সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

গদ্য কবিতা : অভিজিৎ পাল

পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্রের উপর দাঁড়কাক বসে আছে


কেরিয়ার গড়ে তোলার পর আস্থাশীল হয়ে উঠছিলাম নিজের উপর। বুঝতে শিখছিলাম মহাকাব্যের পাঠ। সম্ভাষণ আর সম্মানের থেকে কিছু বর্ণ মুছে নিচ্ছিলাম অজ্ঞাতেই। হে কৃষ্ণ, তুমি নব মহাভারতের প্রেক্ষাপটে উচ্চকন্ঠে আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলে সত্যিই একটা ধর্মরাজ্য তৈরী করে দেবে। আমরা একশো শতাংশ বিশ্বাস করেছিলাম তোমায়। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের আগে মেনে নিয়েছিলাম তোমার শর্তদের, তার গোপনে চলে বেড়ানো অভিসন্ধিদের। ভেবেছিলাম ধর্মরাজ্য যদি কেউ তৈরী করে দিতে পারে, তবে সে তুমি। আমরা কেরিয়ারের সার্টিফিকেট হাতে তখনও ঠিক ঠাক বুঝতে পারিনি তোমাদের আর আমাদের কাছে ধর্মরাজ্যের সংজ্ঞা সম্পূর্ণ পৃথক। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে আঠারো দিনের পর আজ উনিশে দাঁড়িয়ে আছি। তোমার আকাঙ্ক্ষিত ধর্মরাজ্য স্থাপন করতে চলেছ যাদবপতি। শুধু আমার হতদরিদ্র পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্রের উপর দাঁড়কাক বসে আছে, ওকে একটু উড়িয়ে দাও আগে...

কাশী বোস লেনে হেঁটে চলে আমাদের দ্বৈতজীবন


অনেক দিন পর আবার পথ চলা। কিছুই বদলায় নি আমার শহরে গত কয়েক বছরে। আলোর নীচে আলো, নীল-সাদার মেকাপ, বড় বড় তামাম হোডিং বসেছে শুধু। সেন্ট্রাল বা সূর্য সেন স্ট্রিটের গুমটি, ফুটপাত জুড়ে ঘুমিয়ে থাকা শিশুমুখ, কিছুই বদলায় নি। অল্পে অল্পে বদলেছি আমরা। শিখেছি মেকি হাসির ভদ্রতা দেখিয়ে কী করে মনে মনে বিরুদ্ধ বাক্য বলা সহজ। শিখেছি আরও অনেক কিছুই। হাত ধরে রাস্তা পার হওয়ার নির্ভরশীল না বলা কথাদের এখন আর বুঝতে অসুবিধা হয় না। সাপ্তাহিক নিয়মে কাশী বোস লেনে হেঁটে চলে আমাদের দ্বৈতজীবন। চক্ষুলজ্জা হারিয়ে দিচ্ছি অজানা সাহসে। ভালোবাসতে ভালোবাসতে আমরা পুনরায় পরস্পর নির্ভর হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখছি..

পর্ণমোচী

নীল আকাশের কোনো সীমারেখা নেই। কাঁটা তাঁরের বেড়া নেই দু'টো দেশ বরাবর। ভেদাভেদের ভেদরেখা নেই নতুন গম্যপথে। নেই ঢাকা কিম্বা কলকাতার আলাদা নামকরণ। আমাদের সব দৈনন্দিন কথাগুলো বেড়ে ওঠে গলির মোড়ে। জেহাদ ঘোষনা করে মুঠোয় চেপে। বুকের ভিতর আগুন জাগায় বৈপ্লবিক ক্ষুধায়। একটা হঠাৎ করে আমূল বদলানোর স্বপ্নকুচি জন্মায়। সময় জমিয়ে দেয় গাঙ্গেয় ব-দ্বীপের শরীরী পলি। শুধু অপমানের ভার বহন করতে থাকে অসময়ে.. থমকে যায় স্বপ্ন বদল যায় চাওয়াটা। মেনে নিতে শিখি প্রতিবন্ধকদের। আমাদের জন্য আনন্দ জমে ওঠে অন্ধকারে। মাটির উপর ইঁটের পাঁজা করে তুলি। যতটা পথে চলেছি আমরা দাগ কাটি। পতাকার প্রতি অঙ্গিকার করি ঐক্যতান সুরে। গাছের মতো বড় হয়ে উঠি সূর্যালোকের দিকে চেয়ে। শিকড় বেড়ে ওঠে গন্ডী দেওয়া টবের ভিতর। সব সম্পর্কের ঘোষণাহীন কথা বলতে বলতে। আমরা ঠিকঠাক পর্ণমোচী হয়ে যাই। নতুন কোনোও স্বভাব সিদ্ধতায় নতুন সমীকরণে..

মন্তব্যসমূহ

  1. সময় জমিয়ে দেয় গাঙ্গেয় ব-দ্বীপের শরীরী পলি। কথাটা ভাল লাগল।

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কবিতা বিষয়ক গদ্য : অনিন্দ্য রায়

ন্যূনতম কবিতা lighght শুধুমাত্র এই সাতটি অক্ষর লেখার জন্য কবিকে দেওয়া হল ৭৫০ ডলার। আজ নয়, গত শতকের ষাটের দশকের মাঝামাঝি। পৃথিবীর সব চে দামী শব্দ। আর বিতর্ক এখানেই। শব্দ? কী অর্থ এর? আবার যিনি লিখেলেন তিনি তো একেই বলছেন কবিতা, এই কটি অক্ষরসমষ্টিকে। তা প্রকাশিতও হচ্ছে, সংকলনে নির্বাচিত হচ্ছে। একটা সাদাপৃষ্ঠার মাঝখানে lighght এইটুকু ছাপা, এইটুকুই, একে বলে কবিতা ? ম্যানহাটন শহরে তখন শরৎকাল।  সালটা ১৯৬৫। সে এক সন্ধ্যা। বছর  বাইশের এক যুবক নিজের টাইপ রাইটারে  lighght এইটুকুই টাইপ করেন। কী এটা? বানান ভুল, হ্যাঁ,  light  শব্দটির মাঝে এই দুটি ব্যঞ্জনবর্ণকে ঢুকিয়ে দেওয়া, আর তাতেই নাকি  ব্যঞ্জনা । শিকাগো রিভিউ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় কবিতা হিসেবে। এবং তা স্থান পায় The American Literary Anthology-র দ্বিতীয় খণ্ডে, অবশ্যই কবিতা হিসেবে। এই সংকলন সম্পাদনা করেন National Endowment of the Arts(NEA) –এর পক্ষে George Plimpton। NBA-এর সিদ্ধান্ত মতো সংকলনটির প্রত্যেক কবিই পান ৭৫০ ডলার। সেই হিসেবে lighght-এর রচিয়তাও।  শিকাগো রিভিউ নিজে২৫০ ডলার রেখে দেয় আর বকিটা পেলেন কবি। ম...

পাগল পাঠক (কবিতার পাগলামি)

কবিতার তুমুল পাগলামি কাকে বলে সেটা অনেকেই জানেন। তবুও কবিতার সীমাহীন পাগলামির জন্য কবিতার সমস্ত পাগলরা ফেসবুক বা মুখবই এ সার্চ করুন "পাগল পাঠক" পেজটি। এই পেজটি পাগল কবিতা পাঠকের নিজস্ব দুনিয়া। বন্ধুরা যারা পেজটি লাইক করছেন তারা নিজের প্রিয় কবিদের কবিতা পোস্ট করুন। অনুরোধ নিজের কবিতা পোস্ট করবেন না। বিস্তারিত জানতে ফেসবুকে পেজে আমাদের পেজে যান।

গদ্য কবিতা : সুকান্ত দে

ডাব তুই হয়তো বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছিস। চুপিচুপি একটু গা ঘেষে দাঁড়াই। যাতে তুই একটু ঠেস দিতে পারিস। তোর ফাইল ব্যাগ একটু ধরি। তুই বলবি -- আ : হাত দুটো একটু ছড়াই, বলে সত্যিই ছড়িয়ে ...