বিরহ || সমর সেন
রজনীগন্ধারর আড়ালে কী যেন কাঁপে,
কী যেন কাঁপে
পাহাড়ের স্তব্ধ গভীরতায়।
তুমি এখনো এলে না।
সন্ধ্যা নেমে এল: পশ্চিমের করুণ আকাশ,
গন্ধে-ভরা হাওয়া,
আর পাতার মর্মর-ধ্বনি।
মশা || নিত্যানন্দ ঘোষ
জানলা খোলা পেয়ে ঢুকেছে
কাল সন্ধ্যায় কখন এসে মশা
অন্ধকারে মোমের আলোয় দেখি
সারা ঘরে ছড়ানো বিছানা
মশারির কোন জুড়ে রহস্য গুঞ্জন
ঘনিয়ে উঠেছে বারম্বার রাতভ'র
ঘুমে ঢুলুঢুলু চোখ নিয়ে তবু
বিছানায় জেগে ব'সে কাটিয়েছি কাল
রং || গৌতম মণ্ডল
এই তার শীর্ষদেশ
পুনরুত্থানে জেগে ওঠে বীজ
লম্ব হয়ে আসি এখানে
স্পর্শ করতে চাই কোলাহল
বৃষ্টিতে ধুয়ে যাওয়া স্তব্ধতারর রং
বৃদ্ধি || অমিয়কুমার সেনগুপ্ত
মানুষ বেড়েছে। তবে
ততোটা বাড়েনি।
তুলনায়
জঙ্গল বেড়েছে।
বেহুলা || মোহিনীমোহন গঙ্গোপাধ্যায়
জলে জল ছল্ ছল্ জলের বাঁশীতে
কি শুনে ভেলায় ভেসে সুন্দরী বেহুলা?
সুর যেন কেঁদে ওঠে কে কাকে বাঁচাই?
ভারতবর্ষে বাসরে সর্পাঘাতে মরে যাচ্ছে অজস্র লখাই।
বিষ পাথর নেই
ইন্দ্রের অমর বৃত্তে নগ্ন নৃত্যে বেহুলা বাঁচাবে কত প্রাণ?
দেবী || সঞ্জীব প্রামাণিক
শরীরভর্তি মাটি। চুলে জট। ভূতের সন্তান।
তার জন্য দিঘি কাটো। কাকচক্ষু। অতলবিতল।
স্নানে নামবার আগে দেবী কেঁদে চলেছেন
জন্মরং, মৃত্যুরঙে ভরে ওঠে বসন-অঞ্চল।
রাজার বাঁশি || জাহাঙ্গির আবেদিন
রাজবংশী মেয়ের শরীরে বাঁশি বাজাচ্ছেন রাজা
চাঁদের মুখ হয়ে চুম্বন করতে ছুটে যাচ্ছে সুর
জনপদ হয়ে জেগে ওঠে মধ্যরাত্রির ঘুম
রাতজাগা সাপ ফিরে যাচ্ছে
হাওয়ার স্ট্রেচার ১ || সুজিত পাত্র
এখানে জলের নীচে সাপ-লুডো
বিষণ্ণ হট্টনাগর, তোর দুয়ার মাড়াব না এ জন্মে
জন্মে পূর্ণিমা - নৈব নৈব, ম্যাচিসও নিষ্প্রভ
তিয়াসের মাকে বড্ড মনে আসে
হাসি || সুবীর সরকার
যতদিন বেঁচে থাকো ততদিন মুচকি হাসি
ভাঁজে ভাঁজে রৌদ্র। বাক্যটি দাঁড়িয়ে
থাকে।
'কোনঠে বা যান হেলিয়া দুলিয়া'
সাঁওতালি কবিতার চয়ন থেকে ৯ || মুহম্মদ মতিউল্লাহ্
তেঁতুল পল ঝমর ঝমর বাজে
বাড়ির পিছনে দোদুল দোলে
হায়, কত দিন আমি আর অবিবাহিতা থাকব
আর কত দিন দুলে বেড়াব অপেক্ষায়!
১২.১২.২০৩৯ || দেবাশিস সাহা
খবরে প্রকাশ, নক্ষত্রসংঘর্ষে
ধ্বংস হয়ে যাবে স্যাটেলাইট সংসার
সমস্ত মোবাইল বিকল,
অকেজো টিভি, রেডিয়ো ও মানুষ
ফুলের গন্ধে চালাচালি হবে কথা
পতঙ্গমাধ্যমে লেনদেন হবে প্রেম
নিরুপায় || প্রশান্ত সরকার
প্রতিটা ঘুমের পাশে
পড়ে থাকে, লবণের হ্রদ...
অথচ আমার আজও তেমন
সামর্থ নেই--
যে অনাদরে চুল বেঁধে দিই
চিঠি || অনিমেষ মণ্ডল
একটি ধূসর চিঠি ঠিকানাবিহীন
প্রতিদিন ভেসে আসে কুয়াশায়, নিহশব্দে
সমস্ত বিষাদ যেন শীর্ণ কোনো নৌকার ঢেউ
পুরোনো স্মৃতির ভিড়ে পাল তোলে মলিন অক্ষরে
বর্ণমালা ভেসে যায় নির্জন কোলাহলে...

বাহ।খুব সুন্দর।তবে রচনাকাল দিলে আরো ভালো হতো
উত্তরমুছুনবাহ্। ভালো লাগলো
উত্তরমুছুন