেয়ে একটা পত্রিকা সস্তা ছিলই।
ফলত সঙ্ঘ ভেঙে যাওয়ার ব্যাপারটা হয় নি। যেটা নেই সেটা ভাঙবে কিসে? আমি সেসময়ও দুরে ছিলাম এখনো তাই। ক্ষেপচুরিয়াস পত্রিকাতে এমন অনেক কবি লিখেছেন যারা পরবর্তী কালে আর কোন পত্রিকাতেই লেখেন নি।বেশ কিছু ব্লগজিন বন্ধ হয়ে গেছে কিন্তু অনেক পত্রিকা ছাপা হয়েছে নতুন।
আমার মতে ক্ষেপচুরিয়াস পত্রিকা যেটা করেছে সেটা হল যারাই এই পত্রিকাই লিখেছে তারা তাদের সমস্ত স্বাতন্ত্র্য নিয়ে এই পত্রিকায় নিজের জায়গা পেয়েছে, পরবর্তী সময়ে তাদের দুরুন্ত মতবিরোধ কিন্তু এই পত্রিকাতে তাদের উজ্জ্বল সহাবস্থান।

শুভম : তোমার লেখার নিজস্ব কথন ভঙ্গিমা যেখানে- কবি অদৃশ্য কথক সেজে কথকতা শোনাতে শোনাতে কবিতায় লীন হন। এই আত্মবিলোপ কি আত্মবিলাপসঞ্জাত?

ইন্দ্রনীল : দেখো কবিতাটা আমার ভেতরে এসেছে বাবার হাত ধরে। অসম্ভব আবৃত্তি করতেন। ভোরবেলা ঘুম ভাঙার সময় প্রথমেই কিছু সংস্কৃত মন্ত্র ও তারপরেই নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ, বিদ্রোহী এইসব শুনতে হত।ফলে কবিতা আমার কাছে ঐ ভাবেই আসে। দুর থেকে ক্ষীন অথচ স্পষ্ট সুরে কেউ যেন বলে চলেছে। এইবার যে সময় আমি বড় হয়ে উঠছি সেই গোটা সময়টায় বড় গোলমেলে। যখন স্কুলে পড়ছি তখন বলা হল পৃথিবীতে IT প্রফেশনাল ছাড়া ভবিষ্যতে কোন ইঞ্জিনিয়ার থাকবে না। এরাই ভবিষ্যৎ। কলেজে ঢুকতে যাবো শুনলাম IT রা নাকি উদ্বৃত্ত। বেশী হয়ে গেছে। যাহ্‌ বাবা! আজব কাণ্ড। কলেজ থেকে বেরবো বেরবো করছি বলা হল যারাই কাজ খুঁজছে তারা সবাই উদ্বৃত্ত। গোটা দুনিয়া জুড়ে মন্দা। বোঝো! আমাকে লড়াই করতে হয়েছে। কিন্তু মনে মনে গুমরে গেছি তোমরা সবাই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলে, কেউ কথা রাখে নি। অতএব ক্ষীন অথচ স্পষ্ট সুরে বিলাপটুকু আমার থেকে যায়।

শুভম : নব্বই এর দশকের শেষ দিকে বা আরও স্পষ্ট করে বললে শুন্য দশকের কবিতা চিরন্তন কনসেপ্ট থেকে বেড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়া, মেট্রো ষ্টেশন, পানু মনস্কতায় লীন হল। তোমার লেখায় তার প্রভাব পড়েনি। তোমার লেখা ধ্রুপদী- ছন্দস্পন্দিত এবং চিরায়ত প্রেম- যৌনতায় আলো- আঁধারিতে মূর্ত। এই কৌশল কি সচেতন নাকি মফস্বলের মানুষের সংস্কার জনিত সীমাবদ্ধতা?

ইন্দ্রনীল : দেখো মফস্বল বা শহর,গ্রাম বা নগর এইসব শব্দ গুলো আমার ঠিক অচেনা। আমি যেটা বুঝি সেটা হল আমার ঘরে ইট কম মাটি বেশী,তোমার ঘরে মাটি কম ইট বেশী। যার ঘরে মাটি বেশী তার লেখায় শিশিরের শীতল থাকবেই আর যার ইট বেশী তার লেখায় তাপের দহন থাকবেই সে তুমি পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাক না কেন।
পলিটিক্যালি কারেক্ট থাকার কথা বলছিলে না! এতক্ষন বড় বড় উত্তর দিচ্ছিলাম, এটাতে কেমন ব্যাল্যান্স করে দিলাম!

শুভম : কবিতায় ছন্দের গুরুত্ব কতটা? ছন্দ শিখে তাকে অস্বীকার করার যৌক্তিক পদক্ষেপ, নাকি কিছুই না শেখার উন্নাসিকতা। ছন্দের ভূমিকা কি কবিতায়?

ইন্দ্রনীল : কোন বিষয় কে অস্বীকার তখনই তুমি করতে পারো যখন হয় সেটা তুমি জানো না বা সেটার কোন অস্তিত্বই নেই।যেটা জানো না সেটা অস্বীকার করা গোঁয়ার্তুমি আর যেটা নেই সেটা অস্বীকার করা সঠিক অবস্থান। পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘোরে এই ব্যাপারটা গ্যালিলিওর আগে অনেকেই অস্বীকার করেছে কেননা ব্যাপারটা তারা জানত না। আর এখন সবাই এটা অস্বীকার করে যে সূর্য পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরে কেননা ব্যাপারটার অস্তিত্ব নেই।
ছন্দের ভূমিকাটা অনেকটা গীটারের তারের মত। তারটা বাঁধা থাকে কিন্তু সুরটা মুক্তি পায়। বা ধরো বাঁশির ফুটোতে আঙুল ছাড়ার মত। উল্টোপাল্টা আঙুল তুললেই বেসুরো বাজবে, ঠিকঠাক আঙুল তুললেই সুর।
আমাকে আবার গীটার বা বাঁশি বাজাতে বোলো না। আমি বাজনা দুটোই মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনি। যে বাজায় সে কত এক্সপেরিমেন্ট করে কিন্তু দেখবে প্রপার টিউন না করে কেউ বাজায় না বা কেউ কিন্তু উল্টোপাল্টা আঙুল তোলে না। আর যে শোনে সে ততক্ষন শোনে যতক্ষন সুরে বাজে, বেসুরো বাজলেই উঠে চলে যায়।

শুভম : তোমার সময়ের কিছু কবিতা লেখক মনে করেন কবিতার ভাষা ও আঙ্গিক হবে আপডেটেড। যা পক্ষান্তরে, কিছু ইংরাজী শব্দের অপ্রয়োজনীয় প্রয়োগ। বাংলা কবিত কি এগোচ্ছে, ইন্দ্রনীল দা? এটাকে কি এগোন বলে?

ইন্দ্রনীল : যেকোনো ভাষার জাদুটা কি জানো। সে অন্য যেকোনো ভাষার শব্দ কে ফটাফট নিজের করে নেয়। এই জাদুটা যে যত সাবলীল ভাবে করে সে তত জ্যান্ত। শুধু ভাষা কেন যেকোনো সমাজ বা জনজাতির ক্ষেত্রেও এটা সত্যি। যেমন ধরো ফাদার দ্যতিয়েন কেমন ফটাফট বাঙালি। বা সিস্টার নিবেদিতা কি দুর্দান্ত বাঙালি। আমাকে ধরো। আমার এমন অনেক আত্মীয় আছে যারা একবিন্দু বাংলা  বোঝে না অথচ আমি তো বাঙালি। অতএব বাঙালি জাতিটা জ্যান্ত। ঠিক সেরকম ভাষাও। পথবাতি যতটা বাংলা শব্দ স্ট্রিট লাইট ও তাই। বাংলা ভাষার এই  ক্ষমতা রয়েছে। নিজে থেকেই নিজের ভেতরে নিয়ে নেবে। এবার যেটা হচ্ছে যদি তুমি জোর করে ঢোকাতে যাও, ভাষাটা নেবে না। আসলে জ্যান্ত তো। তোমাকে জোর করে খাওয়ালে তুমি কি খাবে? হয় বমি করে দেবে নয় ঘুশি চালিয়ে দেবে। এসব ক্ষেত্রে এটাই হচ্ছে, ভাষা ও কবিতাতেও।

শুভম : চিরকালীন কবিতা কি তোমার ধারনায়? সেটা খায় না মাথায় দেয়?

ইন্দ্রনীল : সরষে বা নারকেল তেল হলে দুটোই হবে। মানুষ আর প্রকৃতি এদের দুঃখ সুখ আনন্দ বেদনা এগুলোর অনুভব যে কবিতায় থাকে সেই কবিতা বারবার আসবে মানুষ আর প্রকৃতির সম্পর্কের ঘেরাটোপে। যেমন ধরো কবি বিকাশ গায়েনের একটি কবিতা বহুদিন আগে লেখা। সম্প্রতি কবি ইরম শরমিলা চানু যখন ভোটে দাঁড়িয়ে মাত্র পচানব্বই টা ভোট পেল তখন এই সফট স্পোকেন মানুষটির টুইটারে লেখা বার্তাটা পড়ার সাথে সাথেই দড়াম করে কবিতাটির প্রথম লাইন মনে এলো “এবার থেকে রোয়াব নিয়ে কথা বলতে হবে”

শুভম : তুমি একবার বলেছিলে আমি ছাপানো পত্রিকার পক্ষে”। কিন্তু এই সময়ের লেখালিখি অনেকাংশে ওয়েবজিন ফেসবুক শাসিত। তুমি কি পিছিয়ে পড়ছ কবি?

ইন্দ্রনীল : হ্যাঁ। আমি আজও ছাপানো পত্রিকার পক্ষে। দেখো টেকনিক্যাল লোক হয়ে আমি টেকনোলজির বিপক্ষে যাবো এটা তো হতে পারে না। আসলে দোষটা আমাদেরই। টেকনিক্যালি তীক্ষ্ণ হওয়ার লক্ষ্যে দৌড়তে গিয়ে আমরা রোবাস্ট বা শক্তসমর্থ হতে পারি নি। ধরো পেন্সিল ছুলছো। কাটারে ছুলতে পারো। পারফেক্ট শেপের পর পেন্সিল আর ছুলবে না। কিন্তু ধরো ব্লেড দিয়ে পেন্সিল ছুলছ। শিশ টা সরু করার লোভে ছুলেই চলেছ। একসময় দেখবে শিশটাও ভাঙল আর আঙ্গুলটাও কাটল। এতো হাঙ্গামের থেকে ভালো নয় কি পেন্সিল কাটার ব্যাবহার করা। খারাপ কাটারেও অন্তত হাতটা কাটবে না।
আর একটা কথা আন্দোলন সফল হয় সু শৃঙ্খল মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত যোগদানে। ভিড় কিন্তু নিরীহ পুলিশকে থানায় বন্ধ করে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। অসহযোগ আন্দলনের রেফারেন্স দিচ্ছি।
ফেসবুক টা প্রথমদিকে সুশৃঙ্খল মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত যোগদান ছিল এখন স্রেফ একটা ভিড় হয়ে গেছে। আর ভিড় মানেই গনপ্রহার, গন ধর্ষণ, গন হুমকি। এর ফেসবুকিয় শব্দগুলি হল ভাইরাল, ট্রোল ইত্যাদি। এই খতরনাক শব্দ গুলো আগে ছিল না কিন্তু।

শুভম : সোশ্যাল মিডিয়া, মানে মূলত ফেসবুককে কেন্দ্র করে অনেক তরুন তরুণী লেখালিখিতে আসছে। এর সুফল ও কুফল দুটোই আছে। কিন্তু বাজারী পত্রিকার একক ক্ষমতায়নকে ফেসবুক যে ধাক্কা দিয়েছে তা অসামান্য। তোমার কি মনে হয়?

ইন্দ্রনীল : হ্যাঁ। সোশ্যাল মিডিয়া স্বতঃস্ফূর্ততার  জোয়ার এনেছে। মানুষের কাছে পৌঁছেছে। যাকে তুমি বাজারী পত্রিকা বলছ সেও কিন্তু বেশী বেশী মানুষের কাছে পৌঁছেছে অনেকটা টেকনোলজি কে সম্বল করেই। তোমার কথামতো পরে এই টেকনোলজি ব্যাবহার করেই ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছে, তবে প্রসেস টা স্লো।  ফেসবুক যত দ্রুত স্বতঃস্ফূর্ততা এনেছে তার থেকেও দ্রুত মারমুখী ভিড় হয়ে গেছে এবং যাচ্ছে।

শুভম : তোমাকে সবাই প্রথম দশকের কবি বলে। দশক শব্দটিই ভীষণ নোংরা...অস্তিইত্ব হারানোর চিন্তায় ব্যাকুল একটি শব্দ। তো এই প্রথম দশককে যদি একটা সময়কাল ধরি তবে তার মধ্যে কাদের কাদের লেখা তোমায় টানে? এবং কেন?

ইন্দ্রনীল : দেখো পাঠক হিসাবে আমি কখনোই রেগুলার নই। যা পেয়েছি তাই পড়েছি। ফলে হয়েছে কি কবিতা বা লাইন মনে থাকলেও কবিতার নাম বা কবির নাম মাথা থেকে মুছে যাওয়ার একটা প্রবনতা তৈরি হয়েছে। তবুও বন্ধুবান্ধব দের কবিতা পড়তে ভালো লাগে। আর প্রত্যেকের কবিতা থেকেই আমি মূল ফ্লেবারটা ঠিক খুঁজে পাই। স্বাদের ব্যাপারে আমি কোন কম্প্রোমাইজ করি না।

শুভম : তোমার প্রিয় কবি কে? প্রিয় খাবার কি? প্রিয় বন্ধু কে? প্রিয় অভিনেতা কে ? প্রিয় অভিনেত্রী কে? প্রিয় পারফিউম? প্রিয় যৌনতা কি? দ্রুত উত্তর দাও।

ইন্দ্রনীল : বেশ দুজনের নাম করছি। এক জীবনানন্দ দাশ, যার কবিতা পড়েই এরকম বেমক্কা লাট্টু হয়েছি। দুই বিকাশ গায়েন, যার কবিতা পড়লেই মনে হয় এই কবিতা গুলো কেবল আমার আওয়াজেই মানায়।
আলুপোস্ত।
বন্ধুরা।
দুটো বলি। এক উত্তম কুমার। দেখলেই মনে হয়, হতে হলে এরকমই হতে হয়। দুই রাজ কাপুর। দেখলে মনে হয় আসলে এটাই আমি।
প্রিয় অভিনেত্রী ভাই একগাদা আছে। অত বলতে পারি না। ধরে নাও স্ক্রিন থেকে যে অভিনেত্রী আমার দিকে তাকায় সেই আমার প্রিয়।
পারফিউম যা অন্যের ভালো লাগে।
বহুত মজা না! বলব না , কি করে নেবে?

শুভম : ভাস্কর চক্রবর্তীর সেই বিখ্যাত লাইন--- “ কে চায় বিখ্যাত হতে গানবাজনা হোক”। বিখ্যাত হতে চাও নাকি চাওনা? নাকি নিতান্তই আঙুর ফল টক?

ইন্দ্রনীল : এই তো! বলছিলে না আপডেটেড। ভাস্কর চক্রবর্তী। বিখ্যাত লাইন। আমাদের স্বর্গ নেই স্যারিডন আছে। স্বর্গ আর স্যারিডন দুটো বিসদৃশ শব্দ কে একই পংক্তিতে বসিয়ে কোথায় উত্তীর্ণ করে দিয়েছেন!
যা হোক প্রশ্ন যেটা, ভারতবর্ষে আঙুর ফল বরাবর টক। যেটা মিষ্টি সেটা বিদেশে চালান যায়। বিখ্যাত হওয়ার শেষ নেই, পৃথিবীর তাবৎ লোক কোনদিনই তোমাকে চিনবে না। বরং কিছু টাকা পয়সা দাও। পত্রিকা করি। অনুষ্ঠান করি। নিদেন একটা ভালো কিছু খাব।

শুভম : লেখালিখিরি জগতে বিস্তর বাতেলা আছে। সাধনা টাধনা আছে। তোমার ভেতরের কবিতা পুরুশ্তি(এই ড়ে নারীবাদী নেই তো!) কি চায়? সাধনার বৈরাগ্যময়তায় ডুবতে অথবা চেখে নিতে জিন্দেগীর তাৎক্ষণিক রসদ?

ইন্দ্রনীল : রাজ কাপুর কে দেখলে মনে হয় ওটা আসলে আমিই। ওর একটা গান আছে- জখ্‌মো সে ভরা সিনা হ্যায় মেরা হাস্তি হ্যায় মগর ইয়ে মস্ত নজর। এবারে আমার চোখে দেখো আর বোঝো বৈরাগ্য নাকি রস।

শুভম : তোমার কবিতার বই কখন বেরচ্ছে? অপেক্ষা যে অন্তহীন লাগছে... কখন বেরচ্ছে গুরু?

ইন্দ্রনীল : কবিতার বই তো একটা প্রোডাক্ট যেটা বাজারে বিক্রী হবে। আমার ভালো লাগা আর হিসাব মত নিজের কিছু সৃষ্টিকে একজায়গায় নিয়ে আসব। এরপর যে প্রকাশ করবে সেও তার ভাললাগা আর হিসাব মত তাতে কিছু পরিবর্তন চাইবে। দুটো একজায়গায় মিলে গেলেই বেরিয়ে যাবে। নো চাপ।

শুভম : যাই হোক, অন্য আরেকদিনের আড্ডায় বসা যাবে ততদিন ভালো থেকো, মদমাংসে থেকো( যদিও তুমি মাংসাশী নও বস্তুমুল্যে, ভাবজগতে কতটা মাংস খাও জানিনা!) ভালো থেকো। আজ এই পর্যন্তই।

ইন্দ্রনীল : বটে! মদ আর মাংস দুটোতেই আমি নেই। হিংস্র মাতাল আমি হতে পারব না। হ্যা তবে যেদিন খুশি চলে এসো। বিকেলবেলা মোটামুটি ফাঁকা থাকি। কাজ কম্ম নেই বিশেষ।


কবি ইন্দ্রনীল তেওয়ারী - র কবিতা ও অনুবাদ


অ নু বা দ

গড়িয়ে পড়ছে জ্যোৎস্না  ||  বাবা নাগার্জুন

বটের পাতায় গড়িয়ে পড়ছে জ্যোৎস্না।
নর্দমার আদ্র পেটের উপর,পাশে
জমে যাচ্ছে,গুলে যাচ্ছে,গলে যাচ্ছে জ্যোৎস্না।
ঘরের পেছনে বোতলের ভাঙা টুকরোতে
চমকাচ্ছে,মাতাল হচ্ছে জ্যোৎস্না।

উঠোনে,দুব্বো ঘাসের উপর পড়ে
দ্যাখো কেমন নিজেকে সামলে নিচ্ছে জ্যোৎস্না।
বাড়ির পেছনে,ভাঙা বোতলের উপর
নাচছে,লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে জ্যোৎস্না।
দ্যাখো, ঐ সামনে
বটের পাতায় গড়িয়ে নামছে জ্যোৎস্না।

রুমাল  ||  রঘুবীর সহায়

আমার রুমালটা কোথায়?
কোথায় রয়ে গেছে?
আমি কি তাকে কোন চেয়ারে ফেলে এসেছি?
কত নোংরা ছিল রুমালটা!
রুমালটা দিয়ে আমি জুতা,নাক,ঘাম আর কলমের নিব
পরিষ্কার করেছিলাম।



ক বি তা

রাত

গাছের ছায়ার নীচে প্রতিবার এসে বসে চাঁদ।
মাটির নিচের থেকে উঠে আসে প্রিয় অন্ধকার।
একে একে খুলে রাখে নিজেদের আভরন যত।
দুজনেই ছুঁয়ে দেখে দুজনের ব্যাক্তিগত ক্ষত।

চাঁদের কোলের পরে মাথা রেখে ঘুমায় আঁধার।
সমস্ত শরীরে তার  কবেকার  পুরোনো আঘাত,
জ্বলন্ত চোখের মাঝে জমে থাকা ব্যাথাতুর জল।

চাঁদের ঠোঁটের ঘরে স্তিমিত জ্যোৎস্নার আলো,
শরীরের ভাঁজে ভাঁজে ঘন কালো কলঙ্কের দাগ।
গালের শুকনো পথে শিশিরের শীতল পতন

কবির সংসার

গাছে গাছে ঘুমিয়েছে ফুল।
শিশির পড়েছে ঝরে, ঘাসের গভীরে।
ভুলে গেছি যাবতীয় যন্ত্রণার কথা।

পারানির মাঝি আমি, কতকাল জেগে আছি একা।
পাথরের মত চোখে,শুন্য ফেটে ছুটে আসে জল।

এসো দেবী, ঘাটে এসো, বাঁধা আছে নাও।
ধর হাত, উঠে বস নৌকাতে আমার

শব্দের তরণী নিয়ে বসে আছি একা

মন্তব্যসমূহ

  1. পড়তে ভালো লাগলো। প্রশ্ন বাছা হয়েছে খুব সুন্দর

    উত্তরমুছুন
  2. বাহ, এটা একটা দারুণ কাজ হয়েছে। কদিন আগেই আমি লিখেছিলাম একটি লেখাতে যে ইন্দ্রনীল নীলম তেওয়ারী এমন একটা কাজ করে চলেছে বহুদিন থেকে যার সন্ধান আমাদের তথাকথিত মোড়ল সাহিত্যিকরা রাখেন না। তাঁরা তাঁদের টার্ম চালু করাতেই বেশী আগ্রহী। অথচ ইন্দ্রনীল যখন ওর সাথে দেখা হয় প্রথম রবীন্দ্র সদনে, প্রায় বছর তিন চার হবে, সেই সময় থেকে হিন্দি ভাষা নিয়ে যে কাজ করে চলেছে তা অতুলনীয়। হিন্দির প্রতি আমাদের একটা স্বভাবগত বিদ্বেষ আছে রাষ্ট্রভাষা বলে। এবং আশ্চর্য মানসিকতা কাজ করে যে হিন্দি শব্দ মিশলে বাংলা ভাষা অপবাংলা হয়ে যায়। এ যে কি নির্বোধের ধারণা কি বলবো। পর্তুগীজ মিশলে কিছু হয়না, ফ্রেঞ্চে আকাদেমী বললে জিভ লকলক করে আর হিন্দি মিশলেই তা "লোয়ার ক্লাস"...... যাই হোক গে, এই করে যে ভাষাটির সাথে আমাদের সর্বাধিক যাপন মাতৃভাষার পরেই, সেই ভাষার একটি কবিরও পরিচয় একজনও জানে কি না সন্দেহ...... বাঙালী কবিরা তুরস্কের সাহিত্য জানে, হাঙ্গেরির লেখকদের জানে, বুলগেরিয়ার সাহিত্য আন্দোলন জানে, আর হিন্দি কবি বললে ওই অমিতাভ বচ্চনের বাপের মধুশালাতেই আটকে থাকে...... কেউ আবার গালীব আওড়ে তাকে হিন্দি সাহিত্য নাম দেওয়ার চেষ্টা করে......

    যাক গে দারুণ লাগলো ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ এসে পড়া ইন্দ্রনীলের ইন্টারভিয়ু...... এইধরণের কাজই সবচেয়ে প্রয়োজন এই মুহূর্তে অকারণ ফাঁপা তত্ত্ববাজির চেয়ে। চীয়ার্স শূন্যতাপাঙ্ক...... আচ্ছা ওয়েবে ম্যাগজিনটা পড়তে অসুবিধে হচ্ছে। সি এস এস বা কোডিং বোধহয় কিছু গণ্ডগোল আছে।

    উত্তরমুছুন
  3. আমি কবি ইন্দ্রনীলকে খুঁজছি। বিশেষ কথা হবে তার সঙ্গে. আমাকে নক করলে খুশি হব

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কবিতা বিষয়ক গদ্য : অনিন্দ্য রায়

ন্যূনতম কবিতা lighght শুধুমাত্র এই সাতটি অক্ষর লেখার জন্য কবিকে দেওয়া হল ৭৫০ ডলার। আজ নয়, গত শতকের ষাটের দশকের মাঝামাঝি। পৃথিবীর সব চে দামী শব্দ। আর বিতর্ক এখানেই। শব্দ? কী অর্থ এর? আবার যিনি লিখেলেন তিনি তো একেই বলছেন কবিতা, এই কটি অক্ষরসমষ্টিকে। তা প্রকাশিতও হচ্ছে, সংকলনে নির্বাচিত হচ্ছে। একটা সাদাপৃষ্ঠার মাঝখানে lighght এইটুকু ছাপা, এইটুকুই, একে বলে কবিতা ? ম্যানহাটন শহরে তখন শরৎকাল।  সালটা ১৯৬৫। সে এক সন্ধ্যা। বছর  বাইশের এক যুবক নিজের টাইপ রাইটারে  lighght এইটুকুই টাইপ করেন। কী এটা? বানান ভুল, হ্যাঁ,  light  শব্দটির মাঝে এই দুটি ব্যঞ্জনবর্ণকে ঢুকিয়ে দেওয়া, আর তাতেই নাকি  ব্যঞ্জনা । শিকাগো রিভিউ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় কবিতা হিসেবে। এবং তা স্থান পায় The American Literary Anthology-র দ্বিতীয় খণ্ডে, অবশ্যই কবিতা হিসেবে। এই সংকলন সম্পাদনা করেন National Endowment of the Arts(NEA) –এর পক্ষে George Plimpton। NBA-এর সিদ্ধান্ত মতো সংকলনটির প্রত্যেক কবিই পান ৭৫০ ডলার। সেই হিসেবে lighght-এর রচিয়তাও।  শিকাগো রিভিউ নিজে২৫০ ডলার রেখে দেয় আর বকিটা পেলেন কবি। ম...

পাগল পাঠক (কবিতার পাগলামি)

কবিতার তুমুল পাগলামি কাকে বলে সেটা অনেকেই জানেন। তবুও কবিতার সীমাহীন পাগলামির জন্য কবিতার সমস্ত পাগলরা ফেসবুক বা মুখবই এ সার্চ করুন "পাগল পাঠক" পেজটি। এই পেজটি পাগল কবিতা পাঠকের নিজস্ব দুনিয়া। বন্ধুরা যারা পেজটি লাইক করছেন তারা নিজের প্রিয় কবিদের কবিতা পোস্ট করুন। অনুরোধ নিজের কবিতা পোস্ট করবেন না। বিস্তারিত জানতে ফেসবুকে পেজে আমাদের পেজে যান।

গদ্য কবিতা : সুকান্ত দে

ডাব তুই হয়তো বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছিস। চুপিচুপি একটু গা ঘেষে দাঁড়াই। যাতে তুই একটু ঠেস দিতে পারিস। তোর ফাইল ব্যাগ একটু ধরি। তুই বলবি -- আ : হাত দুটো একটু ছড়াই, বলে সত্যিই ছড়িয়ে ...