সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

তরুণ কবির সাক্ষাৎকার : শুভ্রা মুখার্জী

যা আমাদের সমৃদ্ধ করে সেটাই শিল্প : শুভ্রা মুখার্জী

(প্রথম দশকের তরুণ কবি শুভ্রা মুখার্জী র সাথে খোলামেলা আড্ডায় প্রথম দশকের আরেক তরুণ কবি শুভম চক্রবর্তী)




শুভম চক্রবর্তী : কবিতা লেখার শুরুটা কিভাবে ?

শুভ্রা মুখার্জী : কবিতা লেখার শুরুটা খুব হুট করেই ২০১৫ থেকে। এর আগে একটা পূর্বপ্রস্তুতি আর জেদের গল্প আছে, আর একটা মারাত্মক প্যাশান।  এসব থেকেই লেখার সূত্রপাত।

শুভম : বাঁকুড়ার প্রত্যন্ত গ্রাম শুশুনিয়া থেকে শিল্পশহর দুর্গাপুর হয়ে মহানগরের পেটে লীন হওয়া অভিযাত্রা কিভাবে বদলেছে কবিতাকে ?

শুভ্রা : প্রথমত আমার বাড়ি শুশুনিয়ার থেকেও বেশ কিছুটা দূরের একটি গ্রামে। সেখানে মাধ্যমিক অবধি কাটানো,তার পরবর্তী সময় কেটেছে দুর্গাপুর আর বর্ধমানে।কলকাতা আমাকে এখনও তেমন প্রভাবিত করতে পারে না। এত কোলাহলে আমি হারিয়ে যাই শুধু। লিখতে গেলেই শিল্পশহরের রাস্তায় বা বীরভূমের লালমাটিতে নিজেকে খুঁজে পাই।আর অবশ্যই শৈশব কাটানো আমার বাঁকুড়ার গ্রামের গন্ধে কিছুটা বুঁদ হয়ে থাকি।

শুভম : শিল্প কি ?

শুভ্রা : যা আমাদের সমৃদ্ধ করে সেটাই শিল্প। 

শুভম : কবি অংশুমান কর একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন --কবিতা হলো যৌনতাপ্রয়াস । আবার জিম মরিসন সম্ভাবনাময়তাকেই কবিতা বলেছেন। তুমি কিভাবে ভাবো ?

শুভ্রা : যাঁদের কথা উঠল তদের তুলনায় আমার মতামত দেওয়া বাতুলতা মাত্র। তবুও বলি,আমার মতে কবিতা ভীষণ তাৎক্ষনিক কিছু যাকে ঠিক কোনভাবেই ব্যাখ্যা করা যায় না।  

শুভম : মনীন্দ্র গুপ্ত-- দেবারতি মিত্র, শরৎকুমার মুখোপাধ্যায়--বিজয়া মুখোপাধ্যায় -- এর মতো কবিদম্পতি তোমরা,তুমি ও শূদ্রক উপাধ্যায় । কবিদাম্পত্যের কাব্যিক যাপন সাধারনোচিত না আলোকিত মায়ালোকের মতো ?

শুভ্রা : জীবনটা কবিতা নয় ভাই। নুন তেলের হিসেবটা বাস্তব জীবন। ওটাকে এড়িয়ে কাব্যিক যাপন একটা কল্পনার মত। 

শুভম : তোমার বই-এর নাম 'অ্যাসাইলাম কোলাজ" । বিমূর্ত ভাবনার সঙ্গে যৌনচেতনার অদ্ভুত সংঘাত পাই তাতে। কাব্যভাষা নির্মাণে সচেতন মনন সক্রিয় ছিল কি ? নাকি যাপনই নির্মাণ করেছে পথকে ?

শুভ্রা : "অ্যাসাইলাম কোলাজ"-কে আমি আমার একটা ফেজ মনে করি। অমনটা আর কখনও লিখতে পারব না হয়ত। যাপন-মনন আর বাস্তবের তীব্র সংঘাত এমন একটা মানসিক পরিস্থিতি দিয়েছিল যে প্রতিটা শব্দই বড্ড স্বতঃফূর্ত ভাবে এসেছিল। নিজেকে ছিঁড়েখুঁড়ে পাওয়া কবিতা।

শুভম : কবিতার এলেমেলো বিন্যাস।তুমুল চিত্রকল্প।বাঁধনহারা প্রাণ তোমার লেখাকে তোমার লেখা করেছে।প্রথম দশকের নিজস্ব স্বর দিয়েছে । কবিতার ধ্রুপদী প্রকরণ তোমায় কতটা টানে বা টানেনা ?

শুভ্রা : ক্ল্যাসিকাল বিষয়টা টানে খুবই টানে তবে নিজের কবিতায় ক্লাসিসিজম মনে হয় আনতে পারব না। আমি বড্ড বেশি কথা বলি আর তার প্রভাব মনে হয় লেখাতেও পড়ে,বড্ড বেশি হুড়মুড় করে লিখি। সংহত ভাবপ্রকাশকে শ্রদ্ধা করি তবুও আমি মেদহীন কবিতার জন্ম দিতে অক্ষম ভাই।

শুভম : "অর্ধেক তোমাতে আমি,অর্ধেক আমাতে আগ্রহি"- এই কাব্যিক দ্যোদুল্যমানতা কি যাপনেরও ?

শুভ্রা : হ্যাঁ,সে তো কিছুটা আছেই। স্থিতিশীল হতে পারি না। মানসিক অস্থিরতা স্বাভাবিকভাবেই প্রভাবিত করে ফেলে আমার লেখাকেও।

শুভম : শূন্য ও প্রথম দশকের কবিতার কোন মৌলিক পার্থক্য লক্ষ করো।যা দিয়ে দুটো দশককে আলাদা ভাবা যায় ?

শুভ্রা : ভাই এসব তো গবেষক বা সিনিয়র কবিদের উত্তর দেওয়া মানায়। তবু আমার অল্প পড়াশোনা আর ছোট্ট লেখার জীবনে যেটুকু নিজস্ব মনে হওয়া সেটুকু বলতে পারি। শূন্যের কবিতা কাটাছেঁড়া বা এক্সপিরিমেন্টের ট্রেন্ডটা প্রথমের মধ্যে অনেক কম।

শুভম : সত্তর বা নব্বই--এর কোন কোন কবির কবিতা তোমায় ভাবায়, থমকে দেয় ?

শুভ্রা : বিভাস রায়চৌধুরী, পিনাকী ঠাকুর, রাহুল পুরকায়স্থ, পূন্যশ্লোক দাশগুপ্ত, যশোধরা রায়চৌধুরী এরকম আরও অনেকেই আছেন বয়োজ্যেষ্ঠ দাদা দিদিরা যাদের লেখার মুগ্ধ পাঠক আমি। আর এই ছোট্ট জীবন কতকিছু এখনও পড়াই হল না। 

শুভম : লিটিল ম্যাগাজিন না ফেসবুক কোনটা কবিতার ছড়িয়ে পড়ার শ্রেষ্ঠ মাধ্যম ,তোমার মতে ? কেন ?

শুভ্রা : ফেসবুক। ভাই ফেসবুকে তাও পাঁচজন পড়বে আর এখনকার কবিদের যা মানসিকতা লিটিল ম্যাগাজিনে সবাই নিজের লেখাটা পড়ে পত্রিকাটা বন্ধ করে রেখে দেয়। 

শুভম : "মদ খেয়ে তো মাতাল হলো সবাই/কবিই শুধু নিজের জোরে মাতাল !" শঙ্খ ঘোষের এই অমোঘ পংক্তি স্বনির্মিত মত্ততার সময়ে কিভাবে আসে তোমার কাছে ? কোন দ্যোতনা নিয়ে ?

শুভ্রা : ভাই এটা নিয়ে বলতে গেলে অনেক অনেক কিছু বলে ফেলতে হয়। আমি নিজেও দেখেছি কবিতার এই প্যাশনটা কিভাবে বুঁদ করে দিতে পারে। আমি প্রশ্নটার উত্তর দেওয়ার আগে আট ন'বার লাইনদুটো বিড়বিড় করলাম। এই লাইনদুটোর ওপর আর কোনও কথা হয় কি?

শুভম : কবিতায় কি গল্প বলা যায় ? কাহিনি কবিতা সম্পর্কে তোমার মতামত কি ?

শুভ্রা : হ্যাঁ যায়। গল্প বলতে জানলে যে কবিতায় কত অপূর্ব গ্রন্থনা করা যায় তার প্রথম আলো তো আমরা রবীন্দ্রনাথের কাহিনী কবিতাগুলোর মধ্যে দেখেইছি। অদ্ভূত মায়ালোকের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া যায়।

শুভম : হাংরি,শ্রুতি,নীম,কৌরব,রৌরব ,নতুন কবিতা এইসব আন্দোলন কবিতাকে কতটা বদলেছে ? চিৎকার বা শীৎকার কি নিভিতির ক্ষতি করে ?

শুভ্রা : প্রতিটি সম্পর্কে আলাদা মতামত পরে কখনও দেব ভাই। তবে একদম নিজস্ব একট ছোট্ট মতামত দিতে পারি। আমাদের বাংলা কবিতার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ আন্দোলনই শেষ পর্যন্ত সঠিক পথে এগোয়নি। কিছুটা বিক্ষিপ্ত আর কিছুটা মূলস্রোত হারিয়ে ফেলা। 

শুভম : "তুমিও আমাকে বোকাচোদা বলে ডাকো/আমিও তোমাকে বোকাচোদা বলে ডাকি" -- এই সময়ের তরুণ-তরুণী কবিরা প্রত্যেকে প্রত্যেককে আড়ালে 'বোকাচোদা' সম্বোধন করে। কবিদের  মেরুদন্ড , স্বাভাবিক সৌজন্যবোধ হারিয়ে কি হারিয়ে যাচ্ছে, শুভ্রাদি ?

শুভ্রা : হ্যাঁ ভাই হারিয়েছে,বাস্তবিক অনেকখানি হারিয়েছে। সবথেকে খারাপ লাগে যাকে পেছনে খিস্তি দিই তারই গলা জড়িয়ে চুমু খেয়ে , ছবি তুলে অ্যাডভান্টেজ নিতে চাই। 

শুভম : তোমার প্রকাশন সংস্থা --"ইতিকথা"।অনেক তরুণ--তরুণীর প্রথম বই প্রকাশে উদ্যোগি হয়েছো তোমরা। কি স্বপ্ন দেখো সংস্থাকে নিয়ে ?

শুভ্রা : স্বপ্ন তো অনেককিছুই দেখি তবে জানিনা সামর্থ্য তার সাথে তাল মিলিয়ে কতখানি চলতে দেবে। তবুও বলি আমার কাছে ইতিকথা শুধু ব্যবসা নয়, প্যাশন। আমি চাই এর হাত ধরে সমস্ত তরুণ প্রতিভারা উঠে আসুক।

শুভম : শুভ্রাদি বিশেষ কোনো ঠকে যাওয়া,হেরে যাওয়া কি মনে পড়ে,যা তোমায় কবিতা পাইয়েছে ?

শুভ্রা : হুম। আছে অনেক ছোট ছোট হার আছে, কষ্ট পাওয়া আছে। এসব খুব নিজস্ব করে রেখে দিতে হয়, কবিতার সিন্দুক তো।

শুভম : এই সময়ের কবিদের লেখা পড়ো ? কার কার লেখা ভাবায়-মুগ্ধ করে ?

শুভ্রা : পড়ি পড়ি। প্রথমেই তোর নাম বলব ভাই। বাকি সবার লেখাই পড়ি।  ভালোও লাগে খুব। আমার কত ছোট ছোট ভাই বোনরা আছে কি দারুণ সবাই লেখে, দাদা -দিদিরা তো আছেই।

শুভম : বাংলাবাজারের প্রবীন কবিদের ছুকছুকানি একটু সময়সুযোগ পেলেই দাঁত-জিভ বের করে । অভিজ্ঞতা এরকম কিছু মনে পড়ায় ?

শুভ্রা : "পুরনো আমলের কবিকে দুঃখ দিও না সোনা।ব্যাটা ঈশ্বরকনা ও বিয়ারতুফান এক করে দেবে।চন্দ্রহাস লাজুকতায় তুলে রাখবে আলবাল ফিরিস্তির সুটকেস..."(শুভম চক্রবর্তী) 

আর কি কিছু বলা ঠিক হবে ভাই??

শুভম : পরজন্ম বলে যদি কিছু থাকে তখন কি করতে চাও ?

শুভ্রা : নাচটা শিখতে চাই খুব ভালো করে।


শুভ্রা মুখার্জী র কবিতাগুচ্ছ

হোলি গ্রেইল

খৃষ্ট জানালেন নদীতে পা ধুয়ে এসেছেন...
নরম জলছাপ ফেলে পাশে এসে বসলেন
আমার যাবতীয় পাপের জন্য এক গন্ডুস ঘুম সাপ্লাই করলেন
যাবতীয় পূন্যের জন্য আড়াই বছরের ধর্মীয় জীবন।

পোশাকি কারনেই বিমূর্ততা দেখি
টাইগ্রিসের জলে পোপের জামার হলদে সংকেত ভাসতে দেখে ভাবি
আমার ধর্মীয় জীবন ততখানি সুখকর নয়।

ঘুমের নিজস্ব একটা স্পন্দন আছে
একটা আইসোলেটেড অবয়বে জাস্ট একগন্ডুস ঘুম নামছে।

আমি সমস্ত পূন্যের বিনিময়ে শুধু দু'দশক ঘুম চুরি ঘুম চুরি খেলে নিতে চাই।
গল্পলেখক জানালেন খৃষ্ট ফিরে যাচ্ছেন খেজুর এবং ফাঁকা ইনভেলাপের দেশে।
দুখানা ফাঁকা গ্লাসে দফায় দফায় রেড ওয়াইন সংলাপ সাজাচ্ছে।

***

দৃশ্য অনুকল্প

গন্তব্য অবধি লেপটে ছিল একটিই ভাবনা:
মেয়েটি ঠিকমতো বাস পেয়েছিল?

কোনও আত্মীয়সুলভ নয়।
সাদা ও গোলাপী মেশানো দোপাট্টা হাওয়ায় ভাসিয়ে যে মেয়েটি দৌড়ে গেল নির্দিষ্ট বাসের পেছনে
তাকে দেখে আমার কোনও যৌনসুখও হয়নি।

বাসে ওটার প্রথম পা দানিতে কতখানি টলে গেল
অথবা একটা লেডিজ সিটে জায়গা পেলো বসার
এসব ভাবিনি আর।

শুধু গন্তব্য অবধি শরীরে আটকে ছিল প্রশ্নবোধক :
মেয়েটি ঠিকমতো বাস পেয়েছিল?

***

এক একটি শীতকালীন সন্ধ্যে

এক একটি শীতকালীন সন্ধ্যে নিজস্ব মৌতাতে কেটে যায়
বেশিরভাগ শীতকালীন সন্ধ্যে নিয়মমাফিক কিছু কাগজের খসখসে কেটে যায়।
গত শীতে আমার সঙ্গী ছিলেন একজন
অর্ধ নির্বাণপ্রাপ্ত বৃদ্ধ
একজন অত্যন্ত লোভী জেলে
এবং এক সদ্য আবাদ শেখা যুবক।

ইদানিং শীতকাল জুড়ে এক সুন্দরী ডাইনির সাথে একটানা সাপলুড়ো খেলছি।
এখন শীতের কোনও নিজস্ব ফ্লেভার নেই
শুধু কিছু গন্ধ লেগে আছে কমলালেবুর খোসায়।

এক একটি শীতকালীন সন্ধ্যে চাদরের নীচে উষ্ণ সহবাসে কেটে গেলেও
আমি পরবর্তী অ্যালবামে ব্যক্তিগত তোমাকে রাখতে পারিনা।

***

অবশিষ্টাংশ

বড় একাকীত্ব মেহেরজান
কখনযে ব্যালকনি থেকে হাইড্রেনে গড়িয়ে গেছি তুমি জানবেও না।

বড় একাকীত্ব মেহেরজান
এই বাসভূমি সহজ নাতিশীতোষ্ণ
মাদুরাই সিল্কের খসখস
অথবা গ্যাসের দাউদাউ ছাড়া কিছুই কি রমনীয় হয়? 
সাড়ে চোদ্দবার কলমের অক্ষমতা মার্জনীয়
আরও সাড়ে চোদ্দবার নারীর শরীর লেখা।
মেহেরজান আমি নর্মাল আবেগ লিখতে গেলেই শারীরিক প্রত্যঙ্গ ভেসে আসে
মরা ঢেউয়ে অ্যাসিডিটি ভেসে আসে।
নাতিশীতোষ্ণ বাসভূমে নিজেকে ক্রান্তীয় শ্বাপদ মনে হয়।
সহজিয়া ক্লাসের উপাচার্য বলেছেন
আজীবন সাসপেনস ঝুলবে।
মাদুরাই সিল্কের মালিক বলেছেন 
পরবর্তী আঠারোটি শো তে শো স্টপার আমি নই --- ঝিঙ্কু মাধবীলতা।

বড় একাকীত্ব মেহেরজান
ক্রান্তদর্শী হওয়ার লক্ষ সুবাদে প্রান্তিক হতে হয়।
যোগ্যতমদের অডিটোরিয়াম থেকে কখন গড়িয়ে গেছি
তুমি জানতেও পারোনি।

***

মন্তব্যসমূহ

  1. আলোচনা ও কবিতাগুলি উভয়েই খুব ভালো।কবিকে শুভেচ্ছা

    উত্তরমুছুন
  2. আলোচনা ও কবিতাগুলি উভয়েই খুব ভালো।কবিকে শুভেচ্ছা

    উত্তরমুছুন
  3. প্রশ্নকর্তা আর উত্তরদাতা দুজনেরি বক্তব্যে মশগুল হবার উপাদান আছে. শুভ্রাকে আরও ধারালও হতে হবে. এর মতো করে কেন লিখবেন এরচাইতেও তীক্ষ্ণ কিছু আশা করব. তিনিটি কবিতাই মনোরম.

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কবিতা বিষয়ক গদ্য : অনিন্দ্য রায়

ন্যূনতম কবিতা lighght শুধুমাত্র এই সাতটি অক্ষর লেখার জন্য কবিকে দেওয়া হল ৭৫০ ডলার। আজ নয়, গত শতকের ষাটের দশকের মাঝামাঝি। পৃথিবীর সব চে দামী শব্দ। আর বিতর্ক এখানেই। শব্দ? কী অর্থ এর? আবার যিনি লিখেলেন তিনি তো একেই বলছেন কবিতা, এই কটি অক্ষরসমষ্টিকে। তা প্রকাশিতও হচ্ছে, সংকলনে নির্বাচিত হচ্ছে। একটা সাদাপৃষ্ঠার মাঝখানে lighght এইটুকু ছাপা, এইটুকুই, একে বলে কবিতা ? ম্যানহাটন শহরে তখন শরৎকাল।  সালটা ১৯৬৫। সে এক সন্ধ্যা। বছর  বাইশের এক যুবক নিজের টাইপ রাইটারে  lighght এইটুকুই টাইপ করেন। কী এটা? বানান ভুল, হ্যাঁ,  light  শব্দটির মাঝে এই দুটি ব্যঞ্জনবর্ণকে ঢুকিয়ে দেওয়া, আর তাতেই নাকি  ব্যঞ্জনা । শিকাগো রিভিউ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় কবিতা হিসেবে। এবং তা স্থান পায় The American Literary Anthology-র দ্বিতীয় খণ্ডে, অবশ্যই কবিতা হিসেবে। এই সংকলন সম্পাদনা করেন National Endowment of the Arts(NEA) –এর পক্ষে George Plimpton। NBA-এর সিদ্ধান্ত মতো সংকলনটির প্রত্যেক কবিই পান ৭৫০ ডলার। সেই হিসেবে lighght-এর রচিয়তাও।  শিকাগো রিভিউ নিজে২৫০ ডলার রেখে দেয় আর বকিটা পেলেন কবি। ম...

পাগল পাঠক (কবিতার পাগলামি)

কবিতার তুমুল পাগলামি কাকে বলে সেটা অনেকেই জানেন। তবুও কবিতার সীমাহীন পাগলামির জন্য কবিতার সমস্ত পাগলরা ফেসবুক বা মুখবই এ সার্চ করুন "পাগল পাঠক" পেজটি। এই পেজটি পাগল কবিতা পাঠকের নিজস্ব দুনিয়া। বন্ধুরা যারা পেজটি লাইক করছেন তারা নিজের প্রিয় কবিদের কবিতা পোস্ট করুন। অনুরোধ নিজের কবিতা পোস্ট করবেন না। বিস্তারিত জানতে ফেসবুকে পেজে আমাদের পেজে যান।

গদ্য কবিতা : সুকান্ত দে

ডাব তুই হয়তো বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছিস। চুপিচুপি একটু গা ঘেষে দাঁড়াই। যাতে তুই একটু ঠেস দিতে পারিস। তোর ফাইল ব্যাগ একটু ধরি। তুই বলবি -- আ : হাত দুটো একটু ছড়াই, বলে সত্যিই ছড়িয়ে ...